রোববার, ১৪ জুলাই ২০২৪, ৩০ আষাঢ় ১৪৩১
দেশ রূপান্তর

প্যারালাইজড রোগীরাও হাঁটছেন

আপডেট : ০১ জানুয়ারি ২০১৯, ০৬:০৩ পিএম

কেলি থমাসের বয়স ২৩, বাড়ি যুক্তরাষ্ট্রের ফ্লোরিডায়। ২০১৪ সালে ট্রাকে চাপার পর তার শরীর প্যারালাইজড বা অবশ হয়ে যায়। কেন্টাকির জেফ মারকুইসের বয়স ৩৫। ২০১১ সালের দিকে তিনি মনটানায় থাকতেন। এক বাইক দুর্ঘটনায় অবশ হয়ে যায় শরীর।

তারা কখনো ভাবতে পারেননি দাঁড়াতে বা হাঁটতে পারবেন। কারণ মেরুদণ্ডের সঙ্গে মস্তিষ্ক যোগাযোগ করতে পারছিল না।

সম্প্রতি সে অবস্থার পরিবর্তন ঘটেছে। কেলি ও জেফ আবারও নিজের পায়ে দাঁড়াতে পারছেন। এ অসম্ভব সম্ভব হওয়ার কারণ- তাদের আঘাতের স্থানে চিকিৎসকেরা একটি যন্ত্র স্থাপন করেছেন। যার মাধ্যমে মস্তিষ্ক থেকে নির্দেশ পায়ে পৌঁছে যাচ্ছে।

যন্ত্র বসানোর পর কেলি ও জেফকে বিশেষ ধরনের থেরাপি নিতে হয়েছে। যে কারণে স্পাইনাল কর্ড মস্তিষ্কের সঙ্গে যোগাযোগ ফিরে পেয়েছে।

এখন ওয়াকারের সাহায্যে নিজের বাড়ির চারপাশে ঘুরে বেড়াতে পারেন কেলি। এমনকি ঘোড়া চড়াও শুরু করেছেন। জেফ অবশ্য এত দূর অগ্রসর হতে পারেননি। তিনি দাঁড়াতে পারেন। এর পর থেকে রান্না-বাড়া শুরু করেছেন। তিনি পেশা জীবনে একজন শেফ ছিলেন, কিন্তু দুর্ঘটনার পর চাকরি ছাড়তে হয়।

এর আগে তাদের বাথরুমের যাওয়ার অভিজ্ঞতা ছিল বিব্রতকর। যা এখন লাঘব হয়েছে।

ইলেকট্রনিক যন্ত্রের সাহায্যে নিউরনের সঙ্গে পায়ের যোগাযোগ মানে আপনি ভাবছেন হাঁটবেন বা দাঁড়াবেন- তবে তা করতে পারা। বাস্তবেও তাই হচ্ছে।

দুই বছর আগে এ ধরনের ঘটনা শুধু সায়েন্স ফিকশন গল্প বা সিনেমায় ভাবা হতো। কেলি ও জেফ হলেন সেই তিনজন ব্যক্তির দুজন যারা এ ধরনের চিকিৎসা নিয়েছেন।

এ ঘটনাকে ২০১৮ সালের মেডিকেল সায়েন্সে বড় সাফল্য হিসেবে ধরা হচ্ছে। বলা হচ্ছে, মেরুদণ্ডের আঘাতের কারণে আগের মতো আর ভুগতে হবে না। জীবন একেবারেই বদলে যাবে না।

কেলি ও জেফের জীবন বদলে দেওয়ার পেছনে রয়েছে ইউনিভার্সিটি অব লুইসভিলের কেন্টাকি স্পাইনাল কর্ড ইনজুরি রিসার্চ সেন্টার। সেখানেই হয়েছে যাবতীয় গবেষণা।

নয় বছর ধরে গবেষণা চলছিল বলে জানান এ প্রকল্পের প্রধান গবেষক ড. ক্লাউডিয়া অ্যাঙ্গেলা। লুইসভিলের হিউম্যান লোকোমোশন রিসার্চ সেন্টারে এ সিনিয়র রির্সাচার পদেও আছেন তিনি। ক্লাউডিয়া জানান, তারা ভাবেননি আবিষ্কারটি এভাবে কাজ করবে। বর্তমানে তারা আরও অগ্রসর কিছু করার কথা ভাবছেন।

সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত আলোচিত