ডিসেম্বর মাস এলেই আমাদের স্মৃতি খুঁজে ফেরে ১৯৭১ মার্চ থেকে ডিসেম্বর। কী উত্তাল সময়, কী নারকীয় গণহত্যা আর মুক্তিকামী বাঙালির অবর্ণনীয় যন্ত্রণা! সে জন্যই আমরা বলি, এমন সুসময় আমাদের জীবনে আর আসবে না কখনো, আবার এমন দুঃসময়ের মুখোমুখিও আমরা হতে চাই না কখনো। ১৯৭১-এর ১৬ই ডিসেম্বর যখন বিজয়ের লাল সূর্য বাংলাদেশের আকাশে উদিত হলো, তখন আনন্দ-বেদনায় ভারাক্রান্ত আমাদের হৃদয়। আনন্দ-দেশ অবশেষে শত্রুমুক্ত হওয়ার কারণে আর বেদনা স্বজন হারানোর জন্য। আনন্দ-বেদনার এমন মিলিত অশ্রু কমই দেখা যায়। কী করে আমরা ভুলব সেসব দিনের কথা!
এই সেদিনই আমরা মুক্তিযুদ্ধে বিজয়ের ৪৭তম বার্ষিকী উদ্যাপন করলাম। আবার ৩০ ডিসেম্বর আরেকটি বিজয়ের প্রতীক্ষায় রয়েছি আমরা। এ বিজয় ১৯৭১-এর যুদ্ধাপরাধী ও বাংলাদেশের স্বাধীনতাবিরোধীদের বিরুদ্ধে মুক্তিযুদ্ধের পক্ষ শক্তির বিজয়। জামায়াতে ইসলামী চিহ্নিত যুদ্ধাপরাধী দল, তারা নির্বাচনের জন্য নিবন্ধিত নয়। কিন্তু তাদের দলীয় পরিচয় বিসর্জন দিয়ে (না গোপন করে?) তাদের ২২ জন নেতা প্রার্থী হয়েছেন ‘ধানের শীষ’ প্রতীক নিয়ে। বিএনপির সঙ্গে জামায়াতের বন্ধন অবিচ্ছেদ্য। কারণ তাদের আদর্শিক মিল। কিন্তু এবারের নির্বাচনে ঐক্যফ্রন্টের জোটে যুক্ত হয়েছেন এমন কিছু ব্যক্তি বা দল, যারা মুক্তিযুদ্ধে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছেন। তাই প্রশ্ন জাগে মনে, একজন মুক্তিযোদ্ধা কি চিরজীবন মুক্তিযোদ্ধা থাকতে পারেন? না আদর্শ বিসর্জন দিয়ে মুক্তিযুদ্ধবিরোধীদের কাতারে শামিল হয়ে যান।
ফিরে আসি একাত্তরে। ১৯৭১-এর ২৫শে মার্চ পাকিস্তানিদের নির্বিচার গণহত্যা শুরুর সঙ্গে সঙ্গেই দেশকে শক্রমুক্ত করার জন্য যে সশ্রস্ত্র সংগ্রাম শুরু হয়েছিল, বছরের শেষ নাগাদ তা একটা চূড়ান্ত পরিণতির দিকে এগিয়ে যাচ্ছে বলে সবার মনে একটা আশার সঞ্চার হয়েছিল। নভেম্বর মাসেই অবরুদ্ধ বাংলাদেশের অনেক এলাকা মুক্তাঞ্চলে পরিণত হয়েছিল।
৩ ডিসেম্বর অপরাহ্ণে পাকিস্তানি বিমানবাহিনী পাকিস্তানের পশ্চিমাঞ্চলের সীমান্তবর্তী ভারতের কয়েকটি বিমানঘাঁটিতে বোমাবর্ষণ করে এবং স্থলবাহিনীও একই ধরনের আক্রমণ চালায়। ভারতের প্রধানমন্ত্রী ইন্দিরা গান্ধী ৩ ডিসেম্বর গভীর রাতে প্রদত্ত এক বেতার ভাষণে এই আক্রমণের কথা জানিয়ে বলেন, ‘আজ বাংলাদেশের যুদ্ধ ভারতের যুদ্ধে পরিণত হয়েছে।’ ভারতে জরুরি অবস্থা ঘোষণা করা হয় এবং পাকিস্তানের সঙ্গে যুদ্ধের জন্য যাবতীয় পদক্ষেপ নেওয়া হয়। ভারতীয় পূর্বাঞ্চল কমান্ডের লে. জে. জগজিৎ সিং অরোরার অধিনায়কত্বে বাংলাদেশ-ভারত যৌথ কমান্ড ঘোষণা করা হলো। ফলে বাংলাদেশের মুক্তিবাহিনী আরো উদ্দীপিত হয় এবং মরণপণ সংগ্রামে ঝাঁপিয়ে পড়ে চূড়ান্ত বিজয়ের লক্ষ্যে।
ভারতীয় বাহিনী ও বাংলাদেশের মুক্তিবাহিনীর যৌথ আক্রমণের ফলে অবরুদ্ধ বাংলাদেশের বিভিন্ন অঞ্চলে হানাদার পাকিস্তানি বাহিনী পিছু হটতে শুরু করে। ভারত কিন্তু তখন পর্যন্ত স্বাধীন বাংলাদেশকে আনুষ্ঠানিক স্বীকৃতি দেয়নি। বাংলাদেশের অস্থায়ী রাষ্ট্রপতি সৈয়দ নজরুল ইসলাম ও প্রধানমন্ত্রী তাজউদ্দীন আহমদ ৪ ডিসেম্বর এক জরুরি পত্রে ভারতের প্রধানমন্ত্রীকে জানান, ‘পাকিস্তানের সর্বশেষ আক্রমণের সমুচিত জবাব প্রদানে ভারতীয় বাহিনী এবং বাংলাদেশের মুক্তিবাহিনীর মিলিত ভূমিকা সফলতর হতে পারে, যদি এই দুদেশের মধ্যে আনুষ্ঠানিক কূটনৈতিক সম্পর্ক প্রতিষ্ঠিত হয়।’
৫ ডিসেম্বরই মিত্রবাহিনীর বিমানবাহিনী ঢাকার আকাশ পুরোপুরি দখল করে নেয়। ঢাকার আকাশে বিমানের ডগ ফ্লাইট রাজধানীবাসী বাড়ির ছাদে উঠে উপভোগ করে এবং মিত্রবাহিনীর পাইলটদের হাত নেড়ে শুভেচ্ছা জানায়। পাকিস্তানি বাহিনীর প্রায় সমস্ত জঙ্গিবিমান বিধ্বস্ত হয়। ৬ ডিসেম্বর ভারতের প্রধানমন্ত্রী ভারতীয় লোকসভায় জানান, ভারত আনুষ্ঠানিকভাবে বাংলাদেশকে স্বীকৃতি প্রদানের সিদ্ধান্ত গ্রহণ করেছে। অবরুদ্ধ বাংলাদেশের সর্বত্র আনন্দের বন্যা বয়ে যায়, দেশবাসী এবার নিশ্চিত হয় তাদের দীর্ঘ অমানিশার অবসান হতে চলেছে। পরদিনই ভুটান বাংলাদেশকে স্বীকৃতি দেয়। ভুটানের এই ভূমিকার কথা আমরা প্রায় বিস্মৃত হয়ে গেছি। ওই দিনই রাতে আকাশবাণী থেকে ভারতীয় সেনাবাহিনীর প্রধান জেনারেল মানেক শ’ বাংলাদেশে দখলদার পাকিস্তানি বাহিনীকে আত্মসমর্পণের আহ্বান জানিয়ে বলেন, ‘তোমাদের বাঁচার কোনো পথ নেই। মুক্তিবাহিনী ও ভারতীয় বাহিনী বাংলাদেশকে মুক্ত করার জন্য তোমাদের ঘিরে রেখেছে। তোমরা যে নিষ্ঠুর আচরণ করেছো তারা তার প্রতিশোধ নেওয়ার জন্য প্রস্তুত হচ্ছে। অনেক দেরি হওয়ার আগেই তোমরা আত্মসমর্পণ করো। তোমাদের যুদ্ধ করার ক্ষমতা ও যুদ্ধাস্ত্রের শক্তি অকেজো হয়ে গেছে, এমনকি বাইরে থেকে বিমানের সাহায্য আসার সম্ভাবনাও নেই। একমাত্র পথ হচ্ছে সম্মিলিত বাহিনীর কাছে আত্মসমর্পণ করা।’
এরই মধ্যে ঢাকায় সান্ধ্য আইন জারি হয়েছে। সর্বত্র একটা শ্বাসরুদ্ধকর পরিস্থিতি। ৮ ডিসেম্বর থেকে দৈনিক পত্রিকাগুলোর প্রকাশনাও বন্ধ হয়ে যায়। পাকিস্তান বাহিনীকে আত্মসমর্পণের আহ্বান জানিয়ে বিভিন্ন ভাষায় মুদ্রিত প্রচারপত্র আকাশ থেকে ছড়িয়ে দেওয়া হলো। বারবার বেতারে প্রচারিত হতে থাকে ‘হাতিয়ার ডাল দো’ আহ্বান। মিত্রবাহিনীর বিমান হামলায় রেডিও পাকিস্তান, ঢাকার সম্প্রচার বন্ধ হয়ে যায়। বাংলাদেশের কয়েকটি অঞ্চলে পাকিস্তানি বাহিনী আত্মসমর্পণ করে, বাকিগুলোতে তুমুল লড়াই অব্যাহত থাকে। এখন মিত্রবাহিনী ও মুক্তিবাহিনীর লক্ষ্য, যত দ্রুত ঢাকা শত্রুমুক্ত করা। তাই চারদিক থেকে তারা ঢাকা অভিমুখে তাদের যাত্রা অব্যাহত রাখে।
১১ ডিসেম্বর মুক্ত যশোরের এক জনসভায় অস্থায়ী রাষ্ট্রপতি সৈয়দ নজরুল ইসলাম ও প্রধানমন্ত্রী তাজউদ্দীন আহমদ যুদ্ধাপরাধীদের বিচার ও মুক্তিযুদ্ধের বিরোধিতাকারী চারটি রাজনৈতিক দল মুসলিম লীগ, পিডিপি, জামায়াতে ইসলামী ও নেজামী ইসলামী নিষিদ্ধ করার সরকারি সিদ্ধান্তের কথা জানান। ১২ ডিসেম্বর ঢাকা সেনানিবাসে প্রাদেশিক সরকারের সামরিক উপদেষ্টা লে. জেনারেল রাও ফরমান আলীর সভাপতিত্বে রাজাকার, আলবদর, আলশামসের কেন্দ্রীয় অধিনায়কদের বৈঠকে বুদ্ধিজীবী হত্যার নীলনকশা চূড়ান্ত করা হয়। ১০ ডিসেম্বর থেকেই তালিকাভুক্ত বুদ্ধিজীবীদের সান্ধ্য আইনের মধ্যে বাড়ি বাড়ি থেকে তুলে আনা শুরু হয়েছিল। ১৪ই ডিসেম্বর দেশের প্রখ্যাত বুদ্ধিজীবী অধ্যাপক, লেখক, সাংবাদিক ও চিকিৎসককে নির্মমভাবে হত্যা করা হয়। ১৪ই ডিসেম্বর ছিল পূর্ব পাকিস্তান সরকারের শেষ দিন। গভর্নর ডা. এ এম মালিক ও তার মন্ত্রিসভার সদস্যরা সবাই একযোগে পদত্যাগ করেন। ‘নিরপেক্ষ জোন’ হিসেবে ঘোষিত হোটেল ইন্টারকন্টিনেন্টালে গিয়ে আশ্রয় নেন। ১৫ ডিসেম্বর জেনারেল মানেক শ’ ১৬ই ডিসেম্বর সকাল ৯টার মধ্যে পাকিস্তান বাহিনীকে শেষবারের মতো নির্দেশ দিয়ে বলেন, বিকেল ৫টা থেকে ভারতীয় বিমানবাহিনী কর্তৃক বোমাবর্ষণ বন্ধ রাখা হবে। পরদিন সকাল ৯টার মধ্যে আত্মসমর্পণ না করলে পুরোদমে বোমাবর্ষণ শুরু করা হবে বলে তিনি হুশিয়ারি উচ্চারণ করেন। পাকিস্তান বাহিনীর পূর্বাঞ্চলীয় অধিনায়ক লে. জেনারেল আবদুল্লাহ খান নিয়াজী উপায়ান্তর না দেখে মিত্রবাহিনীর কাছে বিনাশর্তে আত্মসমর্পণ করতে রাজি হলেন। সমাপ্ত হলো ৯ মাসের মুক্তিযুদ্ধ। বিজয়ের লালসূর্য বাংলাদেশের আকাশে উদিত হলো। এলো সেই মাহেন্দ্রক্ষণ। সকালেই স্থির হয়েছিল বিকেল ৫টায় রেসকোর্স ময়দানে (এখনকার সোহরাওয়ার্দী উদ্যান) আনুষ্ঠানিকভাবে পাকিস্তান বাহিনী আত্মসমর্পণ করবে। রেডিও-টেলিভিশন বন্ধ থাকলেও মুখে মুখে খবর সর্বত্র প্রচারিত হয়ে গেল। ঢাকা শহরের সব মানুষের গন্তব্য যেন এক জায়গায় রেসকোর্স ময়দান।
পাকিস্তান সেনাবাহিনীর মেজর সিদ্দিক সালিক তার বইতে এ ঘটনার বর্ণনা দিয়েছেন এভাবে : ‘বিকেলের শুরু থেকেই জেনারেল নিয়াজী গাড়ি করে ঢাকা বিমানবন্দরে গেলেন ভারতীয় পূর্বাঞ্চলীয় কমান্ডার অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট জেনারেল জগজিৎ সিং অরোরাকে অভ্যর্থনা জানানোর জন্য। অরোরা পতœীকে সঙ্গে নিয়ে হেলিকপ্টারে করে এলেন। এক বিরাটসংখ্যক বাঙালি জনতা ছুটে গেল তাদের মুক্তিদাতা ও তার পতœীকে মাল্যভূষিত করতে। নিয়াজী তাকে সামরিক কায়দায় স্যালুট দিলেন এবং করমর্দন করলেন। একটি হৃদয়স্পর্শী দৃশ্য। বিজয়ী এবং বিজিত দাঁড়িয়ে আছে প্রকাশ্যে বাঙালিদের সামনে আর বাঙালিরা অরোরার জন্য তাদের গভীর ভালোবাসা এবং নিয়াজীর জন্য তীব্র ঘৃণা প্রকাশে কোনোরূপ গোপনীয়তার আশ্রয় নিচ্ছে না। উচ্চকণ্ঠে চীৎকার ও সেøাগানের মধ্য দিয়ে তাদের গাড়ি রমনা রেসকোর্সে এলো। আত্মসমর্পণ অনুষ্ঠানের জন্য মঞ্চ তৈরি করা হয়। বিশাল ময়দানটি বাঙালি জনতার উদ্বেল আবেগে ভাসছিল। তারা প্রকাশ্যে একজন পশ্চিম পাকিস্তানি জেনারেলের দর্পচূর্ণের দৃশ্য দেখার জন্য উদগ্রীব হয়ে উঠেছিল। পাকিস্তান সেনাবাহিনীর একটি সুসজ্জিত দলকে হাজির করা হলো বিজীয়কে গার্ড অব অনার দেওয়ার জন্য। অন্যদিকে একটি ভারতীয় সেনাদল বিজিতের পাহারায় নিযুক্ত হলো। প্রায় দশ লাখ বাঙালি এবং কয়েক কুড়ি বিদেশি সংবাদপত্র ও সংবাদমাধ্যমের প্রতিনিধিদের সামনে লেফটেন্যান্ট জেনারেল অরোরা ও লেফটেন্যান্ট জেনারেল নিয়াজী আত্মসমর্পণের দলিলে স্বাক্ষর করলেন। ঢাকা দখলের নিদর্শনস্বরূপ জেনারেল নিয়াজী তার রিভলবার বের করে অরোরার হাতে তুলে দিলেন। রিভলবারের সঙ্গে তিনি পূর্ব পাকিস্তানকেও তুলে দিলেন।’ আত্মসমর্পণ অনুষ্ঠানে বাংলাদেশ সরকারের প্রতিনিধি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন মুক্তিবাহিনীর উপ-প্রধান সেনাপতি গ্রুপ ক্যাপ্টেন এ কে খোন্দকার।
সেদিন বিজয় দিবসকে অসম্পূর্ণ মনে হয়েছিল জাতির জনকের অনুপস্থিতিতে। বঙ্গবন্ধু তখনো পাকিস্তানের কারাগারে। তার ভাগ্যে কী ঘটবে তা নিয়ে নিশ্চিত করে কেউ কিছু বলতে পারে না। অনেক নাটকীয় ঘটনাপ্রবাহের মধ্য দিয়ে ৮ জানুয়ারি ১৯৭১ পাকিস্তান কর্তৃপক্ষ বঙ্গবন্ধুকে মুক্তি দিতে বাধ্য হয়। লন্ডন ও দিল্লি হয়ে ১০ জানুয়ারি বঙ্গবন্ধু স্বদেশের মাটিতে পা রাখলে পরিপূর্ণ হয় বাঙালির মুক্তি সংগ্রামের সত্যিকার বিজয়। বিজয় অর্জনের সাড়ে তিন বছরের মাথায়ই রচিত হলো বাঙালির ইতিহাসের সবচেয়ে কলঙ্কজনক অধ্যায়। সপরিবারে জাতির জনককে নির্মমভাবে হত্যা করা হলো। কেউ কোনো দিন স্বপ্নেও কল্পনা করেনি আমাদের মুক্তিদাতা, বাংলাদেশে স্থপতি আপন দেশের মানুষের হাতে নিহত হতে পারেন। তাদের হত্যাযজ্ঞ থেকে রেহাই পাননি বঙ্গবন্ধুর স্ত্রী, তিন ছেলে, দুই পুত্রবধূ। আর সবচেয়ে বেদনার কথা, আইন করে সে বিচারের পথ রুদ্ধ করে রাখা হয়েছিল দীর্ঘদিন। সরকার পরিবর্তনের ফলে বঙ্গবন্ধু হত্যাকান্ডের বিচার হয়েছে, আত্মস্বীকৃত খুনিদের বিরুদ্ধে রায় ঘোষিত হয়েছে, বিচারের রায় কার্যকরও হয়েছে। আশা করি ইতিহাসের জঘন্যতম হত্যাকান্ডের বিচারের মাধ্যমে বাঙালি কিছুটা হলেও কালিমামুক্ত হতে পেরেছে। যথাসময়ে এ হত্যাকান্ডের সুষ্ঠু বিচার হলে এ দেশে পরবর্তীকালের অনেক রাজনৈতিক হত্যা এড়ানো যেত।
১৯৭১-এ মুক্তিযুদ্ধে বিজয়ের মধ্য দিয়ে বাঙালি স্বপ্ন দেখেছিল সব সামাজিক অন্যায় ও বঞ্চনা থেকে মুক্তির। রাজনৈতিক বিজয়ের পরবর্তী ধাপ ছিল ক্ষুধা ও দারিদ্র্য থেকে মুক্তি, নিরক্ষরতা, ধর্মান্ধতা, সাম্প্রদায়িকতা, কুসংস্কার থেকে মুক্তি, রোগ-ব্যাধি ও আশ্রয়হীনতা থেকে মুক্তি। কাজটা সহজ নয় মোটেই। আমাদের প্রত্যাশা, ১৯৭১-এর সেই অবিনাশী চেতনা ফিরে আসুক আমাদের মাঝে এবং তা প্রবাহিত হোক নতুন প্রজন্মের মধ্যে, যার ওপর ভিত্তি করে মুক্তিযুদ্ধ পরিচালিত হয়েছিল। আমাদের বিশ্বাস, দেশপ্রেমে উদ্বুদ্ধ নতুন প্রজন্মই পারবে মুক্তিযুদ্ধের সেসব স্বপ্নকে বাস্তবে রূপায়িত করতে।
জামায়াতে ইসলামী চিহ্নিত যুদ্ধাপরাধী দল, তারা নির্বাচনের জন্য নিবন্ধিত নয়। কিন্তু তাদের দলীয় পরিচয় বিসর্জন দিয়ে (না গোপন করে?) তাদের ২২ জন নেতা প্রার্থী হয়েছেন ‘ধানের শীষ’ প্রতীক নিয়ে। বিএনপির সঙ্গে জামায়াতের বন্ধন অবিচ্ছেদ্য। কারণ তাদের আদর্শিক মিল। কিন্তু এবারের নির্বাচনে ঐক্যফ্রন্টের জোটে যুক্ত হয়েছেন এমন কিছু ব্যক্তি বা দল, যারা মুক্তিযুদ্ধে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছেন। তাই প্রশ্ন জাগে মনে, একজন মুক্তিযোদ্ধা কি চিরজীবন মুক্তিযোদ্ধা থাকতে পারেন?
লেখক
নাট্যব্যক্তিত্ব ও কলামনিস্ট
