ঝুঁকিতে পড়তে পারে উদীয়মান বাজারগুলো

আপডেট : ০৩ জানুয়ারি ২০১৯, ১২:৫২ এএম

এশিয়ার পুঁজিবাজার গেল বছর হারিয়েছে ৫ ট্রিলিয়ন ডলার। এই ধাক্কা প্রাথমিকভাবে সামলে উঠলেও চলতি বছর বিনিয়োগকারীদের জন্য খুব একটা সন্তোষজনক নাও হতে পারে, বলছেন বিশেষজ্ঞরা।  ব্লুমবার্গের এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, যুক্তরাষ্ট্রে সুদহার বৃদ্ধি, ডলারের শক্তিশালী অবস্থান, বেইজিং ও ওয়াশিংটনের বাণিজ্যযুদ্ধ ও লাতিন আমেরিকার দুই শীর্ষ অর্থনীতির দেশগুলোয় পপুলিস্ট নেতাদের উত্থানে ঝুঁকিতে পড়তে পারে উদীয়মান বাজারগুলো।

ফেডারেল রিজার্ভ ও ডলার

১৯ ডিসেম্বর যুক্তরাষ্ট্রের কেন্দ্রীয় ব্যাংক ফেডারেল রিজার্ভ (ফেড) সুদহার বাড়ানোর ঘোষণা দেওয়ার পর প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের তোপের মুখে পড়েন ফেড চেয়ারম্যান জেরোমি পাওয়েল। ডোনাল্ড ট্রাম্প একাধিকবার তাকে পদচ্যুত করার হুমকি দেন। এর বিপরীতে পাওয়েলের কোনো মন্তব্য পাওয়া যায়নি। অন্যদিকে যুক্তরাষ্ট্রের অর্থমন্ত্রী স্টিভেন মুচিন জানিয়েছেন, ফেডের চেয়ারম্যান পদেই থাকবেন পাওয়েল। এ অবস্থায় বিনিয়োগকারীদের নজরদারিতে থাকবে ফেড। ইউরোপের কার্যক্রমও উদীয়মান বাজারকে প্রভাবিত করতে পারে, জানিয়েছে ব্লুমবার্গ। যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদনে বলা হয়, ইউরোপের কেন্দ্রীয় ব্যাংক ইউরোপিয়ান সেন্ট্রাল ব্যাংক (ইসিবি) সম্পদ ক্রয় প্রক্রিয়া শেষ করেছে। এর মাধ্যমে পোল্যান্ড ও হাঙ্গেরির মতো বেশি লাভজনক বাজারে শতকোটি ইউরো ঢালছে ইসিবি।

ইউরোপের কেন্দ্রীয় ব্যাংকের এ উদ্যোগে পূর্বাঞ্চলের ইউরোপীয় আর্থিক কর্তৃপক্ষকে সুদহার বাড়ানোর সিদ্ধান্ত নিতে হতে পারে। দীর্ঘদিন ধরে সুদহার বৃদ্ধির বিষয়টি স্থগিত করে রেখেছেন তারা। ইন্দোনেশিয়ার মতো বৈদেশিক বিনিয়োগে নির্ভরশীল উদীয়মান এশিয়া ও অর্থনীতির দেশগুলো চ্যালেঞ্জের মুখোমুখি হতে পারে। এসব চ্যালেঞ্জের মধ্যে রয়েছে মুদ্রার স্থিতিবস্থা নিয়ন্ত্রণ ও নগদ প্রবাহ কমানো।

বাণিজ্যযুদ্ধ ও চীন

যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে বাণিজ্যযুদ্ধের প্রভাব এরই মধ্যে পড়েছে চীনের পুঁজিবাজারে। দেশটির প্রধান পুঁজিবাজার সূচক ২০০৮ সালের পর সবচেয়ে খারাপ সময় পার করছে। দক্ষিণ কোরিয়া ও তাইওয়ানের পুঁজিবাজারও সংকটাপন্ন। সংকট বাড়লে বিশ^ অর্থনীতিতে আধিপত্য বিস্তারকারী দেশ দুটির মধ্যকার সংকট বাড়লে নেতিবাচক প্রভাব পড়তে পারে গোটা এশিয়ায়। আগামী ৭ জানুয়ারি চীনের সঙ্গে বাণিজ্যযুদ্ধ নিয়ে আলোচনা করতে যুক্তরাষ্ট্রের বাণিজ্য প্রতিনিধিরা বেইজিং যাচ্ছেন বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রের বরাতে জানিয়েছে ব্লুমবার্গ ।

পপুলিস্টস

নতুন পপুলিস্ট প্রেসিডেন্ট নিয়ে নতুন বছর শুরু করেছে ব্রাজিল ও মেক্সিকো। ব্রাজিলের নবনির্বাচিত প্রেসিডেন্ট ডজনখানেক রাষ্ট্রায়ত্ত কোম্পানি বিক্রির ঘোষণা দিয়ে ছিলেন পাশাপাশি প্রধান অর্থনৈতিক উপদেষ্টা হিসেবে নিয়োগ করেছেন শিকাগো বিশ^বিদ্যালয় থেকে প্রশিক্ষণপ্রাপ্ত পাওলো গুয়েডেসকে। এর পরিপ্রেক্ষিতে ব্রাজিলের পুঁজিবাজারে শেয়ার সূচক বেড়েছে রেকর্ড পরিমাণ। তবে বিশেষজ্ঞরা বলছেন, দেশটির পুনর্গঠন ও পেনশন প্রক্রিয়া নিয়ে রয়েছে চ্যালেঞ্জ। এই চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় নির্ভর করছে ব্রাজিলের পুঁজিবাজারের উত্থান-পতন। 

মেক্সিকোর বামপন্থি নেতা আন্দ্রেজ ম্যানুয়েল লোপেজ অব্রাডর ১ হাজার ৩০০ কোটি ডলারের বিমানবন্দর প্রকল্প বাতিল করায় সমর্থন পাচ্ছেন ব্যবসায়ীদের। তিনি চলতি বছরের জন্য রক্ষণশীল আর্থিক পরিকল্পনা প্রকাশ এবং বিমানবন্দর নির্মাণে গঠিত তহবিল থেকে ১৮০ কোটি ডলার তুলে নেওয়ার প্রস্তাব বন্ডহোল্ডাররা গ্রহণ করার পর উদ্বেগের উপশম হয়েছে অনেকখানি। এখন সামাজিক কর্মসূচিতে ব্যয়ের পরও প্রেসিডেন্ট কীভাবে প্রাথমিক বাজেট উদ্বৃত্ত নিয়ন্ত্রণ করেন, সেদিকেই দৃষ্টি থাকবে বিনিয়োগকারীদের।

রুশ নিষেধাজ্ঞা

রাশিয়ার শীর্ষ কোম্পানিগুলোর ওপর আরোপিত নিষেধাজ্ঞা তুলে নিতে প্রস্তুত বলে জানিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র। এক্ষেত্রে বিনিয়োগকারীরা কংগ্রেসের কর্মকা- বিশেষ নজরে রাখবেন। আর ২০১৬ সালে যুক্তরাষ্ট্রের নির্বাচনে রাশিয়ার হস্তক্ষেপ রয়েছে-প্রমাণিত হলে রাশিয়াকে নতুন করে দ- দেওয়া হতে পারে। এসব দ-ের মধ্যে থাকবে রুশ সার্বভৌম ঋণ ব্যবসা বা ব্যাংকের ওপর নিষেধাজ্ঞা।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত