সিদ্ধান্ত ছিল ২০২৬ সাল বিশ্বকাপ থেকে হবে ৪৮ দলের বিশ্বকাপ। কিন্তু বিশ্ব ফুটবল নিয়ন্ত্রণের সর্বোচ্চ সংস্থা ফিফা সভাপতি জিয়ান্নি ইনফান্তিনোর জোরালো ইঙ্গিত, ২০২২ সালে কাতারেই হতে পারে ৪৮ দলের বিশ্বকাপ।
বিশ্বকাপের পরবর্তী আসরের আয়োজক কাতার। প্রথমবারের মতো আরব বিশ্বের কোনো দেশে অনুষ্ঠিত হবে বিশ্ব ফুটবলের মহাযজ্ঞ। এজন্য কম কাঠখর পোড়াতে হয়নি কাতারকে। স্বাগতিক হওয়ার প্রতিযোগিতায় যুক্তরাষ্ট্র, দক্ষিণ কোরিয়া, জাপান ও অস্ট্রেলিয়ার মতো দেশকে হারিয়েছিল আরব উপদ্বীপের ক্ষুদ্র দেশটি।
১৯৯৮ সাল থেকে ৩২ দল নিয়ে হচ্ছে ফুটবল বিশ্বকাপ। ২০১৭ সালের জানুয়ারিতে সদস্যদের ভোটে ২০২৬ সালে যুক্তরাষ্ট্র, মেক্সিকো ও কানাডা আসর থেকে ৩২ দলের সঙ্গে আরও ১৬ দল নিয়ে বিশ্বকাপ আয়োজনের সিদ্ধান্ত নেয় ফিফা। ওই সময়ে কাতার বিশ্বকাপও ৪৮ দলে করার সম্ভাবনার কথা বলেছিলেন ফিফা প্রধান।
বুধবার সংযুক্ত আরব আমিরাতে দুবাই ইন্টারন্যাশনাল স্পোর্টস কনফারেন্সেও একই কথা বললেন ইনফান্তিনো, “কাতারে ৩২ দল নিয়ে বিশ্বকাপ হবে। তবে আমরা যদি দল সংখ্যা বাড়িয়ে ৪৮ করতে পারি এবং বিশ্বকে খুশি করতে পারি, তাহলে অবশ্যই আমাদের সে চেষ্টা করা উচিত।”
“যদি মনে করেন ৪৮ দলের বিশ্বকাপ ভালো হবে তাহলে চার বছর আগে কেন নয়। তাই ২০২২ সালেই ৪৮ দলের বিশ্বকাপ সম্ভব কি-না তা আমরা যাছাই বাছাই করছি।”
বিশ্বকাপে দলের সংখ্যা বাড়লে কাতারের পাশ্ববর্তী দেশগুলোর সহযোগিতা দরকার হতে পারে বলে জানালেন ফিফা প্রধান। এক্ষেত্রে কাতারের সঙ্গে পাশ্ববর্তী দেশেগুলোর টানাপোড়েন অন্তরায় হয়ে দাড়াতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
কাতারের বিরুদ্ধে সন্ত্রাসবাদে অর্থায়নের অভিযোগ তুলে ২০১৭ সালের জুন মাস থেকে দেশটির বিরুদ্ধে অবরোধ আরোপ করে সৌদি আরব, বাহরাইন, সংযুক্ত আরব আমিরাত ও মিশর।
এ ব্যাপারে ইনফান্তিনো বলেন, “উপসাগরীয় অঞ্চলের পাশ্ববর্তী কিছু দেশে যদি আমরা কিছু ম্যাচ আয়োজনের ব্যবস্থা করতে পারি তাহলে বিষয়টা এই অঞ্চল ও বিশ্বের জন্য খুবই ভালো হবে।”
এটা হলে উপসাগরীয় অঞ্চলের দেশগুলোর মধ্যে টানাপোড়েন কমে আসবে বলেও বিশ্বাস ইনফান্তিনোর, “এটা যদি উপসাগরীয় অঞ্চলের সব মানুষকে সহযোগিতা করতে পারে, বিশ্বের সব দেশে ফুটবলের উন্নতি ঘটাতে পারে এবং ফুটবলের ব্যাপারে বিশ্বকে ইতিবাচক বার্তা দিতে পারে। আমাদের এটা চেষ্টা করা উচিত।”
