বিদেশি শিল্পপ্রতিষ্ঠানের বৈদেশিক ঋণে বড় ছাড়

আপডেট : ১৬ জুলাই ২০২৬, ১২:৩২ এএম

দেশে পরিচালিত শতভাগ বিদেশি মালিকানাধীন শিল্পপ্রতিষ্ঠানের জন্য বৈদেশিক ঋণ গ্রহণের নিয়ম আরও সহজ করেছে বাংলাদেশ ব্যাংক। এখন থেকে বিশেষায়িত অর্থনৈতিক অঞ্চল ও এর বাইরের বিদেশি মালিকানাধীন শিল্পপ্রতিষ্ঠানগুলো বিদেশে থাকা তাদের মূল কোম্পানি, সহযোগী প্রতিষ্ঠান বা বিদেশি শেয়ারহোল্ডারদের কাছ থেকে সহজ শর্তে স্বল্প, মধ্য ও দীর্ঘমেয়াদি ঋণ নিতে পারবে।

গতকাল বুধবার বাংলাদেশ ব্যাংকের বৈদেশিক বিনিয়োগ বিভাগ (এফইআইডি) পরিচালক মোহাম্মদ নবীর সই করা এক সার্কুলারে এ তথ্য জানানো হয়েছে।

বাংলাদেশ ব্যাংক জানিয়েছে, বিদেশি বিনিয়োগকারীদের অর্থায়ন সহজ করা এবং শিল্পপ্রতিষ্ঠানের অর্থের জোগান নিশ্চিত করতেই এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।

সার্কুলার অনুযায়ী, বিশেষায়িত অঞ্চলের বাইরে পরিচালিত শতভাগ বিদেশি মালিকানাধীন উৎপাদন ও সেবাখাতের শিল্পপ্রতিষ্ঠান বিদেশে থাকা মূল কোম্পানি, সহযোগী প্রতিষ্ঠান বা শেয়ারহোল্ডারদের কাছ থেকে প্রকৃত ব্যবসায়িক প্রয়োজনে এক বছরের কম মেয়াদের ঋণ নিতে পারবে। তবে বাণিজ্যভিত্তিক (ট্রেডিং) প্রতিষ্ঠান এ সুবিধার আওতায় থাকবে না।

কার্যকরী মূলধনের জন্য সুদবিহীন ঋণ নিতে বাংলাদেশ ব্যাংকের পূর্বানুমতি লাগবে না। একইভাবে ঋণের মূল অর্থ পরিশোধের ক্ষেত্রেও কেন্দ্রীয় ব্যাংকের অনুমোদনের প্রয়োজন হবে না। তবে এই সুদবিহীন ঋণ কাঁচামাল আমদানির জন্য ব্যবহার করা যাবে না।

এ ছাড়া বিদেশি মুদ্রায় সুদযুক্ত স্বল্পমেয়াদি ঋণও নেওয়া যাবে। এ ক্ষেত্রে সর্বোচ্চ বার্ষিক সুদের হার হবে ৩ শতাংশ। ঋণের মূল অর্থ ও সুদ মেয়াদ শেষে একবারে পরিশোধ করতে হবে। ঋণের মেয়াদ নবায়ন করা গেলেও প্রথম ঋণ গ্রহণের তারিখ থেকে মোট মেয়াদ তিন বছরের বেশি হবে না। এ ধরনের স্বল্পমেয়াদি ঋণ পরে মধ্যমেয়াদি বা দীর্ঘমেয়াদি ঋণে রূপান্তর করা যাবে না।

সার্কুলারে আরও বলা হয়েছে, এসব সুবিধা বিদেশি নিয়ন্ত্রিত শিল্পপ্রতিষ্ঠানের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য হবে। একই সঙ্গে অনুমোদিত ডিলার (এডি) ব্যাংকগুলোকে প্রতিটি ঋণ লেনদেনের তথ্য এক সপ্তাহের মধ্যে বাংলাদেশ ব্যাংকের বৈদেশিক বিনিয়োগ বিভাগে পাঠাতে হবে।

বিশেষায়িত অর্থনৈতিক অঞ্চল, রপ্তানি প্রক্রিয়াকরণ এলাকা, বেসরকারি রপ্তানি প্রক্রিয়াকরণ এলাকা এবং হাইটেক পার্কে পরিচালিত শতভাগ বিদেশি মালিকানাধীন শিল্পপ্রতিষ্ঠানও বিদেশে থাকা মূল কোম্পানি বা শেয়ারহোল্ডারদের কাছ থেকে স্বল্পমেয়াদি বৈদেশিক মুদ্রার ঋণ নিতে পারবে। সার্কুলারে মধ্যমেয়াদি (এক থেকে পাঁচ বছর) ও দীর্ঘমেয়াদি (পাঁচ বছরের বেশি) ঋণের নতুন নীতিমালাও নির্ধারণ করা হয়েছে। এসব ঋণের অর্থ কেবল মূলধনী ব্যয়ের জন্য ব্যবহার করা যাবে। যেমন যন্ত্রপাতি ও সরঞ্জাম ক্রয়, বৈধ সেবা গ্রহণ এবং কারখানা বা অবকাঠামো নির্মাণ।

মধ্যমেয়াদি সুদবিহীন ঋণের সর্বোচ্চ সীমা নির্ধারণ করা হয়েছে ৫ কোটি (৫০ মিলিয়ন) মার্কিন ডলার বা সমপরিমাণ বৈদেশিক মুদ্রা। আর সুদযুক্ত ঋণের সর্বোচ্চ সীমা ৫০ লাখ (৫ মিলিয়ন) মার্কিন ডলার, যেখানে বার্ষিক সুদের হার ৩ শতাংশের বেশি হবে না। পাঁচ মিলিয়ন ডলার পর্যন্ত ঋণ মেয়াদ শেষে এককালীন পরিশোধ করা যাবে এবং প্রয়োজনে এই ঋণ পরে দীর্ঘমেয়াদি ঋণে রূপান্তরের সুযোগ থাকবে।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত