একাদশ সংসদ নির্বাচনে ১৭০ আসনে জয়ের লক্ষ্য রয়েছে ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগের। সেভাবেই দলের নীতিনির্ধারণী মহল প্রস্তুতি সম্পন্ন করেছে। জানা গেছে, আসনগুলো নিয়ে বিশেষভাবে কাজ করছেন নির্বাচন পরিচালনা কমিটির চেয়ারম্যান আওয়ামী লীগ সভাপতি শেখ হাসিনা ও কো-চেয়ারম্যান এইচ টি ইমাম। ওই আসনগুলোর তালিকা বিভিন্ন মহলে সরবরাহ করা হয়েছে। এ ব্যাপারে জানতে চাইলে এইচ টি ইমাম দেশ রূপান্তরের কাছে তা অস্বীকার করেন। দলটির নীতিনির্ধারণী পর্যায়ের কয়েকজন নেতা নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেন, যে ১৭০ আসনে জয়ের লক্ষ্য রয়েছে আওয়ামী লীগের সেগুলো নৌকার দুর্গ। এগুলোতে ভোটে আওয়ামী লীগের প্রার্থীরাই এগিয়ে রয়েছে। কোথাও কোথাও সমানে সমান আছে। তাই প্রচারে ও কৌশলে নির্বাচন পর্যন্ত এগিয়ে থাকতে পারলেই সুফল আসবে। ওই নেতারা বলেন, ৩০ ডিসেম্বরের নির্বাচনে ৩০০ আসনে মনোযোগ না দিয়ে টার্গেট করা আসনগুলোই বিশেষ নজরে আওয়ামী লীগের।
আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় নেতারা বলেন, ঢাকা বিভাগে জেলার সংখ্যা ১৩। এ বিভাগে সব জেলাতেই দলের অবস্থান শক্তিশালী। তাই সর্বোচ্চ আসন এ বিভাগ থেকেই চাই। ঢাকা বিভাগে আসন সংখ্যা ৭০। এখান থেকে অন্তত ৬০টি আসন প্রত্যাশা করছে আওয়ামী লীগ। বাকি সাত বিভাগ থেকে ১১০-১২০ আসন পেলেই সন্তুষ্ট ক্ষমতাসীনরা। আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় আরো দুই নেতা বলেন, দলের নেতাদের পর্যবেক্ষণ রাজধানীর উন্নয়ন দিয়ে এখানে ২০টি আসনই আওয়ামী লীগ প্রার্থীরা জিতবে। তবে দুই-চারটি আসন কম পেলেও সন্তুষ্ট দলের নীতিনির্ধারণী মহল। ঢাকা বিভাগের জেলা নারায়ণগঞ্জ, গাজীপুর, মানিকগঞ্জ, রাজবাড়ী, ফরিদপুর, শরীয়তপুর, গোপালগঞ্জ এগুলো আওয়ামী লীগের ঘাঁটি হিসেবে পরিচিত। তাই এই বিভাগ থেকে বেশি আসন প্রত্যাশা করছে ক্ষমতাসীনরা। এরপর ময়মনসিংহ বিভাগ থেকেও বেশি আসন চায় আওয়ামী লীগ। চারটি জেলা নিয়ে গঠিত এ বিভাগে আসন রয়েছে মোট ২৪টি। এখান থেকে ২০টি আসন টার্গেটে রয়েছে ক্ষমতাসীনদের।
অন্য ছয়টি বিভাগ থেকে আওয়ামী লীগের প্রত্যাশা হলো চট্টগ্রাম বিভাগে ১১টি জেলায় আসনসংখ্যা ৫৮টি। এখান থেকে ২০টি আসন ঘরে তুলে নিতে চায় তারা। রাজশাহী বিভাগে আট জেলায় ৩৯টি আসনের মধ্যে ১০টি, খুলনা বিভাগে ১০ জেলায় ৩৬ আসনের মধ্যে ১০টি, বরিশাল বিভাগে ছয় জেলার ২১টি আসনের মধ্যে ১০টি, সিলেট বিভাগ চার জেলার ১৯টি আসনের মধ্যে কমপক্ষে আটটি ও রংপুর বিভাগে আট জেলা ৩৩টি আসন থেকে কমপক্ষে ১৫টি আসন নিতে চায় আওয়ামী লীগ।
আওয়ামী লীগের নীতিনির্ধারণী সূত্রগুলো জানিয়েছে, চট্টগ্রাম ও রাজশাহী এ দুটি বিভাগকে বিএনপি অধ্যুষিত ধরে ওই দুটি বিভাগে কম আসন টার্গেট করেছে ক্ষমতাসীনরা। অন্য চার বিভাগেও কম আসন পাওয়ার প্রত্যাশা আওয়ামী লীগের। দেশি-বিদেশি নানা জরিপ আওয়ামী লীগকে আড়াইশো আসনের ওপরে এগিয়ে রাখলেও দলের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক আবদুর রহমান বলেন, জনগণের ভোটে ক্ষমতায় আসতে চাই আমরা। টানা তৃতীয়বারের মতো সরকার গঠন করতে যা আসন লাগে তাই চাই আমরা। আওয়ামী লীগের সভাপতিম-লীর সদস্য কাজী জাফরউল্যাহ বলেন, ১৭০-২০০ আসন বুঝি না। ক্ষমতায় আসতে যা লাগে দেশের জনগণ নিশ্চয়ই সেভাবে ভোট দিয়ে আওয়ামী লীগকে ক্ষমতায় আনবে।
এ প্রসঙ্গে আওয়ামী লীগের দুই সভাপতিম-লীর সদস্য নাম প্রকাশ না করার শর্তে দেশ রূপান্তরকে বলেন, সব আসনে সমান গুরুত্ব দিতে গেলে পিছিয়ে পড়তে হতে পারে। ১৭০ আসন লক্ষ্য নিয়ে আওয়ামী লীগ কাজ করছে কিন্তু বেশি আসনও পেতে পারি। যত প্রতিকূল অবস্থাই আসুক আমরা ১৭০ আসনে এগিয়ে আছি। ফলে এই আসনগুলোতে আমরা বিশেষভাবে যত্নশীল।
