ভোটাদের উদ্দেশে র্যাব মহাপরিচালক (ডিজি) বেনজীর আহমেদ বলেছেন, নির্ভয়ে ভোটকেন্দ্রে যাবেন। ভোট দিয়ে সম্ভাবনার বাংলাদেশ গড়বেন।
শুক্রবার দুপুর ১২টায় ঠাকুরগাঁও সদর উপজেলার জগন্নাথপুর সিঙ্গীয়া গ্রামে এক সম্প্রীতি সমাবেশে তিনি একথা বলেন।
র্যাব ডিজি বলেন, আজকে পৃথিবীর সবাইকে অবাক করে দেশ এগিয়ে যাচ্ছে। এসব সম্ভব হয়েছে রাষ্ট্র পরিচালনার ভালো কৌশল অনুসরণ করায়।
তিনি বলেন, আজ বাংলাদেশ দারিদ্রমুক্ত, ক্ষুধামুক্ত হতে চলেছে। এই গতিতে দেশ অগ্রসর হলে আগামী ৫ বছরে এই বাংলাদেশে কোনো গরীব পরিবারে শিশু জন্মগ্রহণ করবে না।
বেনজীর আহমেদ বলেন, মুক্তিযুদ্ধের সময় বঙ্গবন্ধুর নেতৃত্বে এই বাংলার হিন্দু, খ্রিস্টান, মুসলমান সবাই মিলে যুদ্ধ করেছি। আজ সারা দেশে উন্নয়নের ছোয়া। মঙ্গা পরাজিত হয়েছে।
এসময় র্যাব ডিজি বলেন, ‘কোনো রকম ভয় পাবেন না। আমরা আপনাদের সঙ্গে আছি। মোটা সাহার সম্পদ যারা নষ্ট করেছে, তাদের ঘৃণা জানাই। এ দেশের সব মানুষের সমান অধিকার আছে। অন্যায়ভাবে কেউ আপনাদের ক্ষতি করতে পারবে না। যদি কেউ ক্ষতিকরার চেষ্টা করে তাদের হাত ভেঙে দেয়া হবে।’
তিনি হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করে বলেন, ‘যারা নিরপরাধ, নিরীহ মানুষের ক্ষতি করতে চায়, রক্তপাত করতে চায়, এই প্রিয় বাংলাদেশে তাদের প্রয়োজন নাই। আমরা দেশে থেকে এই জঞ্জাল দূর করব। আমরা সকলে মিলে আধুনিক বাংলাদেশ বির্নিমাণে সকলে হাতে হাত রেখে সমৃদ্ধ বাংলাদেশ গড়ব।’
ভোটের সময় যেন কোনো সম্প্রদায়ের উপর কোনো প্রকার অরাজকতা না হয়, সেজন্য দেশব্যাপী র্যাবের পক্ষ থেকে বিশেষ ক্যাম্প স্থাপন করা হয়েছে বলেও জানান বেনজীর আহমেদ।
দিনাজপুর র্যাব-১৩ এর পরিচালক অ্যাডিশনাল ডিআইজি মোজাম্মেল হকের সভাপতিত্বে বক্তব্য দেন- পুলিশের রংপুর রেঞ্জের ডিআইজি দেবদাস ভট্টাচার্য, ঠাকুরগাঁও জেলা প্রশাসক কেএম কামরুজ্জামান সেলিম, পুলিশ সুপার মনিরুজ্জামান, জেলা পুজা উদযাপন কমিটির নেতা অরুনাংশু দত্ত টিটো।
সিঙ্গীয়া গ্রামের পুড়ে যাওয়া বাড়ি র্যাবের তত্ত্বাবধানে নতুন করে নির্মাণ করা হয়। বাড়ির চাবি মালিক মোটাই সাহার হাতে তুলে দেন র্যাব ডিজি। পরে তিনি ওই এলাকার দারিদ্র পরিবারের হাতে কম্বল তুলে দেন।
উল্লেখ্য, ২২ ডিসেম্বর শুক্রবার রাতে সদর উপজেলার জগন্নাথপুর সিঙ্গীয়া শাহপাড়ায় মটা সাহার বাড়িতে অগ্নিসংযোগ করে দুর্বৃত্তরা। এ ঘটনার পর ২৩ ডিসেম্বর থেকে দিনাজপুর র্যাব-১৩ এর একটি টিম ঘটনাস্থলে গিয়ে বাড়িটি পুর্ননির্মাণ ও এলাকায় নজরদারি শুরু করে।
