জ্বালানি তেলের দাম বৃদ্ধির অজুহাত দেখিয়ে আগামী হজে ঢাকা-জেদ্দা-ঢাকা রুটে বিমানের ভাড়া যাত্রীপ্রতি ১১ হাজার ৬৫০ টাকা বাড়িয়েছে বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্স।
জ্বালানির দাম বৃদ্ধির কারণে ভাড়া পুনর্নির্ধারণ করা হয়েছে বলে বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন মন্ত্রণালয়কে জানিয়েছে সংস্থাটি। অথচ গত বছরের তুলনায় বর্তমানে জ্বালানি তেলের দাম কমেছে। বিমানভাড়া বাড়ানো হলে হজ প্যাকেজের দামও অনেক বেড়ে যাবে বলে ধর্ম মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তারা এবং হজ এজেন্সিস অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ (হাব) নেতারা জানিয়েছেন।
বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন মন্ত্রণালয়ের সচিব মো. মুহিবুল হক দেশ রূপান্তরকে বলেন, বিমান ঢাকা-জেদ্দা-ঢাকা রুটে একটা ভাড়া নির্ধারণ করেছে। সেটাই চূড়ান্ত নয়। তারা তেলের দাম বৃদ্ধির কথা বলেছে। প্রকৃতপক্ষে তেলের দাম কত বেড়েছে সে সম্পর্কে তথ্য নিয়েই বিষয়টি চূড়ান্ত করা হবে। হজ প্যাকেজ ঘোষণা করে ধর্ম মন্ত্রণালয়। তাদের সঙ্গে এবং এসংক্রান্ত অংশীজনের সঙ্গে বৈঠক করে বিমানের ভাড়া চূড়ান্ত করা হবে। আগামী সপ্তাহেই এ বৈঠক অনুষ্ঠিত হবে বলে তিনি জানিয়েছেন।
গত বছর হজ প্যাকেজে বিমানের নিট ভাড়া ছিল এক হাজার ৫৫০ ডলার। চলতি বছর সেটা বাড়িয়ে এক হাজার ৬৮৫ ডলার নির্ধারণ করেছে বিমান। বর্ধিত ভাড়া অনুমোদন এবং হজ প্যাকেজে অন্তর্ভুক্ত করার প্রস্তাব পাঠিয়েছে। এটা অনুমোদিত হলে হজযাত্রীদের ১৩৫ ডলার বিমানভাড়া হিসেবেই অতিরিক্ত পরিশোধ করতে হবে। বর্তমানে কিনতে গেলে ডলারপ্রতি খরচ পড়ে ৮৬ টাকা। সেই হিসেবে ১১ হাজার ৬১০ টাকা অতিরিক্ত বিমানভাড়া পরিশোধ করতে হবে হজযাত্রীদের।
বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন মন্ত্রণালয়ে পাঠানো চিঠিতে বিমান বলেছে, ‘জ্বালানি তেলের মূল্যবৃদ্ধি, সৌদি আরবে ভ্যাট প্রবর্তন ইত্যাদি বিবেচনায় এই ভাড়া নির্ধারণ করা হয়েছে।’
অথচ আন্তর্জাতিক বাজারে গত বুধবার জ্বালানি তেলের দাম কমেছে। অর্গানাইজেশন অব পেট্রোলিয়াম এক্সপোর্টিং কন্ট্রিজ (ওপেক) ও বহির্ভূত দেশগুলো থেকে তেল সরবরাহ বেড়েছে। অন্যদিকে অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধির গতি মন্থর হওয়ায় পণ্যটির চাহিদা কমছে। সার্বিক পরিস্থিতিতে তেলের দরপতন অব্যাহত থাকবে। গত বুধবার ফিউচার মার্কেটে প্রতি ব্যারেল ব্রেন্টের দাম সর্বোচ্চ ৭০ সেন্ট কমে বিক্রি হয় ৫৩ ডলার ১০ সেন্টে। গত ২৬ ডিসেম্বর একই পরিমাণ পণ্যের দাম নেমেছিল ৪৯ ডলার ৯৩ সেন্টে, যা ২০১৭ সালের জুলাইয়ের পর সর্বনিম্ন।
হাবের কোষাধ্যক্ষ ফজলুর রহমান দেশ রূপান্তরকে বলেন, গত বছর হজ প্যাকেজ ছিল ৩ লাখ ৯৭ হাজার ৯২৯ টাকা। বিমানভাড়া যদি ১৩৫ ডলার বৃদ্ধি করা হয়, তাহলে সেটা হজ প্যাকেজের মোট দামও বাড়িয়ে দেবে, যা যাত্রীদের জন্য জুলুম হবে।
চাঁদ দেখা সাপেক্ষে আগামী আগস্ট মাসে হজ পালন করা হবে।
