শেষ দেখে ফেলেছিলেন রাব্বি!

আপডেট : ১৭ অক্টোবর ২০১৮, ০৭:২৩ পিএম

সবারই কি কখনো না কখনো এমন হয় যেমন হয়েছিল ফজলে রাব্বির? ১৪ বছর আগে ফার্স্ট ক্লাস ক্যারিয়ার শুরু। মানে ২০০৪ সালে। মাঝে জীবন বাঁক নিয়েছে কতো। কিন্তু মূল লক্ষ্য যে জাতীয় দল সেখানেই সুযোগ মেলেনি। স্নাতকোত্তর শেষ করে চাকরিতে ঢুকেছেন। খেলা কমেছে। চাকরি ছেড়ে আবার খেলায় ফিরেছেন। আবার মনে হয়েছে কেন এসব? আর খেলা নয়। ক্যারিয়ার হোক অন্য কোথাও। ভাগ্যিস, খেলা ছাড়ার ভাবনা থেকে আবার শুরু করেই না মিলল পথের দেখা। দেখা স্বপ্নের সাথে। খেলা ছেড়ে দিলে কি আর জাতীয় দলে সুযোগ মিলত। হোক না বয়সটা এখন ৩০! এই বয়সে জাতীয় দলে পা রেখেও তো উদাহরণ হলো তৈরি।

কিন্তু চ্যালেঞ্জ তো বড়। এই যে সুযোগ তা অবশ্যই ঘরোয়া ক্রিকেটে ধারাবাহিকতা এবং ‘এ’ দলে পারফর্ম করার ফল। তবে সেটাও তো সাকিব আল হাসান ইনজুরিতে বলে দলে ভারসাম্য এনে দিতে। দেশের ইতিহাসের অন্যতম সেরা ব্যাটসম্যান সাকিবের জায়গায় খেলার চাপ নেওয়া তো আর চাট্টিখানি কথা নয়। সেই চাপ অবশ্য রাব্বি নিচ্ছেনও না। ‘রোলটা ঠিক আছে। কিন্তু সাকিব ভাই এর জায়গা পূরণ করা তো আর কারও পক্ষে সম্ভব না। আমি মূলত ব্যাটিং প্রধান অল রাউন্ডার। ব্যাটিংটা করতে ভালোবাসি। পাশাপাশি আমি দলের প্রয়োজনে বোলিং করতে পারি। যদি প্রয়োজন হয় তাহলে অবশ্যই এই রোলটা পালন করার চেষ্টা করব। তবে সাকিব ভাই এর জায়গা নেয়া না, আমি যেটা পারি সেটাই করার চেষ্টা করব।’ জিম্বাবুয়ের বিপক্ষে হোম সিরিজকে সামনে রেখে সোমবার বলছিলেন রাব্বি। এদিনই মিরপুরে শুরু হয়েছে জাতীয় দলের ক্যাম্প। যে দলে প্রথমবার ঢুকে পড়ে এখন আন্তর্জাতিক অভিষেকের অপেক্ষায় এই বাঁহাতি ব্যাটসম্যান।

রাব্বির গল্পের একটু পেছনে যাওয়া যাক। ২০০৪ সালে তার ফার্স্ট ক্লাস অভিষেক। খেলার সাথে সবসময়ই পড়ালেখা নিয়ে ছিলেন। মার্কেটিংয়ে অনার্স মাস্টার্স সেরে মোবাইল কোম্পানির কাজে ঢুকেছিলেন। ওটা ছেড়ে ফিরেছিলেন আবার। এরপর ২০১৪-১৫ মৌসুমের জাতীয় লিগকে শেষ ধরে ফেলেছিলেন। কিন্তু সেটাই হয়ে গেল তার ক্যারিয়ারের সেরা মৌসুম। ৫৯৩ রান করেছিলেন ৫৩.৯০ গড়ে। খেলার মজাটাও খুব পেয়ে গেলেন। বুঝলেন, পরিণত হতে শুরু করেছেন।আগের সমস্যা ছিল ভিন্ন। টেম্পারামেন্ট নিয়ে ঝামেলা। শট ছিল সবই। তাতে সাফল্য মিললেও তার ধারাবাহিকতা ছিল না। এখন নিয়ন্ত্রিত।

একবার ধারাবাহিকতা পেয়ে গেলে ওটাকে সিড়ি বানিয়ে উপরের দিকে ছুটে চলা। শেষ ঢাকা লিগের মৌসুমটা তাই রাব্বির জন্য হয়ে যায় ক্যারিয়ারের সেরা। ৭০৮ রান করেছিলেন ৪৭.২০ গড়ে। রাব্বির অবশ্য বিশ্বাস, ‘ফিটনেসটা যদি আরেকটু ভাল হত, তাহলে আমার রান ৭০০ থেকে ৮০০-৮৫০ রান হতে পারত। তখন আমার মাথায় এসেছে, যে করেই হোক নিজের ফিটনেসের মানে উন্নতি করতে হবে। আমার সৌভাগ্য, তখন আমাকে বাংলাদেশ এ দলে ডাকা হয়েছিল। সেখানে দুই আড়াই মাসের মত একটা ফিটনেস ক্যাম্প হয়েছে। ওই ক্যাম্পটা আমাকে খুব কাজে দিয়েছে। আমি খাওয়া দাওয়া নিয়ন্ত্রণ করার চেষ্টা করেছি। ওজন কমিয়েছি। বয়স নিয়ে যেই কথা হচ্ছে, আমি আসলে এসব নিয়ে ভাবি না। আমি যদি ফিট থাকি ও আমার পারফরম্যান্স থাকে তাহলে বয়স কোন বিষয় না।’

যে বয়সে বাংলাদেশের ক্রিকেটারদের ‘বুড়ো’ তকমা দিয়ে দেওয়া হয় সেই বয়সে রাব্বি জাতীয় দলে। তার ফিটনেস, ব্যাটিংয়ের পাশে টুকটাক বোলিং এবং দুর্দান্ত ফিল্ডিং নির্বাচকদের চোখে তাকে বানিয়ে দিয়েছে একটি পূর্ণাঙ্গ প্যাকেজ।কিন্তু ঘরোয়া ক্রিকেটের মারকুটে ব্যাটসম্যান আন্তর্জাতিকে নিজেকে প্রমাণ করতে পারবেন তো?

এমন প্রসঙ্গে সাদামাটা এক দর্শন আছে রাব্বির। সেটার সোজা মানে, যে ক্রিকেট খেলে তার এই উঠে আসা আন্তর্জাতিকেও প্রয়োগ দেখাতে চান সেটারই। নতুন কিছু করবেন না। আর প্রমাণ? নাহ। প্রমাণের কিছু নেই। ‘আমি এত বছর খেলেছি, আমার মোটামুটি প্রমাণ করা হয়ে গেছে ওই পর্যায়ে। এখানে এসে আমি নতুন করে কিছু করতে পারব না। আমি যেটা পারি, সেটাই করার চেষ্টা করব।’

তাহলে সেই পুরানোর পুনরাবৃত্তিতেই না হয় আন্তর্জাতিক অঙ্গনের সাফল্যের পাখা মেলুক রাব্বির স্বপ্নগুলো।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত