বৃহস্পতিবার, ২৫ জুলাই ২০২৪, ৯ শ্রাবণ ১৪৩১
দেশ রূপান্তর

মেয়াদ বাড়ছে না, ব্যয়ও নয় মান ঠিক রেখে নির্মিত হচ্ছে ৬১ সেতু

আপডেট : ০৩ জানুয়ারি ২০১৯, ১২:৩৮ এএম

প্রকল্পের মেয়াদ বাড়ানোর প্রয়োজন নেই, দরকার হয়নি বাড়তি বরাদ্দেরও। নেই কোােন অনিয়মের অভিযোগও। এমন ব্যতিক্রমী পন্থায় মানসম্মতভাবে এগিয়ে চলছে দেশের পশ্চিমাঞ্চলে নতুন ৬১টি সেতু নির্মাণ প্রকল্পের কাজ। কোটি টাকার এ প্রকল্প সুষ্ঠুভাবে বাস্তবায়ন সম্ভব হচ্ছে জাপানিদের সম্পৃক্ত থাকার কারণে।

সরকারের প্রকল্প তদারকি সংস্থা পরিকল্পনা কমিশনের বাস্তবায়ন পরিবীক্ষণ মূল্যায়ন বিভাগ (আইএমইডি) সরেজমিনে এ প্রকল্প বাস্তবায়ন পরিস্থিতি পর্যালোচনা করে মূল্যায়ন প্রতিবেদনে বলেছে, ‘প্রকল্প বাস্তবায়নের কাজ শেষ হলে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানকে প্রশংসাপত্র দেওয়া যেতে পারে।’

সংশ্লিষ্টরা জানান, যোগাযোগ ব্যবস্থার উন্নয়নে ২০১৫ সালের নভেম্বরে ‘ওয়েস্টার্ন বাংলাদেশ ব্রিজ ইমপ্রুভমেন্ট প্রজেক্ট’ নামে প্রকল্পের অনুমোদন দেয় সরকার। জাপানভিত্তিক সংস্থা জাইকার ঋণ সহায়তায় এ প্রকল্পের আওতায় ৬১টি সেতু নির্মাণের উদ্যোগ নেওয়া হয়। প্রকল্পের আওতায় রংপুরে ১৯টি, রাজশাহীতে ১৬টি, গোপালগঞ্জে সাতটি, খুলনায় নয়টি, বরিশালে নয়টি ও নরসিংদী অর্থনৈতিক অঞ্চলে একটি সেতু নির্মাণকাজ শুরু হয়।

পরিকল্পনা কমিশনের কর্মকর্তারা জানান, দুই হাজার ৯১১ কোটি টাকার এ প্রকল্পে সরকারি বরাদ্দ এক হাজার ছয় কোটি ও জাইকার অর্থায়ন এক হাজার ৯০৫ কোটি টাকা। সড়ক পরিবহন ও সেতু মন্ত্রণালয়ের আওতায় ২০১৫ সালের অক্টোবর থেকে ২০২০ এর জুন মেয়াদে প্রকল্পটি বাস্তবায়ন হচ্ছে।

প্রকল্প বাস্তবায়নে গত বছর সড়ক ও জনপথ অধিদপ্তর (সওজ) দেশীয় ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান মনিকো লিমিটেড, ডিএনকো লিমিটেড ও মীর আখতার কোমাইহেলটেক জয়েন্ট ভেঞ্চারের সঙ্গে চুক্তি স্বাক্ষর করে। প্রকল্পকে মোট ৫টি ভাগে ভাগ করে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানগুলো সেতু নির্মাণ করছে।

গত অক্টোবরে আইএমইডি’র দুজন ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা সরেজমিনে রূপপুর এলাকায় নির্মাণাধীন সেতুগুলো পরিদর্শন করে মূল্যায়ন প্রতিবেদন তৈরি করেছে। রংপুর  জোনের প্যাকেজ-৫ এর ১৯টি সেতু নির্মাণের কাজ পেয়েছে মোনাকো লিমিটেড।

ওই প্রতিবেদনে হয়েছে, ‘সেতু নির্মানের কাজ ভাল হয়েছে বলে মনে হয়েছে। কাজ শেষে পরীক্ষা-নিরীক্ষা করে ভালো হয়েছে মর্মে প্রশংসাপত্র দেওয়া যেতে পারে। এতে অন্যান্য ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান নির্ধারিত সময়ে যথাযথ মান বজায় রেখে প্রকল্পের কাজ সমাপ্ত করতে উৎসাহিত হবে।’

মূল্যায়ন প্রতিবেদন প্রণয়নের সঙ্গে সম্পৃক্ত আইএমইডির সহকারী পরিচালক মুহাম্মদ মিজানুর রহমান দেশ রূপান্তরকে বলেন, সাধারণত অবকাঠামো সংক্রান্ত প্রকল্পগুলোতে অনেক সমস্যা দেখা যায়। তবে এই প্রকল্প পরিদর্শন করে আমি অনেকটাই খুশি। কারণ প্রকল্প বাস্তবায়নে গুণগত মান ঠিক আছে বলে মনে হয়েছে।  তিনি বলেন, প্রকল্পটি জাইকা অর্থায়নে হচ্ছে। অর্থায়নকারী সংস্থার তদারকির কারণে বিদেশি সহায়তানির্ভর প্রকল্পগুলোর কাজের মান ভালো হয়। এরপরও ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের কিছুটা ভূমিকা থাকে। এজন্য ভালো কাজ সম্পাদনকারী ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানগুলোতে তালিকাবদ্ধ করার সুপারিশ করেছি, যাতে পরে অন্য প্রকল্পের দরপত্রে অংশ নিলে তাদের কাজ দেওয়ার বিষয়ে বিবেচনায় রাখা যায়।

প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, গোপালগঞ্জ, বরিশাল ও খুলনা অঞ্চলের সেতুগুলোর ভৌত কাজে অগ্রগতি সন্তোষজনক হলেও রাজশাহী ও রংপুর অঞ্চলে কাজের অগ্রগতি কম। কাজের গতি বাড়ানোর সুপারিশ করা হয়েছে এতে।

প্রকল্প পরিচালক মোহাম্মদ জাওয়েদ আলম দেশ রূপান্তরকে বলেন, প্রকল্পে সামান্য কিছু ত্রুটি-বিচ্যুতি থাকতে পারে। তবে সার্বিকভাবে কাজ ভালো হচ্ছে। গুণগতমান নিশ্চিত করে প্রকল্পটি যথাসময়েই বাস্তবায়ন হবে।

রংপুরে কাজের অগ্রগতি কম হওয়ার কারণ সম্পর্কে তিনি বলেন, রংপুরে তিন মাস পর কার্যাদেশ পেয়েছি। দেরি করে শুরু করার কারণে অগ্রগতি কম। তবে প্রকল্পের মেয়াদকালের মধ্যেই তা শেষ হবে বলে আশা করছি।

সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত আলোচিত