‎নারী দলের ম্যানেজারের মদকান্ড আর ‘সহকারী কোচ’ ডুলি ‎বিতর্ক

আপডেট : ৩১ মে ২০২৬, ০১:৪২ পিএম

প্রায় প্রতি রাতেই মদ খেয়ে চূড় হয়ে থাকা, বারে যাওয়া এবং নিজের মতো করে চলাই যেন অভ্যাসে পরিণত হয়েছে নারী ফুটবল দলের ম্যানেজার খালিদ মাহমুদের। প্রত্যেক বিদেশ সফরেই এমন ঘটনা চোখ সওয়া দৃশ্য। তাই বিদেশে ম্যানেজারের উচ্ছৃংখল জীবন-যাপন, বেপরোয়া আচরনে অতিষ্ট সহকর্মীরা। অন্যদিকে অনেক নাটকের পর জার্মান বংশোদ্ভুত যুক্তরাস্ট্রের প্রধান কোচ টমাস ডুলির সহকারী কোচ হিসাবে মিডিয়াতে বিজ্ঞপ্তি প্রচার করা হয়েছে। যদিও পরে দু:খ প্রকাশ করা হয়েছে। পেশাদার বাংলাদেশ ফুটবল ফেডারেশনের (বাফুফে) এমন অপেশাদার কার্যক্রমে অতিষ্ট হয়ে পড়েছেন সংশ্লিষ্টরা। 

‎দেশের ফুটবলে নারীদের উত্থান খুব বেশি দিনের নয়। সম্প্রতি পুরুষ ফুটবলেও জাগরন তৈরী হয়েছে প্রবাসী হামজা চৌধুরী ও শমিত সোমরা আসার পর। এক সময় পুরুষ ও নারী ফুটবলে দলের সঙ্গে মিডিয়া ম্যানেজার হিসাবে পাঠানো হতো খালিদ মাহমুদ নওমিকে। কিন্তু মিডিয়া ম্যানেজার হিসাবে অন্য একজন নিয়োগ পাওয়ায় পরিবর্তন আসে দুই দলের ম্যানেজার পদেও। মেয়েদের দলের ম্যানেজার হিসাবে খালিদ মাহমুদ এবং পুরুষ দলের ম্যানেজার হিসাবে নির্ধারন করে দেওয়া হয় নতুন মিডিয়া ম্যানেজারকে। এরপরই বদলে যেতে থাকে খালিদ নওমির বিদেশ সফরের জীবন।

‎পরিচায় প্রকাশে অনিচ্ছুক এক প্রতেক্ষদর্শী মিডিয়াকর্মী জানান, 'মেয়েদের ২০২২ ও ২০২৪ সালে টানা দুটি সাফজয়ী দলের মিডিয়া ম্যানেজার ছিলেন নওমী। হিমালয়ের কোলঘেষা দেশটিতে ঠান্ডা পড়ে বিধায় সেখানে মদ সহজলভ্য। সেই সুযোগে আগের দুই আসরেও বেপরোয়া চলাফেরা দেখেছি নওমীর। ঢাকা থেকে যাওয়ার পথে ডিউটি ফ্রি থেকে মদ কেনা এবং আসার পথেও একই ঘটনা প্রত্যক্ষ করেছি। এছাড়া বিভিন্ন সময়ে পার্টিতো থাকতই সফরে। সেই পার্টিতে যোগ দিতেন অনেকেই। ফলে মাতাল অবস্থায় দলের যাবতীয় তথ্য ফাঁস করে দিতেন তিনি। যার ফলে ব্রিটিশ কোচ পিটার বাটলার ও ফুটবলারদের বিদ্রোহের মতো নেতিবাচক ঘটনাও ঘটেছে দেশের ফুটবলে।'

এসব অভিযোগ বাফুফের কানেও গেছে। যার ফলে তাকে মিডিয়া ম্যানেজার থেকে সরিয়ে দলের ম্যানেজার করা হয়। কিন্তু তবুও পাল্টায়নি নওমীর উচ্ছৃংখল জীনন। বরং আরও বেড়েছে। সূত্রে জানা গেছে, বিদেশ সফরে নতুন মিডিয়া ম্যানেজার সাঈদ হাসানকে সঙ্গী করেই এখন নিয়মিত পার্টি করেন তিনি।

