বুধবার, ১৯ জুন ২০২৪, ৫ আষাঢ় ১৪৩১
দেশ রূপান্তর

ফুটবল লিগ পিছিয়ে নির্বাচনের পরে

আপডেট : ১৮ নভেম্বর ২০১৮, ০৮:৪৫ পিএম

খেলা পেছানোর দুর্নাম নতুন নয় বাংলাদেশ ফুটবল ফেডারেশনের। যে কোনো ছুতোয় তারা সেটা করে আসছে দিনের পর দিন। আর এবার অনেক বড় এক বর্ম পেয়ে গেছেন ফুটবল কর্তারা- জাতীয় নির্বাচন। জাতির জন্য অতিব গুরুত্বপূর্ণ এই নির্বাচনকে সামনে এনে এবার বাংলাদেশ প্রিমিয়ার লিগ পেছানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছে বাফুফে। লিগের ভবিষ্যতের পাশে বড় প্রশ্নচিহ্ন একে দিয়ে বাফুফে তা আয়োজন করতে চায় নির্বাচন শেষ হওয়ার পর।

নতুন তফসিল অনুযায়ী একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন হওয়ার কথা আগামী ৩০ ডিসেম্বর। ৩০ নভেম্বর পেশাদার লিগের একাদশ আসর শুরুর পূর্বের সিদ্ধান্ত থেকে সরে এসেছে দেশের ফুটবলের সর্বোচ্চ সংস্থা।

বিকল্প এক সিদ্ধান্ত নিয়েছে বাফুফে, যা নিয়েও উঠতে পারে প্রশ্ন। লিগের পরিবর্তে সেই ৩০ নভেম্বর থেকেই স্বাধীনতা কাপ আয়োজন করবে তারা। একই বছর দু’টি স্বাধীনতা কাপ আসর!

শুধু তাই নয়, স্বাধীনতা কাপের গত আসরে খেলেছিলেন কেবলমাত্র স্থানীয় ফুটবলাররা। সুবাদে, খেলার সুযোগও বেড়ে গিয়েছিল তাদের। তখনই বাফুফের কর্মকর্তারা সিদ্ধান্ত নিয়েছিল এই আসর হবে বিদেশি বিবর্জিত। কিন্তু ‘গোল্ডফিশের’ মতো এবারও নিজেদের আগের সিদ্ধান্ত বেমালুম ভুলে গেছেন তারা। নতুন সিদ্ধান্ত অনুযায়ী স্বাধীনতা কাপ হবে ফেডারেশন কাপের আদলে, বিদেশিদের নিয়েই। রোববার পেশাদার লিগ কমিটির সভায় হয়েছে এমন সিদ্ধান্ত।

“নির্বাচনকালীন সময়ে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর নিয়ন্ত্রণ চলে যায় নির্বাচন কমিশনের কাছে। ফলে আটটি ভেন্যুতে নিরাপত্তার ব্যবস্থা করা এই সময়টায় সম্ভব হবে না। তাছাড়া ক্লাবগুলোও আবেদন করেছে পেছানোর। তবে নির্বাচন শেষে যত শিগগিরই সম্ভব আমরা লিগ শুরু করে দেবো” বলছিলেন বাফুফে কর্মকর্তা জাবের আল আনসারী।

পেশাদার ফুটবল ম্যানেজার জাবের লিগ পেছানোর ব্যাখ্যাটা এভাবে দিলেও বাতাস ভাসছে অন্যরকম কথা। আদতে বাফুফে এখনো লিগের স্পন্সরই ঠিক করতে পারেনি। আবার শোনা যাচ্ছে, নির্বাচনী প্রচার-প্রচারণায় ব্যাঘাত যাতে না ঘটে তাই লিগটাকেই নির্বাচনের পরে নিয়ে গিয়েছেন সদ্যই খুলনা-২ আসনের উপনির্বাচনে সংসদ সদস্য নির্বাচিত হওয়া পেশাদার লিগ কমিটির চেয়ারম্যান সালাম মুর্শেদী। একই আসনে আসন্ন নির্বাচনের জন্যও মনোনয়নপত্র নিয়েছেন সাবেক এই তারকা ফুটবলার। ফুটবল-ভাবনাটা হয়তো এই সময়টায় ভাবতে চাইছেন না নব্য এই রাজনীতিবিদ।

এদিকে স্বাধীনতা কাপে বিদেশিদের খেলানোর যুক্তিও দিয়েছেন জাবের- ‘ক্লাবগুলো আসলে চায় না এতটা দীর্ঘ সময় বিদেশিদের বসিয়ে রাখতে। তাতে ফিটনেসে ঘাটতি দেখা দেবে, খেলার ছন্দেও পতন ঘটবে।’ বিদেশি কোটা বাড়িয়ে আবারও স্থানীয়দের জন্য বরাদ্দ বাড়ানো হয়েছে সাইড বেঞ্চে। এখন স্বাধীনতা কাপে বিদেশি সংযুক্তির মতো সিদ্ধান্ত সেই বরাদ্দকে আরও পাকাপোক্তই করল।

সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত আলোচিত