ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনে দুই সাংবাদিকের বিরুদ্ধে মামলা ও একজনকে গ্রেপ্তারের ঘটনায় উদ্বেগ প্রকাশ করেছে মানবাধিকার সংগঠন আইন ও সালিশ কেন্দ্র (আসক)। গতকাল বুধবার গণমাধ্যমে পাঠানো এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এই উদ্বেগের কথা জানানো হয়।
আসক জানায়, ৩০ ডিসেম্বর অনুষ্ঠিত একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে খুলনা-১ আসনে ঘোষিত ফলে প্রদত্ত ভোট ও মোট ভোটারের সংখ্যার পার্থক্য নিয়ে সংবাদ পরিবেশন করায় দুই জন সাংবাদিকের বিরুদ্ধে মামলা করেছেন বাটিয়াঘাটা উপজেলার নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও)। মামলার সূত্র ধরে এরই মধ্যে একজন সাংবাদিককে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনের ধারাসমূহের ব্যাপকতা, ভুল বা ভ্রান্ত তথ্য প্রকাশের দায়ে সাংবাদিকদের গ্রেপ্তার, ১৪টি অপরাধ জামিন অযোগ্য ঘোষণা প্রভৃতি কারণে শুরু থেকেই নানা পর্যায়ে সমালোচিত হয়ে আসছে। সাংবাদিকরা এই আইন গণমাধ্যমের স্বাধীনতা ও সাংবাদিকতার ক্ষেত্রকে সংকুচিত করে তুলবে বলে বারবার আশঙ্কা প্রকাশ করেছেন। এই আইনের আওতায় সাংবাদিকদের বিরুদ্ধে মামলা ও গ্রেপ্তার প্রকৃতপক্ষে সাংবাদিক ও মানবাধিকারকর্মীদের শঙ্কা আরও বৃদ্ধি করবে।
অনিচ্ছাকৃতভাবে কোনো ভুল তথ্য বা সংবাদ পরিবেশন করা হলে সেটির জন্য সাংবাদিকদের বিরুদ্ধে মামলা ও তার পরিপ্রেক্ষিতে গ্রেপ্তার নয়, বরং ভুল সংশোধনের কিংবা ব্যাখ্যা প্রদানের সুযোগ দেওয়া যুক্তিযুক্ত।
কেননা সাংবাদিকরা সাধারণত বিভিন্ন সূত্র থেকে তথ্য সংগ্রহ করে সংবাদ উপস্থাপন করে থাকেন। সংশ্লিষ্ট কর্র্তৃপক্ষের কাছে গণমাধ্যমের স্বাধীনতা, গণতান্ত্রিক ব্যবস্থায় গণমাধ্যমের প্রত্যাশিত ভূমিকা এবং সাংবাদিকতার ক্ষেত্রে এই ঘটনার বৃহত্তর প্রভাব বিবেচনায় নিয়ে সাংবাদিককে দ্রুত মুক্তি ও মামলা প্রত্যাহারের দাবি জানায় আসক।