‎হ্যাটট্রিক সাফ জয়ের মিশনে এখন ভারতের গোয়ায় রয়েছে বাংলাদেশ নারী ফুটবল দল। অথচ এমন গুরুত্বপূর্ণ মিশনেও আচরন বদলায়নি নওমীর। জানা গেছে, ব্যাংককে ১০ দিনের কন্ডিশনিং ক্যাম্প করে আসার পরে এয়ারপোর্টের ডিউটি ফ্রি শপ থেকে মদ কিনে গোয়ায় আসেন তিনি। তবে টিম হোটেলে মদের বোতল নিয়ে প্রবেশের সময় হোটেল কর্তৃপক্ষের বাধার মুখে পড়েছিলেন খালিদ। এ নিয়ে হোটেল কর্তৃপক্ষের সঙ্গে তর্কেও জড়ান।

‎পরেরবার বিপত্তি বাধে, যখন তিনি বাইরের দোকান থেকে মদ কিনে হোটেলে প্রবেশ করতে যান। হোটেলের নিয়ম ছিল, বাইরের মদ ভেতরে প্রবেশ করানো যাবে না। এ নিয়ে হোটেল কর্ত্তৃপক্ষের সঙ্গে বাগবিতন্ডায় জড়ান বাংলাদেশ ম্যানেজার। এ বিষয় নিয়ে কয়েকদিন আগে বাফুফের কাছে লিখিত অভিযোগ করেছেন সাউথ এশিয়ান ফুটবল ফেডারেশনের (সাফ) জেনারেল সেক্রেটারি পুরুষোত্তম কাট্টাল। এমন উচ্ছৃংখল আর বিতর্কিত কর্মকান্ড ঘটালেও বাফুফে তার বিরুদ্ধে কোন ব্যবস্থা নেয়নি।

‎বাফুফের সাধারণ সম্পাদক ইমরান হোসেন তুষার সাফের চিঠি পাওয়ার বিষয়টি মিডিয়াতে স্বীকার করেছেন। তার কথা, 'ঈদের এক বা দু'দিন আগে আমরা এরকম একটা চিঠি পেয়েছি এবং বিষয়টিকে গুরুত্বসহকারে দেখছি। শীর্ষ পর্যায়েও জানানো হয়েছে। আর অভিযুক্ত ব্যক্তিকে সতর্কও করে দেওয়া হয়েছে। আমরা অবশ্যই বিষয়টি খতিয়ে দেখবো।’ তুষার একই সঙ্গে সাফের অবস্থান নিয়েও প্রশ্ন তুলেছেন, 'মেডিকেল রুমের বিষয়টি নিয়ে দলের পক্ষ থেকে ম্যানেজার যখন লিখিত অভিযোগ দিয়েছে, তার জবাবে সাফ ম্যানেজারের বিরুদ্ধে এরকম অভিযোগ আমাদের জানিয়েছে। আমাদের কথা হলো, যখন এরকম ঘটনা ঘটেছে, তখন কেন সাফ চুপ থেকেছে। তখনই তাদের উচিত ছিল আমাদের জানানো।'

‎এদিকে সান মারিনোতে ফিফা প্রীতি ম্যাচের জন্য দল ঘোষণা করে বাফুফে। সেখানে প্রধান কোচ টমাস ডুলিকে সহকারী কোচ (অ্যাসিস্টেন কোচ) হিসাবে লেখা হয়। এ নিয়ে অবশ্য পরে সংশোধনী বিজ্ঞপ্তি দিয়ে দু:খ প্রকাশ করে মিডিয়া বিভাগ। বাফুফের সদস্য অভিজ্ঞ আমিরুল ইসলাম বাবুর মতো অভিজ্ঞ লোককে মিডিয়া কমিটির চেয়ারম্যান করার পরও তার কমিটি থেকে আসা এমন ভুলকে কিভাবে সহ্য করে বাফুফে, তা কারো বোধগম্য নয়।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত