বাগেরহাটের বিসিকের দুরবস্থা কাটেনি

আপডেট : ০৫ জানুয়ারি ২০১৯, ১২:৫৭ এএম

বাগেরহাটের ক্ষুদ্র ও কুটির শিল্প নগরী (বিসিক) নানা সমস্যায় জর্জরিত। দুই দশক আগে গড়ে ওঠা বাগেরহাটে বিসিক শিল্প নগরীতে বাড়েনি সুযোগ-সুবিধা। দীর্ঘদিন ধরে বিসিকের অধিকাংশ রাস্তাঘাট খানাখন্দ, ছোট-বড় গর্তের সৃষ্টি হয়ে চলাচলের অনুপযোগী হয়ে পড়েছে।

এখানে গড়ে ওঠা কলকারখানায় উৎপাদিত পণ্য পরিবহনে উদ্যোক্তাদের নিয়মিত দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে। রাস্তাঘাট ছাড়াও এখানে ড্রেনেজ ব্যবস্থা ভালো না। বর্ষা মৌসুমে একটু বৃষ্টি হলেই পানি জমে যায়। ড্রেনের পানিনিষ্কাশনের ব্যবস্থাও নাজুক। শিল্পোদ্যোক্তাদের সুপেয় পানি সরবরাহ করার কথা থাকলেও তা করছে না কর্র্তৃপক্ষ। সমস্যার কথা কর্র্তৃপক্ষকে জানালেও কোনো পদক্ষেপ নেওয়া হচ্ছে না বলে অভিযোগ শিল্পোদ্যোক্তাদের।

১৯৯৬ সালে বাগেরহাট শহরের ভৈরব নদের পাশে প্রায় ২০ একর জমির ওপর ক্ষুদ্র ও কুটির শিল্প নগরী (বিসিক) গড়ে তোলা হয়। এখানে ৫০টি ইউনিটের মধ্যে ৪২টি ছোট-বড় কারখানা উৎপাদনে রয়েছে। আছে নারকেলের তেল মিল, অটো রাইচ মিল, ডাল মিলসহ বিভিন্ন কারখানা।

হোসেন রাইচ মিল মালিক হোসেন আলী অভিযোগ করেন, ড্রেনেজ ব্যবস্থা পরিকল্পিত না হওয়ায় বর্ষার পানি ঠিকমতো সরতে পারে না। পানি মিলের মধ্যে উঠে ধান-চাল ভিজে যায়। ন্যাচারাল ফাইভার্স লিমিটেডের ব্যবস্থাপনা পরিচালক মোস্তাফিজুর রহমান বলেন, ‘আমরা যারা এখানে ছোট-বড় শিল্পকারখানা গড়ে তুলেছি তারা সময়মতো ট্যাক্স পরিশোধ করছি। অথচ বাগেরহাটে বিসিক শিল্প নগরীতে গড়ে ওঠেনি পর্যাপ্ত সুযোগ-সুবিধা।’

বাগেরহাট শক্তি ডাল মিলের স্বত্বাধিকারী স্বপন কুমার বসু জানান, ‘শুরুতে আমাদের যেসব সুযোগ-সুবিধার কথা বলে প্লট বরাদ্দ দেওয়া হয়েছিল তা আমরা পাচ্ছি না। পণ্য পরিবহনে দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে।’ এসব সমস্যার কথা সংশ্লিষ্টদের অবহিত করা হলেও কর্র্তৃপক্ষের কোনো উদ্যোগ নেই বলে জানান তিনি।

বাগেরহাট বিসিকের প্রধান হিসাবরক্ষণ কর্মকর্তা সুব্রত কুমার ম-ল নানা সমস্যার কথা স্বীকার করেন। তিনি বলেন, বিসিকের রাস্তাঘাটসহ নানা সমস্যা আছে। পর্যাপ্ত বরাদ্দ না থাকায় উন্নয়ন কাজ করা সম্ভব হচ্ছে না। তবে ঊর্ধ্বতন কর্র্তৃপক্ষের কাছে বরাদ্দ চেয়ে চিঠি পাঠানো হয়েছে। বরাদ্দ পেলেই কাজ শুরু করার আশ্বাস দেন তিনি।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত