বৈশ্বিক অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি গত বছরের তুলনায় অনেক ধীরগতির। ২০১৭ সালের এই সময়েও অর্থনৈতিক খাতে যে প্রবৃদ্ধি লক্ষ করা গেছে তা এই বছরে অনুপস্থিত বলে ওয়াশিংটন পোস্টের এক প্রতিবেদনে বলা হয়।
অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধির ধীরগতির কারণে এরই মধ্যে যুক্তরাষ্ট্র একক পরিবারের জন্য কম আবাসন তৈরি করছে। জার্মান কারখানাগুলো ধুঁকছে, চীনের খুচরা ব্যবসা গত ১৫ বছরের মধ্যে সবচেয়ে বাজে অবস্থার মধ্য দিয়ে যাচ্ছে। ইউরোপের কিছু দেশ বাজেট ঘাটতি ও ভর্তুকির মধ্যে রাষ্ট্রীয় সেবা চালিয়ে যাচ্ছে।
যুক্তরাষ্ট্রে চলমান অচলাবস্থার মধ্যে পরিস্থিতি এমন যে, দেশটির শেয়ারবাজার সূচকে অনেক কোম্পানিরই শেয়ারের দাম বিশ শতাংশ কমেছে। গত সোমবার শেয়ারের মূল্য এতটাই নিম্নগতিতে ঠেকে যার সঙ্গে ১৯৩১ সালে ওয়ালস্ট্রিটের মন্দাবস্থার তুলনা করা চলে। দেশটির এই অর্থনৈতিক মন্দাবস্থার জন্য প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প বরাবরই কেন্দ্রীয় ব্যাংক ফেডারেল রিজার্ভের চেয়ারম্যান জেরোমে এইচ পাওয়েলকে দোষারোপ করছেন।
রাজনৈতিক অস্থিরতা শুধু যুক্তরাষ্ট্রেই নয়, অন্য বৃহৎ অর্থনীতির দেশগুলোতেও শুরু হয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রে অর্থনৈতিক অচলাবস্থা যেমন বাস্তবতা, তেমনি ফ্রান্সে ইয়েলো ভেস্ট আন্দোলনও অর্থনৈতিক অস্থিরতার কারণে সৃষ্ট। এসব কারণে দুই দেশেই বিনিয়োগকারীরা বিনিয়োগে উদ্বেগের মধ্য দিয়ে যাচ্ছে। গোটা বিশ্বের অর্থনৈতিক পরিস্থিতি এমন যে, অর্থনীতির অচলাবস্থা যতদিন চলবে, ততই দেশে দেশে অভ্যন্তরীণ রাজনৈতিক বিভক্তি বাড়বে। আগামীতে এই অচলাবস্থার কারণে বৃহৎ অর্থনীতির দেশগুলোর সরকারে পটপরিবর্তন হতে পারে বলে মনে করেন সেন্টার ফর নিউ আমেরিকান সিকিউরিটির সিনিয়র ফেলো পিটার হ্যারেল। বিবিসিকে তিনি বলেন, যুক্তরাষ্ট্রের মানুষ ক্রমশ বাজার এবং অর্থনীতির ধীরগতির কারণে অস্থির হয়ে উঠছে। একই অবস্থা বেইজিংয়ের ক্ষেত্রেও।
শিপিং ব্যবসায়ে যুক্তরাষ্ট্র এবং চীনের প্রতি বছর অনেক মুনাফা হয়। কিন্তু বর্তমান অবস্থা এমন যে, ইউরোপ এবং চীন ফেডেক্সকে জোরপূর্বক তাদের পরবর্তী বছরের আয় কমাতে বলছে। আর ফেডেক্স তার কর্মচারীদের স্বেচ্ছাশ্রমে হলেও কাজ করতে বলছে যাতে পরবর্তী বছরের মুনাফা (২৭৫ মিলিয়ন) অক্ষত থাকে। জার্মানিতে কার্বন নির্গমন ইস্যুতে দেশটির গাড়ি উৎপাদন আশঙ্কাজনক মাত্রায় কমেছে। এরমধ্যে বিএমডব্লিউর মুনাফা কমেছে ২৪ শতাংশ। আর গত ১১ মাসে দেশটির সার্বিক শিল্প উৎপাদন কমেছে সাত শতাংশ।
বিশ্লেষকরা বৈশ্বিক অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি কমতে থাকার অন্যতম কারণ হিসেবে যুক্তরাষ্ট্র-চীনের মধ্যকার বাণিজ্যযুদ্ধকে চিহ্নিত করছেন। আপাতত দুই দেশের মধ্যে বাণিজ্য যুদ্ধবিরতি চললেও এশিয়া এবং ইউরোপের শেয়ারবাজারে এর নেতিবাচক প্রভাব এখনো বিদ্যমান। এশিয়ার শেয়ারবাজারে রেকর্ড দরপতন চলছে যার সরাসরি প্রভাব গিয়ে নিকট ভবিষ্যতেই পড়বে অভ্যন্তরীণ বিনিয়োগে।
