ডিএসইর সেরা কোম্পানির সূচক কমেছে ১৯%

আপডেট : ২৬ ডিসেম্বর ২০১৮, ১২:৪১ এএম

ব্যাংকসহ প্রাতিষ্ঠানিক বিনিয়োগকারীদের সক্ষমতা কমে যাওয়ায় ও বিদেশিদের শেয়ার বিক্রির চাপে সব ধরনের সূচক কমেছে দেশের পুঁজিবাজারের। চলতি বছর ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জের (ডিএসই) প্রধান মূল্যসূচক কমেছে ১৫ শতাংশের বেশি। তবে এর চেয়েও বাজে অবস্থায় রয়েছে তালিকাভুক্ত সেরা ৩০ কোম্পানি নিয়ে তৈরি সূচক ডিএসই ৩০। চলতি বছর সূচকটি দর হারিয়েছে প্রায় ১৯ শতাংশ, দর কমেছে ছয়টি কোম্পানি ছাড়া সবগুলোর। সব ধরনের সূচকের পতনে বড় অংকের লোকসানে রয়েছেন বিনিয়োগকারীরা।

পুঁজিবাজারে তালিকাভুক্ত কোম্পানির ফ্রি-ফ্লোট (লেনদেনযোগ্য) শেয়ার বিবেচনায় স্টক এক্সচেঞ্জের সূচক গণনা করা হয়। এ হিসেবে সূচক পতনে সবচেয়ে বেশি দায় রয়েছে ব্যাংক খাতের। বাজার মূলধনের শীর্ষে থাকা এ খাতের ফ্রি-ফ্লোট শেয়ারও বেশি। চলতি বছর খাতটি প্রায় ২৩ শতাংশ দর হারিয়েছে।

পুঁজিবাজারে ৩০টি ব্যাংক তালিকাভুক্ত রয়েছে। এর মধ্যে আটটি ব্যাংকের শেয়ার রয়েছে অভিহিত মূল্যের কাছাকাছি।

এ ছাড়া মূল্যসূচকের পতনে ব্যাংকবহির্ভূত আর্থিক খাত, সিমেন্ট, টেলিযোগাযোগ, সেবা ও রিয়েল এস্টেট, প্রকৌশল ও ফার্মাসিউটিক্যালস খাতের প্রভাব ছিল।

২০১৬ ও ১৭ সালে পুঁজিবাজারে চাঙাভাব বজায় ছিল।

ব্যাংকের শেয়ারের ওপর নির্ভর করে ২০১৭ সালে ডিএসইর প্রধান মূল্যসূচক ডিএসইএক্স ২৪ শতাংশ বেড়ে ৬ হাজার ২৪৪ পয়েন্টে উন্নীত হয়, যা চলতি বছরের ২৪ ডিসেম্বর শেষে ৫ হাজার ৩০০ পয়েন্টে নামে। ২০১৭ সালে সেরা কোম্পানি নিয়ে তৈরি ব্লু-চিপ সূচকটি ২৬ শতাংশ বেড়ে ২ হাজার ২৮৩ পয়েন্টে দাঁড়ায়। এ তালিকার বেশিরভাগ শেয়ারের দর কমে যাওয়ায় ২৪ ডিসেম্বর এক হাজার ৮৫৪ পয়েন্টে নেমে আসে।

এ ছাড়া চলতি বছর ডিএসইর শরিয়াহ সূচকটি কমেছে প্রায় সাড়ে ১২ শতাংশ।

২০১৮ সালের শুরু থেকেই বাণিজ্যিক ব্যাংকগুলোতে নগদ অর্থের টানাটানিতে পুঁজিবাজারে বিনিয়োগের একটি উল্লেখযোগ্য অংশ প্রত্যাহার করে নেয় দেশের সবচেয়ে বড় প্রাতিষ্ঠানিক বিনিয়োগকারী হিসেবে পরিচিত খাতটি।

নির্বাচনী বছর হওয়াতে রাজনৈতিক অস্থিরতার আশঙ্কায় বিদেশিরাও প্রায় ৫০০ কোটি টাকার বিনিয়োগ প্রত্যাহার করে নেন। যদিও বাজারে এখনো বিদেশিদের প্রায় আট হাজার কোটি টাকার নিট বিনিয়োগ রয়েছে।

এ সময়ে স্টক ব্রোকাররা বাজারের সঙ্গে দূরত্বে থেকে পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করছেন।

চীনাদের কাছ থেকে ডিএসইর শেয়ার বিক্রির অর্থ পেয়েও ২৫০ ব্রোকারের ৫৫টিই ব্রোকার সে অর্থ পুঁজিবাজারে এখনই বিনিয়োগ করতে চান না। সাধারণ বিনিয়োগকারীরা শুরু থেকেই লোকসানে থাকায় লেনদেনে তাদের অংশগহণও কমে গেছে। এসব কারণেই বিক্রি চাপ বাড়ছে।

পর্যালোচনায় দেখা যায়, ২০১৭ সালে দরবৃদ্ধির দ্বিতীয় স্থানে ছিল টেলিযোগাযোগ খাত। গ্রামীণফোনের কল্যাণে সে সময় খাতটির দর ৬৮ শতাংশ বাড়ে।

তবে এ খাতের ফ্রি-ফ্লোট শেয়ার কম থাকায় মূল্যসূচকে প্রভাব তুলনামূলক কম ছিল। একক কোম্পানি হিসেবে গ্রামীণফোনের বাজার মূলধন সবচেয়ে বেশি হলেও ফ্রি-ফ্লোট শেয়ার রয়েছে মাত্র ১০ শতাংশ।

চলতি বছরে এ খাত বাজার মূলধন হারিয়েছে ১৫ হাজার ৬০ কোটি টাকা। এ সময়ে গ্রামীণফোন দর হারিয়েছে প্রায় ২৪ শতাংশ।

২০১৭ সালে মূল্যসূচক বাড়াতে অগ্রণী ভূমিকা রাখে ব্যাংক খাত। সে সময় এ খাতের বাজার মূলধন বেড়েছিল ৫৯ দশমিক ৪ শতাংশ। চলতি বছর খেলাপি ঋণ বেড়ে যাওয়ায় মুনাফা কমে গেছে খাতটির।

২০১৭ সালের ডিসেম্বর শেষে ব্যাংক খাতের বাজার মূলধন ছিল ৭৪ হাজার ৬০০ কোটি টাকা, যা চলতি বছরের ২৪ ডিসেম্বর শেষে ৫৬ হাজার ৯৮০ কোটি টাকায় নেমে এসেছে। এ হিসেবে গত এক বছরে শুধু ব্যাংক খাত ১৭ হাজার ৬২০ কোটি টাকা বাজার মূলধন হারিয়েছে।

২০১৭ সালে ব্যাংকবহির্ভূত আর্থিক প্রতিষ্ঠানের শেয়ার দর বাড়ে ৫২ দশমিক ৪ শতাংশ। চলতি বছরের ২৪ ডিসেম্বর পর্যন্ত এ খাতটি ২২ দশমিক ৪ শতাংশ দর হারিয়েছে।

এ ছাড়া গত বছর ফার্মাসিউটিক্যালস ও প্রকৌশল খাতের বাজার মূলধন বাড়লেও এ বছর তা কমেছে। আর সিমেন্ট খাতের দর  হ্রাসের তীব্রতা আগের বছরের তুলনায় আরো বেড়েছে। বিপরীতে আগের বছরের মতো এবারও দরবৃদ্ধির শীর্ষে রয়েছে পাটখাত। ২০১৭ সালে এ খাতটির দর বাড়ে ১০২ শতাংশ, যা এবার বেড়েছে ১৩৭ শতাংশ।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত