ধর্ষণের শিকার নারীর অবস্থার অবনতি

আপডেট : ০৩ জানুয়ারি ২০১৯, ০১:৩৮ এএম

ভোটের দিন রাতে নোয়াখালীর সুবর্ণচরের দলবদ্ধ ধর্ষণের শিকার হাসপাতালে চিকিৎসাধীন নারীর অবস্থার অবনতি হয়েছে বলে জানিয়েছেন চিকিৎসক। ধর্ষণের ঘটনায় করা মামলার আরেক আসামিকে কুমিল্লা থেকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। তবে ঘটনার হোতা হিসেবে অভিযোগের মুখে থাকা স্থানীয় আওয়ামী লীগ নেতাকে আসামির তালিকা থেকে বাদ দেওয়া হয়েছে বলে অভিযোগ করেছেন মামলার বাদী।

নোয়াখালী সদর হাসপাতালের গাইনি ওয়ার্ডের রেজিস্ট্রার ডা. ফাতেমা দেশ রূপান্তরকে বলেন, ‘ধর্ষিতার ব্লিডিং এখনো বন্ধ করা যায়নি। তাকে রক্ত দেওয়া দরকার। তার পা ও শরীর ফুলে যাচ্ছে। তার শরীরের ক্রমশ অবনতি হচ্ছে। তার উন্নত চিকিৎসার প্রয়োজন।’

 ‘ধানের শীষে ভোট দেওয়ায়’ ৩০ ডিসেম্বর রাতে চর জুবলী ইউনিয়নের মধ্যে চরবা¹ায় এক নারীর বাড়িতে গিয়ে তার স্বামী-পুত্র-কন্যাকে বেঁধে রেখে ধর্ষণের অভিযোগে একদল লোকের বিরুদ্ধে চরজব্বার থানায় মামলা হয়েছে। ওই ঘটনার নেতৃত্বে উপজেলা আওয়ামী লীগের প্রচার সম্পাদক রুহুল আমীন থাকলেও তাকে মামলার আসামির তালিকা থেকে বাদ দেওয়া হয়েছে বলে অভিযোগ করেছেন তার স্বামী। ওই ঘটনায় দায়ের করা মামলায় সোহেল, হানিফ, স্বপন, চৌধুরী, বেচু, আবুল কাশেম, বাসু, আবুল, মোশাররফ ও সালাউদ্দিনকে আসামি করে চরজব্বার থানায় মামলা হয়।

পুলিশ সুপার ইলিয়াছ বলেন, গতকাল বুধবার কুমিল্লার বরুড়া থেকে এজাহারের ১ নম্বর আসামি সোহেলকে কুমিল্লার বরুড়া থেকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। এ নিয়ে এই মামলার তিন আসামিকে গ্রেপ্তার করা হলো। অপর আসামিদের গ্রেপ্তারে অভিযান চলছে। তদন্তে যে-ই অপরাধী হোক, তাকে ছাড় দেওয়া হবে না।

এদিকে বাংলাদেশ মানবাধিকার কমিশনের পরিচালক দায়রা জজ আল-মাহমুদ ফায়জুল কবিরের নেতৃত্বে সহকারী পরিচালক সুস্মিতা পাইক ও গাজী সালাউদ্দিন তিন সদস্যের তদন্ত কমিটি শুরু করেছেন। তারা বুধবার সকালে চিফ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট উৎপল চৌধুরীর সঙ্গে দেখা করে কথা বলার পর চরজব্বার থানার ওসি মিজাম উদ্দিনের জবানবন্দি নেন। এরপর পুলিশ সুপার ইলিয়াস শরীফের সঙ্গে কথা বলেন। তারপর নোয়াখালী জেনারেল হাসপাতালে ধর্ষিতার সঙ্গে একান্তে কথা বলেন। এরপর কমিটি হাসপাতাল তত্ত্বাবধায়কের কক্ষে গিয়ে একে একে ধর্ষিতার স্বামী ও ছেলের জবানবন্দি রেকর্ড করেন।

ধর্ষিতার স্বামী কান্নাজড়িত কণ্ঠে বলেন, ‘আমি এ ঘটনার বিচার চাই। প্রধান আসামি রুহুল আমীন মেম্বারকে মামলার আসামি থেকে বাদ দেওয়া হয়েছে তাও বলেছি।’

তদন্ত কমিটির প্রধান আল-মাহমুদ বলেন, ‘ভিকটিমকে দেখেছি। তার ও তার স্বামী মামলার বাদী তার ছেলের জবানবন্দি নেওয়া হয়েছে। চরজব্বার থানার ওসির সঙ্গে ও পুলিশ সুপারের সঙ্গে কথা হয়েছে। ঢাকা ফিরে গিয়ে কমিশনে প্রতিবেদন দাখিল করা হবে।’

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত