যুক্তরাষ্ট্রের পুঁজিবাজার এক দশকের মধ্যে সর্বোচ্চ দরপতনের সপ্তাহ পার করল। চীনের সঙ্গে বাণিজ্যিক দ্বন্দ্ব, সুদহার বৃদ্ধি ও ফেডারেল সরকারের একাংশের কার্যক্রম বন্ধ হয়ে যাওয়ার ঝুঁকিতে গত সপ্তাহজুড়ে দরপতনে ছিল দেশটির পুঁজিবাজার। বিবিসির এক প্রতিবেদনে বলা হয়, বাজারের তিনটি সূচকই নিম্নমুখী। প্রযুক্তিভিত্তিক নাসডাকে সূচকের পতন হয়েছে ২০ শতাংশ। এর মধ্য দিয়ে ‘বিয়ার মার্কেটে’ পরিণত হয়েছে এই পুঁজিবাজার। যে পুঁজিবাজারে শেয়ারের জোরালো পতন হয়। এই পতনে লোকসান কমাতে বিনিয়োগকারীরা শেয়ার বিক্রি করে দেন। ডাও জোন্স ইন্ডাস্ট্রিয়াল অ্যাভারেজে ২০০৮ সালের পর সূচকের রেকর্ড পতন হয়েছে। এছাড়া সপ্তাহজুড়ে এসঅ্যান্ডপি ৫০০ সূচক কমেছে ৭ শতাংশ। ২০১১ সালের আগস্টের পর এটাই সর্বোচ্চ দরপতনের ঘটনা। সপ্তাহজুড়ে ডাও জোন্সের সূচক কমেছে ৬ দশমিক ৮ শতাংশ।
চলতি সপ্তাহের শুরুতে যুক্তরাষ্ট্রের কেন্দ্রীয় ব্যাংক ফেডারেল রিজার্ভ (ফেড) সুদহার বাড়িয়েছে। আগামী বছরও বাড়ানোর ইঙ্গিত দেওয়া হয়েছে। এছাড়া ২০১৯ সালের জন্য অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি ও পূর্বাভাস আড়াই শতাংশ থেকে কমিয়ে ২ দশমিক ৩ শতাংশ করেছে ফেড।
যুক্তরাজ্যভিত্তিক ফিন্যান্সিয়াল ডেরিভেটিভস ডিলার সিএমসি মার্কেটসের প্রধান বাজার বিশ্লেষক মাইকেল হিউসেন বলেন, চীন ও ইউরোঅঞ্চলের ব্যবসার গতি শ্লথ। অন্যদিকে যুক্তরাষ্ট্রের বেশ কিছু সূচক নমনীয়। এ অবস্থায় ফেডের সুদহার বৃদ্ধি ভবিষ্যতে আরো বাড়ার ইঙ্গিত দিচ্ছে। গত সপ্তাহজুড়ে দরপতনে ছিল প্রযুক্তি কোম্পানিগুলোয় শেয়ারদর। এ সময় ফেসবুক ও টুইটারের শেয়ারদর কমেছে ৬ শতাংশের বেশি। এছাড়া অ্যামাজনের কমেছে ৫ এবং অ্যাপল ও মাইক্রোসফটের ৩ শতাংশের বেশি।
