একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের ভোটে অংশ নিতে গত কয়েক দিন ধরে রাজধানী ছেড়ে বাড়িতে গেছেন বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ। আজ রবিবার নিজ নিজ কেন্দ্রে ভোট দেবেন তারা। তবে ব্যতিক্রমও আছেন কেউ কেউ। তাদের কাছে ভোটের চেয়ে বড় জীবিকা কিংবা জীবনের প্রয়োজন। এমন একজন কিশোরগঞ্জের রিকশাচালক সুভাষ রায়। বাড়তি আয়ের আশায় ভোটের সময়ে ঢাকাতেই রয়ে গেছেন তিনি।
গতকাল শনিবার রাজধানীর মেরুল বাড্ডা এলাকায় কথা হয় সুভাষের সঙ্গে। ভোটের দিন ঢাকায় থাকার কারণ জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘ঢাকায় এহন থাকলে ইনকাম বেশি অইব। ভোটের দিন গাড়ি বন্ধ থাকব। মানুষজন ভোট দিতে যাইব। তহন রিকশায় চলব, তহন ভালো ইনকাম অইব।’
সুভাষের মতো আরেকজন মধ্য বাড্ডার চায়ের দোকানি বাহার। চায়ের দোকানে কথা বলতে গিয়ে জানা গেল, তিনি ভোট দিচ্ছেন না। জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘আমি নোয়াখালীর ভোটার। বাড়ির সবাই ভোট দিতে গেছে। আর আমি আছি ঢাকায়। সংসার চালাইতে তো টাকারও দরকার আছে। তাই আছি ঢাকাতে।’ তবে ভিন্ন কথা শোনান লাভলী আক্তার নামের এক গৃহকর্মী। তিনি একাধিক বাসায় কাজ করেন। ভোটের বিষয়ে লাভলী বলেন, ‘ভোট দেওয়ার লাইগা বাড়ি যামু। এজন্য সব বাড়ি থেইক্যা তিন দিনের ছুটি নিছি। সবাই ছুটি দিছে।’ ওই সময় কাকে ভোট দেবেন জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘ভোট নৌকাতেই দিব।’
চলতে চলতে কথা হয় দুজন ভোটারের সঙ্গে। মেরুল বাড্ডায় ওয়াসিম নামে এক যুবক বলেন, ‘এ সরকার দেশের অনেক উন্নয়ন করছে, আমি এ সরকারকেই ভোট দেব। কাল (আজ) সকাল সকাল কেন্দ্রে গিয়ে ভোট দেব আমি।’ তিনি আরো বলেন, ‘২০১৪ সাল থেকে এ আসনে আওয়ামী লীগের জয় হচ্ছে, এবারও হবে।’
নূর মোহাম্মদ নামে আরেক ভোটার বলেন, ‘উন্নয়ন তো হইছে সড়কে, আমাদের না। আমি আজও ব্যবসা করছি, ভোটের পরের দিনও ব্যবসা করব। তবে ভোট দিব।’ ঢাকায় আসন রয়েছে ২০টি। মোট ভোটার রয়েছে ৭৭ লাখ ৩১ হাজার ৫৮৮ জন।
