আতঙ্ক নিয়ে ভোটকেন্দ্রে যাবেন পোলিং কর্মকর্তারা। সব প্রধান দলের অংশগ্রহণে নির্বাচন অনুষ্ঠিত হলেও সবার জন্য লেভেল প্লেয়িং ফিল্ড না থাকায় তাদের এ আতঙ্ক। তা ছাড়া নির্বাচনী দায়িত্ব বণ্টন নিয়েও পোলিং কর্মকর্তাদের মধ্যে অসন্তোষ রয়েছে। বিভিন্ন ভোটকেন্দ্রের দায়িত্বপ্রাপ্ত পোলিং কর্মকর্তাদের সঙ্গে কথা বলে এসব তথ্য জানা গেছে।
নাম প্রকাশ না করার শর্তে স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের একজন কর্মকর্তা দেশ রূপান্তরকে বলেন, ‘সরকারি চাকরি করি বলে নির্বাচনের দায়িত্ব পালন করতেই হবে। তাই যতই আতঙ্ক থাকুক ভোট নিতে যাওয়া ছাড়া কোনো উপায় নেই। টানা ১০ বছর সরকার পরিচালনার পর সব কিছুর ওপরই সরকারের একচ্ছত্র নিয়ন্ত্রণ। এই অবস্থায় সব দল নির্বাচনে এলেও বিরোধী রাজনৈতিক দলগুলো সমানভাবে প্রচার চালাতে পারছে না। সমানভাবে প্রচার চালানো তো দূরের কথা, বিরোধী প্রার্থীরা পোস্টার পর্যন্ত লাগাতে পারছেন না। প্রার্থীদের ওপর একের পর এক হামলা হচ্ছে। বিরোধী রাজনৈতিক দলের প্রতিটি নেতার বিরুদ্ধে গড়ে কতটি করে মামলা তা নিয়ে রীতিমতো গবেষণা করতে হবে।’ তিনি বলেন, ‘এই অবস্থায় সুযোগ পেলে তারা প্রতিহিংসাপরায়ণ হবে, এটাই স্বাভাবিক। কিন্তু তাদের প্রতিহিংসার রোষানলে যদি আমরা পড়ে যাই তাহলেই সাড়ে সর্বনাশ। শুনতে পাচ্ছি বিএনপির নেতাকর্মীরা বসে আছে নির্বাচনের দিন শেষ কামড় দেওয়ার জন্য। তাই যদি হয়, তাহলে চরম বিশৃঙ্খলার সৃষ্টি হবে। কে চায় এই বিশৃঙ্খলায় যেতে। পেটের দায়ে চাকরি করি। আর চাকরি করলে না যাওয়া ছাড়া কোনো বিকল্প পথ নেই।’
সমাজকল্যাণ মন্ত্রণালয়ের একজন কর্মকর্তা বলেন, ‘আমার বাসা মিরপুর আনসার ক্যাম্পে। আমার নির্বাচনী দায়িত্ব পড়েছে পুরান ঢাকায়। সকাল ৮টায় ভোট নেওয়া শুরু হবে। তাকে অবশ্যই ৬টায় ভোটকেন্দ্রে হাজির হতে হবে। এত সকালে আমি যাব কীভাবে? ওই দিন যানবাহন চলবে না। নির্বাচন কমিশন সব ধরনের যানবাহন চালানোর ওপর নিষেধাজ্ঞা আরোপ করেছে। শনিবার মধ্যরাত থেকে রবিবার মধ্য রাত পর্যন্ত চলবে এই অবস্থা। তাহলে আমরা নির্বাচনী কেন্দ্রে যাব কীভাবে?
