গণমাধ্যমকর্মীদের পেশাগত দায়িত্ব পালনে কোনো ধরনের অনৈতিক বাধা, হয়রানি বা হস্তক্ষেপ বরদাশত করা হবে না বলে জানিয়েছেন তথ্য ও সম্প্রচারমন্ত্রী জহির উদ্দিন স্বপন। গতকাল সোমবার নিজ কার্যালয়ে সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে তিনি এ কথা বলেন।
সম্প্রতি রাজধানীর একটি হাসপাতালে ৬ শিশুর মৃত্যুর খবর সংগ্রহ করতে গেলে সাংবাদিকদের ওপর হামলার ঘটনা ঘটে। গতকাল এ বিষয়ে মন্ত্রীর দৃষ্টি আকর্ষণ করা হলে তিনি বলেন, সাংবাদিকদের নিরাপদ ও স্বাধীন কর্মপরিবেশ নিশ্চিত করতে সরকার ‘জিরো টলারেন্স’ নীতি অনুসরণ করবে। একটি স্বাধীন, দায়িত্বশীল ও স্বচ্ছ গণমাধ্যমব্যবস্থা গড়ে তোলাই সরকারের অন্যতম প্রধান লক্ষ্য।
বেসরকারি প্রতিষ্ঠানে সংবাদ সংগ্রহে গিয়ে কয়েকজন সাংবাদিকের ওপর হামলার ঘটনায় উদ্বেগ প্রকাশ করে মন্ত্রী বলেন, ঘটনার বিস্তারিত তথ্য সংগ্রহ করা হচ্ছে। প্রাথমিকভাবে এটি স্পষ্ট যে, সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানের ভেতরে সাংবাদিকদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার ক্ষেত্রে ঘাটতি ছিল।
তিনি বলেন, গণমাধ্যম সমাজে স্বচ্ছতা, জবাবদিহি ও সুশাসন প্রতিষ্ঠায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। তাই সাংবাদিকদের পেশাগত দায়িত্ব পালনে সহযোগিতা করা শুধু রাষ্ট্রের নয়, সমাজের প্রতিটি প্রতিষ্ঠানেরও দায়িত্ব।
টেলিভিশন ও লাইভ সাংবাদিকতার প্রসঙ্গ টেনে জহির উদ্দিন স্বপন বলেন, সরাসরি সম্প্রচারের ফলে তথ্য বিকৃতির সুযোগ কমে আসে এবং জনগণ দ্রুত ও নির্ভুল তথ্য পায়। তার মতে, স্বচ্ছ ও দায়িত্বশীল লাইভ সাংবাদিকতার বিস্তার সমাজকে আরও তথ্যসমৃদ্ধ ও জবাবদিহিমূলক করে তুলবে।
মন্ত্রী আরও বলেন, সম্প্রতি দেশের বিভিন্ন সংবাদমাধ্যমের সম্পাদক, মালিক ও সাংবাদিক নেতারা প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে সাক্ষাৎ করে বর্তমান সময়ে গণমাধ্যমের স্বাধীনভাবে কাজ করার পরিবেশ নিয়ে সন্তোষ প্রকাশ করেছেন। সরকারের পক্ষ থেকে সংবাদমাধ্যমের স্বাধীনতা ও পেশাগত মর্যাদা রক্ষায় প্রয়োজনীয় সহায়তা অব্যাহত থাকবে বলেও তিনি আশ্বস্ত করেন।
সাংবাদিকদের বিরুদ্ধে দায়ের হওয়া বিভিন্ন মামলার বিষয়ে তিনি বলেন, রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর উদ্ভূত পরিস্থিতিতে বিভিন্ন অভিযোগ ও মামলা সরকারের নজরে এসেছে। তবে প্রধানমন্ত্রীর সুস্পষ্ট নির্দেশনা রয়েছে নির্ভরযোগ্য তথ্য-প্রমাণ এবং সুনির্দিষ্ট অভিযোগ ছাড়া কোনো মূলধারার সাংবাদিককে হয়রানি বা মিথ্যা মামলার মুখোমুখি হতে দেওয়া হবে না। একই সঙ্গে কোনো অপরাধের প্রমাণ পাওয়া গেলে আইনের বিধান অনুযায়ী বিচারিক প্রক্রিয়া চলবে।
সরকারের প্রথম ১০০ দিনের কর্মকাণ্ডে দায়িত্বশীল ও ইতিবাচক ভূমিকা রাখার জন্য গণমাধ্যমের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন তথ্যমন্ত্রী। এ সময় তিনি পবিত্র ঈদুল আজহা উপলক্ষে সাংবাদিক সমাজসহ দেশবাসীর প্রতি আন্তরিক শুভেচ্ছা ও অভিনন্দন জানান।
