প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) কে এম নুরুল হুদার সঙ্গে দেখা করে নির্বাচন থেকে সরে দাঁড়ানোর ঘোষণা দিয়েছেন টাঙ্গাইল-৪ (কালীহাতি) আসনের স্বতন্ত্র প্রার্থী লতিফ সিদ্দিকী। গতকাল রোববার দুপুর ১২টার দিকে রাজধানীর আগারগাঁওয়ে নির্বাচন ভবনে সিইসির সঙ্গে সাক্ষাতের পর সাংবাদিকদের কাছে এ কথা জানান সাবেক মন্ত্রী ও আওয়ামী লীগের এই সাংসদ।
তিনি বলেন, ‘আমি আর নির্বাচন করছি না। কারণ মাঠ নির্বাচন করার মতো সমতল নয়। মাঠ এমনই সমতল যে পুলিশের বুটের তলে পড়তে হয়। আর সন্ত্রাসীদের লাঠির আঘাত খেতে হয়। আমার অফিস ভেঙে দিয়েছে। আমার নিরীহ লোকদেরকে প্রতিনিয়ত গ্রেপ্তার করছে। যারা সমর্থক তাদেরকে পুলিশ প্রতিনিয়ত টেলিফোন করে ভয় দেখাচ্ছে। এর পরে ইলেকশন করা যায় নাকি?’ লতিফ সিদ্দিকী আরো বলেন, ‘ইলেকশনটা তো বাণিজ্য নয়। আমি জীবনে অনেক ইলেকশন করেছি। ১৯৭০ সাল থেকে শুরু করেছি, আজকে ২০১৮ সাল। এরকম নির্বাচন আমার এলাকায় আমি জীবনেও দেখিনি। আমি আর শাজাহান সিরাজ ছিলাম দুই প্রতিপক্ষ। কিন্তু আমাদের মধ্যে এ ধরনের কোনো ঘটনা ঘটেনি।’
গত ১৬ ডিসেম্বর কালিহাতী উপজেলার গোহালিয়াবাড়ি এলাকায় নির্বাচনী জনসংযোগে গেলে লতিফ সিদ্দিকীর গাড়িবহরে হামলা চালিয়ে চারটি গাড়ি ভাঙচুর করা হয়। পরে তিনি এ ঘটনার বিচার চেয়ে টাঙ্গাইলের জেলা প্রশাসকের দপ্তরের সামনে অনশন শুরু করেন। একপর্যায়ে অসুস্থ হয়ে পড়লে তাকে প্রথমে টাঙ্গাইল ও পরে ঢাকায় এনে চিকিৎসা দেওয়া হয়।
এক প্রশ্নের জবাবে সাবেক এই আওয়ামী লীগ নেতা সাংবাদিকদের বলেন, ‘চিফ ইলেকশন কমিশনারের সঙ্গে দেখা করেছি। কিছুই চাইনি। আমি কিছু চাওয়ার লোক না। আমি বলে আসলাম, আপনি যে পরিচালনাটা করছেন, এই পরিচালনায় আপনি ব্যর্থ। এই পরিচালনায় নির্বাচন হতে পারে না। তাই আমি মাঠ ছেড়ে দাঁড়ালাম।’
আরেক প্রশ্নের জবাবে লতিফ বলেন, ‘এখন তো আর প্রত্যাহারের সুযোগ নেই। তাই আমি সরে দাঁড়ালাম। আমি নিরীহ মানুষকে আহত, নিহত হওয়ার সুযোগ কেন করে দেব? যারা আহত-নিহত হবে তাদের দায় আমাকে নিতে হবে। আমি সেই দায় নেব না। আমি এত বড় বীরপুরুষ হতে চাই না। এটা স্বাধীনতা যুদ্ধ না যে মুখোমুখি লড়াই করব। যার সঙ্গে লড়াই করব সে আমারই কর্মী কিংবা কর্মীর সন্তান। আমি কেন যাব এ ধরনের হানাহানিতে? যদি নির্বাচন কমিশন সুষ্ঠু পরিবেশ তৈরি করতে না পারে। আমি তাকে (সিইসি) বলে দিয়ে আসলাম, আপনি স্বীকার করুন আর না করুনÑ আপনি ব্যর্থ।’
কমিশনের পক্ষ থেকে কী বলা হলো জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘কিছুই বলা হয়নি। আমি তো তার (সিইসি) কাছে শুনতে চাইনি। আমি বলেছি, এক মিনিট আপনার সঙ্গে দেখা করে চিঠি দিয়ে চলে যাব।’
গাড়িবহরে হামলার পর সুনির্দিষ্ট অভিযোগ রয়েছে জানিয়ে কালিহাতী থানার ওসি প্রত্যাহারের দাবি করেছিলেন লতিফ সিদ্দিকী। এখনো তার প্রত্যাহার চান কি নাÑ জানতে চাইলে সাবেক এই আওয়ামী লীগ নেতা সাংবাদিকদের বলেন, ‘এখন আর কিছুই চাই না। এখন আর সময় আছে নাকি? আমি নিজেকেই মাঠ থেকে সরিয়ে নিয়েছি। কার কাছে কী চাইব? এদেশে চাইলেই কিছু হয় না, ঘটনাক্রমে ঘটে।’
