এনবিআর-রিহ্যাব একমত

নতুন বছর কমতে পারে ফ্ল্যাট রেজিস্ট্রেশন খরচ

আপডেট : ২৬ ডিসেম্বর ২০১৮, ১২:৩৮ এএম

আগামী বছরের শুরুতেই প্লট ও ফ্ল্যাটের রেজিস্ট্রেশন খরচ কমতে পারে। আর পাঁচ বছরের পুরোনো ফ্ল্যাট কেনাবেচায় সেগুলো রেজিস্ট্রেশনে কর-ভ্যাট প্রায় শূন্যের কাছে নেমে আসতে পারে। রাজধানীসহ সারা দেশে পুরোনো গাড়ি যেভাবে নাম মাত্র কর দিয়ে মালিকানার বদল হয়, সেভাবে পুরোনো ফ্ল্যাটের মালিকানা বদল হবে। 

আবাসন খাতের কর সমস্যা সমাধানে গঠিত জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর) ও আবাসন খাতের ব্যবসায়ীদের সংগঠন রিহ্যাব সদস্যদের নিয়ে গঠিত ওয়ার্কিং গ্রুপের বৈঠকে এসব সিদ্ধান্ত হয়েছে বলে জানা গেছে। ওই কমিটির সদস্য ও রিহ্যাবের প্রথম সহসভাপতি লিয়াকত আলী ভূঁইয়া গতকাল মঙ্গলবার দেশ রূপান্তরকে তা নিশ্চিত করেছেন।

লিয়াকত আলী ভূঁইয়া বলেন, গত ২৬ নভেম্বর এনবিআর-রিহ্যাবের ওয়ার্কিং কমিটির বৈঠক হয়েছে। সেখানে নতুন বছরের প্রথম থেকেই প্লট ও ফ্ল্যাটের রেজিস্ট্রেশনে বিদ্যমান নানা কর কমানোর বিষয়ে সিদ্ধান্ত হয়েছে। আশা করছি, নতুন বছরে ক্রেতারা কম খরচে প্লট-ফ্ল্যাট রেজিস্ট্রেশন করতে পারবেন।

তিনি বলেন, ‘বিদ্যমান নিয়ম অনুযায়ী পুরোনো ফ্ল্যাট নতুন করে রেজিস্ট্রেশন বা মালিকানা বদলের সময় নতুন ফ্ল্যাটের মতোই কর দিতে হয়। এতে পুরোনো ফ্ল্যাটের ক্রেতারা রেজিস্ট্রেশনে আগ্রহী হন না। কিন্তু গাড়ির ক্ষেত্রে এ ধরনের নিয়ম নেই। পুরোনো গাড়ি রেজিস্ট্রেশন করতে বাড়তি কোনো কর দিতে হয় না। আমরা এনবিআরকে বোঝাতে সক্ষম হয়েছি। এনবিআর বলেছে, আগামী বছরে পুরোনো ফ্ল্যাট কেনা-বেচায় আর নতুনের মতো কর নেবে না। ফলে সারা দেশে পুরোনো গাড়ি বিক্রির জন্য যে ধরনের হাট বা সেকেন্ডারি মার্কেট গড়ে উঠেছে, পুরোনো ফ্ল্যাটের ক্ষেত্রেও তাই হবে।’

২৬ নভেম্বরের ওয়ার্কিং গ্রুপের ওই সভায় সভাপতিত্ব করেন এনবিআরের মূসক নীতির সদস্য রেজাউল হাসান। সভায় রিহ্যাব সভাপতি আলমগীর শামসুল আলামিন, লিয়াকত আলী ভূঁইয়া, গৃহায়ন ও গণপূর্ত মন্ত্রণালয়ের যুগ্মসচিব ড. মনিরুল হুদা।

লিয়াকত আলী ভূঁইয়া জানান, প্রতি বছর বাজেটের আগে রিহ্যাব প্রস্তাব দিলেও সময়ের অভাবে সেগুলো এনবিআর মূল্যায়ন করতে পারে না। তাই বছরের পর বছর ধরে আবাসন খাতের সমস্যাও সমাধান হচ্ছে না। এ পরিপ্রেক্ষিতে এনবিআরের চেয়ারম্যানের নির্দেশে সমস্যা চিহ্নিত করে তা সমাধানে এনবিআর-রিহ্যাবের সদস্যদের নিয়ে ওয়ার্কিং গ্রুপ গঠন করা হয়। গ্রুপ দুটি সভা করেছে। 

রিহ্যাব সভাপতি আলমগীর শামসুল আলামিন রেজিস্ট্রেশন খরচ কমানোর ওপর জোর দিয়ে ওয়ার্কিং গ্রুপের সভায় বলেন, ব্যয় অনেক হওয়ায় ফ্ল্যাট-প্লটের ক্রেতারা রেজিস্ট্রেশন করার আগ্রহ হারিয়ে ফেলছেন। জমির মৌজা মূল্য বাড়ার কারণে জমির রেজিস্ট্রেশন ব্যয় বাড়ছে। ফলে সরকার এ খাত থেকে যথাযথ রাজস্ব প্রাপ্তি থেকে বঞ্চিত হচ্ছে। তিনি দ্রুত রেজিস্ট্রেশন খরচ কমানোর কথা বলেন।

পুরোনো ফ্ল্যাটের রেজিস্ট্রেশন ব্যয় কমানোর ওপর জোর দিয়ে তিনি বলেন, পুরোনো গাড়ি ক্রয়ে নতুন করে কর দিতে হয় না। অথচ পুরোনো ফ্ল্যাট বিক্রির ক্ষেত্রে নতুন ফ্ল্যাটের মতো কর দিতে হয়। এভাবে একই পণ্যের ওপর বারবার করারোপ কর আইনের পরিপন্থি। তাই পুরোনো ফ্ল্যাট বিক্রয়ের ওপর কর আদায় অযৌক্তিক।

কর কমিয়ে ফ্ল্যাটের সেকেন্ডারি বাজার চালু করতে পারলে আবাসন খাত এগিয়ে যাবে, নতুন করে কর্মসংস্থানও সৃষ্টি হবে। যেসব ফ্ল্যাট প্রথম বিক্রির পর ৫ বছরের মধ্যে আবার বিক্রি হবে, সেসব ফ্ল্যাট রেজিস্ট্রেশনের ক্ষেত্রে সাড়ে ৩ শতাংশ হারে করারোপ করার প্রস্তাব করেছেন তিনি।

রিহ্যাব জানায়, বর্তমানে প্লট ও ফ্ল্যাট রেজিস্ট্রেশনে ১৪-১৬ শতাংশ পর্যন্ত বিভিন্ন ধরনের কর দিতে হচ্ছে। এর মধ্যে গেইন ট্যাক্স ৪ শতাংশ, স্ট্যাম্প ফি ৩ শতাংশ, রেজিস্ট্রেশন ফি ২ শতাংশ, স্থানীয় সরকার কর ২ শতাংশ ও মূল্য সংযোজন কর (মূসক) ৩ শতাংশ।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত