উৎসাহ-উদ্দীপনা ও আশা আশঙ্কার মধ্যদিয়ে আজ ভোটগ্রহণের দিন। গতকাল শনিবার বরিশালের ছয়টি নির্বাচনী এলাকায় ছিল সুনসান নীরবতা। বিচ্ছিন্ন ঘটনা ছাড়া বরিশালে কোথাও কোনো সহিংসতার খবর পাওয়া যায়নি। পরিবেশ ছিল অনেকটা শান্ত। পুরো জেলার আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি সন্তোষজনক। তারপরও ভোটারদের মধ্যে চাপা আশঙ্কা বয়েছে।
বরিশালের রিটার্নিং কর্মকর্তা ও জেলা প্রশাসক এস এম অজির রহমান বলেছেন, ‘বরিশালের ছয়টি আসনে নির্বাচনের পরিবেশ সুন্দর আছে। শান্তিপূর্ণ পরিবেশে ভোট অনুষ্ঠিত হবে। সব কেন্দ্রের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা হয়েছে। নির্বিঘেœ ভোটাররা ভোট দিতে পারবে।’
তিনি আরো বলেন, ‘আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে পুলিশ, র্যাবের পাশাপাশি ৬০০ সেনাসদস্য এবং ১৫ প্লাটুন বিজিবি দায়িত্ব পালন করবে।’
গতকাল দুপুর ২টা পর্যন্ত বরিশাল-৫ (সদর) আসনের বিভিন্ন এলাকা ঘুরে দেখা গেছে, সড়কে যানবাহন খুবই কম। সাধারণ মানুষের চলাচলও তেমন দেখা যায়নি। চারদিকে নীরব পরিবেশ। মহানগরের পুলিশি চৌকিগুলো ছিল অনেকটা ফাঁকা। অনেকটা জনশূন্য মহানগরের মতো অবস্থা হয়েছে।
তবে সরব ছিল সদর উপজেলা পরিষদ। দিনভর নির্বাচনী সরঞ্জাম নেওয়ার কাজে ব্যস্ত ছিলেন প্রিসাইডিং কর্মকর্তা, পুলিশ ও আনসার বাহিনীর সদস্যরা। এখানে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যদের উপস্থিতি ছিল লক্ষণীয়। এ ছাড়া নগর ও নির্বাচনী এলাকাগুলোতে সেনাবাহিনী ও বিজিবি সদস্যদের টহল দিতে দেখা গেছে।
বরিশাল-৫ সদর আসনে এমন নীরবতার মধ্যেও নানা অভিযোগ করেছেন ধানের শীষের প্রার্থী মজিবর রহমান সরোয়ার। গতকাল তিনি দেশ রূপান্তরকে বলেন, ‘প্রচার শুরুর পর থেকে যেভাবে গায়েবী মামলা ও নেতাকর্মীদের গ্রেপ্তার করা হয়েছে সে কারণে চারিদিকে একটা আতঙ্ক এবং থমথমে অবস্থা বিরাজ করছে। নগরে কোনো লোক নেই। শুক্রবারও আমার বাসার সামনে থেকে আমার এক এজেন্টকে গ্রেপ্তার করেছে। ভোটের আগেরদিনও এরকম অবস্থা চালালে ভোটের দিনের অবস্থা কী হবে জানি না। একটা উৎসবপূর্ণ নির্বাচনে এমন নীরবতা থাকে না। এতটা নীরবতা কোনোভাবেই কাম্য নয়। ভোট নিয়ে সাধারণ ভোটারদের মধ্যে শঙ্কা কাজ করছে। তবে নির্বাচনে দিন যদি মানুষ বের হতে পারে তাহলে চিত্র পাল্টে যাবে।’
গতকাল সকালে আমেরিকান দূতাবাসের প্রতিনিধিরা মজিবর রহমান সরোয়ারের বাসভবনে তার সঙ্গে দেখা করেছেন। তাদের কাছে তিনি নির্বাচনের সার্বিক পরিস্থিতি জানিয়েছেন। প্রতিনিধিদল নির্বাচন পর্যবেক্ষণ করতে আজ মাঠে থাকবে।
অন্যদিকে বিএনপি সমর্থিত ঐক্যজোট প্রার্থীদের অভিযোগ, গত বুধবার রাতে বরিশাল-১ (গৌরনদী-আগৈলঝাড়া) আসনে বিএনপি প্রার্থী জহির উদ্দিন স্বপনের বাড়ি থেকে ১৯ নেতাকর্মীকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। বরিশাল-২ (বানারীপাড়া-উজিরপুর) আসনের বিএনপি প্রার্থী এস সরফুদ্দিন আহম্মেদ সান্নুর ৩ এজেন্টকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। বরিশাল-৩ (বাবুগঞ্জ-মুলাদাদী) আসনে বিএনপি প্রার্থী জয়নুল আবেদীনের কর্মী সমর্থকরা গ্রেপ্তারের ভয়ে গা ঢাকা দিয়েছেন। তিনি অভিযোগ করেছেন, প্রচারণা শুরুর পর থেকেই পুরো এলাকায় ভীতিকর অবস্থা বিরাজ করছে। বরিশাল-৫ (সদর) আসনে গণগ্রেপ্তারের অংশ হিসেবে গত বৃহস্পতি ও শুক্রবারও নেতাকর্মীদের গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। গ্রেপ্তারের কারণে এজেন্টরা বসতে রাজি হচ্ছে না। বরিশাল-৬ (বাকেরগঞ্জ) বিএনপি প্রার্থী আবুল হোসেন খান এজেন্ট দেওয়া নিয়ে সংশয়ের মধ্যে আছেন।
বিএনপি প্রার্থীদের অভিযোগ থাকলেও এজেন্ট কিংবা নিরাপত্তা নিয়ে কোনো অভিযোগ নেই মহাজোট প্রার্থীদের। বরিশাল-৫ (সদর) আসনের আওয়ামী লীগ প্রার্থী কর্নেল (অব.) জাহিদ ফারুক শামীম বলেছেন, ‘নির্বাচনের পরিবেশ সুুষ্ঠু আছে। শান্তিপূর্ণ পরিবেশেই ভোট অনুষ্ঠিত হবে। কোনো ধরনের আশঙ্কা নেই। ভোটারদের নিরাপত্তায় রিটার্নিং কর্মকর্তা সব ব্যবস্থা করেছেন বলে আমাদের জানিয়েছেন।’ সাইফুর রহমান মিরণ, বরিশাল
