শিরোপা জেতা সাফের আগের দুই আসরে সুপার কম্বিনেশন ছিল লাল সবুজের শিবিরে। সেই কম্বিনেশন দেখেই বুঝা গিয়েছিল বাংলাদেশের শক্তিমত্তা। কিন্তু সেই রামও নেই, অযোধ্যাও নেই। তাই হ্যাটট্রিক শিরোপা জিততে এসে ভারতের কাছে হেরে গ্রুপ রানার্সআপ হতে হয়েছে মারিয়া মান্দাদের।
রবিবার গোয়ার পন্ডিত জওহরলাল নেহেরু স্টেডিয়ামে অনুষ্ঠিত বি-গ্রুপে নিজেদের শেষ ম্যাচে স্বাগতিক ভারতের কাছে ৩-০ গোলে হেরেছে বাংলাদেশ। সেই সঙ্গে আগের দুই আসরের প্রতিশোধও নিয়েছে ভারত। ফলে ৩ জুন দিনের প্রথম সেমিফাইনাল ম্যাচে এ-গ্রুপের চ্যাম্পিয়ন দল শক্তিশালী নেপালের বিপক্ষে খেলবে লাল সবুজের মেয়েরা। আরেক সেমিফাইনালে লড়বে ভারত ও ভুটান।
নিয়মিত অধিনায়ক সাবিনা খাতুন নেই দলে। কোচ পিটার বাটলারের বিদ্রোহীদের দলে থাকায় বাদ পড়েছেন মাসুরা পারভীন, কৃষ্ণা রানী সরকার, সানজিদা আক্তার ও মাতসুশিমা সুমাইয়া। তাই শক্তিতো কমেছেই। কোচ বাটলার যতই বলুন না কেন আমরা ব্যালেন্সড টিম। আসলে যে তা নয় প্রমানিত হল ভারতের কাছে।
মালদ্বীপের বিপক্ষে ম্যাচে কষ্টার্জিত ৪-২ গোলের জয়ই দেখিয়ে দিয়েছে আগের তুলনায় কতটা দুর্বল এবং ছন্নছাড়া বাংলাদেশ। আনিকা রানিয় সিদ্দিকীকে উইঙ্গার পজিশন থেকে উঠিয়ে এনে ফরোয়ার্ড পজিশনে খেলিয়েছেন কোচ পিটার। যা পছন্দ হয়নি অনেকের। ফলে বাংলার মেসি খ্যাত ঋতুপর্ণাও পাননি গোল। গোলমুখে ১০টি শট নিলেও দেখা পাননি একটিরও। ভারতের বিপক্ষে ম্যাচে আনিকাও কিছু করতে পারেননি।চ্যাম্পিয়ন দল নয়, এ যেন ভিন্ন এক বাংলাদেশকেই দেখেছেন।
ভারতের বিপক্ষে একাদশে দুটি পরিবর্তন আনেন কোচ পিটার বাটলার। এই প্রথম একাদশে জায়গা হারান ডিফেন্ডার আফঈদা খন্দকার। আগের ম্যাচেও খেলেছেন, এশিয়ান কাপেও দলের অধিনায়ক ছিলেণ তিনি। তাঁর জায়গায় রক্ষণভাগ সামলানোর দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে সুরমা জান্নাতকে। অন্যদিকে, চোটের কারণে আগের ম্যাচে খেলতে না পারা মিডফিল্ডার মনিকা চাকমা সুস্থ হয়ে ভারতের বিপক্ষে গুরুত্বপূর্ণ এই ম্যাচে একাদশে ফেরেন। বাদ পড়েন উমেহলা মারমা। তবে শিউলি আজিমকে কালও শুরুর একাদশের বাইরেই রাখেন কোচ বাটলার।
কিক অফের একটু পরই আচমকা সুযোগ এলো আনিকা রানিয়া সিদ্দিকীর সামনে। তা, তিনি নষ্ট করলেন গোলকিপার বরাবর শট নিয়ে। এরপর সময় যত গড়াল, কখনও বাংলাদেশ, কখনও ভারত ছড়ি ঘোরাল। শেষ দিকে চাপ বাড়াল স্বাগতিকরা। এক পর্যায়ে গড়বড় করে ফেললেন কোহাতি কিসকু। পুরো ম্যাচে ভারতের বিপদ সীমানায় বেশ ক’টি আক্রমণ করলেও সফলতার মুখ দেখেননি লাল সবুজের মেয়েরা। ফরোয়ার্ডদের পায়ে ছিল না তেমন গতি। রক্ষণেও ছিল ঢিলেঢালা ভাব। লক্ষ্যহীন শটে পথভ্রস্ট বল। ভুল পাসিং। এই ফুটবল খেলে কি আর ম্যাচ জেতা যায়। এমন ম্যাচে কি আর এগিয়ে থাকা যায়। সেরা খেলোয়াড় মনিষাকে ছাড়াই খেলা ভারত এখন বি-গ্রুপের চ্যাম্পিয়ন।
সাফ নারী চ্যাম্পিয়নশিপে স্বাগতিক ভারত যে শক্ত প্রতিপক্ষ, তার প্রমাণ তারা দিল ম্যাচের প্রথমার্ধে। শুরুতে বাংলাদেশের রক্ষণভাগে ধাক্কা খেলেও সময় গড়ানোর সাথে সাথে তাদের আক্রমণভাগ আরও ধারালো হয়। তবে ৩৬ মিনিটে প্রথম এগিয়ে যায় ভারত। লং ক্রস ফেরাতে লাফিয়ে হেড করেন কোহাতি কিসকু, কিন্তু বল চলে যায় তার পিছেই পিয়ারি সাসার কাছে। ঠান্ডা মাথায় কোনাকুণি শটে মিলিকে পরাস্ত করেন তিনি (১-০)। ৬৮ মিনিটে ভারতের ফরোয়ার্ড লিন্ডা কম সার্তোর শট গোলকিপার মিলি আক্তার লাফিয়ে উঠে রুখে না দিলে ব্যবধান দ্বিগুন হত ভারতের। ৭৭ মিনিটে বল নিয়ে এগিয়ে যওয় লিন্ডা কম সার্তোকে বক্সে ফেলে দেন সুরমা জান্নাত। রেফারি ওম চকি নেপাল্টির নির্দেশ দেন। পেনাল্টি থেকে মিলিকে পরাস্ত করে ব্যবধান দ্বিগুন করেন লিন্ডা (২-১)। ম্যাচের অন্তিম সময়ে মালবিকার গোলে ৩-০ ব্যবধানে হার নিয়ে মাঠ ছাড়ে বাংলাদেশ। আগের দুই আসরে হারের (৩-০ ও ৩-১ গোলে) প্রতিশোধ নিল ভারত।
