শীতের শুরুতে বাচ্চাদের একটি কমন রোগ হচ্ছে পাতলা পায়খানা। অধিকাংশ মা-বাবাই বাচ্চাদের কমন এ রোগটি নিয়ে খুবই দুশ্চিন্তায় ভোগেন। এ রোগে আক্রান্ত বেশির ভাগ শিশুই ভুল চিকিৎসা বা অপচিকিৎসার শিকার হয়।
বারবার পাতলা পায়খানা করাকে বলে ডায়রিয়া। যদিও ডায়রিয়া নিজে কোনো রোগ নয়, কিছু লক্ষণের সমষ্টি মাত্র। তবে সঠিকভাবে ডিহাইড্রেশন বা পানিশূন্যতা পূরণ করা না হলে এটা মৃত্যুর কারণ হতে পারে।
একিউট ওয়াটারি ডায়রিয়া বা পানির মতো পাতলা পায়খানা
একটি সুস্থ স্বাভাবিক শিশু দিনে ১০ বার পর্যন্ত পায়খানা করতে পারে। শিশু যদি ১০ বারের বেশি পায়খানা করে এবং পায়খানা যদি পাতলা হয়, তাহলে সেটাকে ডায়রিয়া বলা যেতে পারে।
পায়খানার ঘনত্ব হবে একদম পানির মতো পাতলা। সঙ্গে অল্প একটু মিউকাস (লোকাল ভাষায় বলে ‘বিজল’) মিশ্রিত থাকতেও পারে আবার নাও পারে।
পায়খানা যেদিন শুরু হবে, সেদিন বা তার আগের দিন শিশু বমি করতে পারে।
শুরুর দিন শিশু অল্প কয়েকবার পাতলা পায়খানা করবে। ধীরে ধীরে পায়খানা করার ফ্রিকোয়েন্সি বাড়বে। এমনও হতে পারে, শিশু দিনে ২০ বার তার বেশি পায়খানা করছে।
জ্বর থাকতে পারে আবার নাও পারে।
পেটে ব্যথা হতে পারে। পেটে ব্যথা হলে বাচ্চারা অতিরিক্ত কান্নাকাটি করে।
খাবারের রুচি কমে যায়। এ সময় শিশুরা কিছুই খেতে চায় না।
শীতের শুরুতে বাচ্চাদের যে পানির মতো পাতলা পায়খানা হয় তার প্রধান কারণ হচ্ছে ‘রোটা ভাইরাস’। তবে ভাইরাস ছাড়াও আরো কিছু কারণে বাচ্চাদের ডায়রিয়া হয়ে থাকতে পারে। রোটা ভাইরাল ডায়রিয়া একটি ‘সেলফ লিমিটিং’ রোগ। এর মানে হচ্ছে এটি আপনা আপনি ভালো হয়ে যায়। সাধারণত ভাইরাস দ্বারা আক্রান্ত হওয়ার ১২ ঘণ্টা থেকে পাঁচ দিন পর এ রোগের লক্ষণ দেখা দেয়। লক্ষণ দেখা দেওয়ার তিন থেকে সাত দিন পর এটি আপনিতেই ভালো হয়ে যায়।
এ সময় পানিশূন্যতা যেন না হয়, সে জন্য প্রতিবার পাতলা পায়খানার পর শিশুকে বয়স এবং ওজন অনুযায়ী নির্দিষ্ট পরিমাণে খাবার স্যালাইন খাওয়াতে হবে। সেই সঙ্গে বেশি বেশি তরল খাবার খাওয়াতে হবে।
বয়স ছয় মাসের কম হলে শুধু বুকের দুধ এবং ছয় মাসের বেশি বয়স হলে বুকের দুধের পাশাপাশি বাসায় রান্না করা স্বাভাবিক খাবার খাওয়াতে হবে।
ভাইরাল ডায়রিয়াতে অ্যান্টিবায়োটিকের কোনো ভূমিকা নেই। অ্যান্টিবায়োটিকের জন্য পাতলা পায়খানা না কমে বরং বেড়ে যেতে পারে। কমপক্ষে একজন এমবিবিএস চিকিৎসকের সঙ্গে কথা বলে তারপর শিশুকে প্রয়োজনীয় ওষুধ খাওয়ানো উচিত।
সম্পাদনা : লায়লা আরজুমান্দ
ডা. মোহাম্মদ ইমরানুর রহমান
মেডিকেল অফিসার, উপজেলাহেলথ কমপ্লেক্স, নিকলী কিশোরগঞ্জ
