রোববার, ১৪ জুলাই ২০২৪, ৩০ আষাঢ় ১৪৩১
দেশ রূপান্তর

রাঙ্গা বিরোধীদলীয় চিফ হুইপ, ক্ষুব্ধ রওশনপন্থিরা

আপডেট : ০৬ জানুয়ারি ২০১৯, ০১:২৭ এএম

সরকারে না থাকা, রওশন এরশাদকে বাদ দিয়ে নিজে বিরোধীদলীয় নেতা হওয়া, ছোট ভাইকে উপনেতা ও সর্বশেষ দলের মহাসচিব মশিউর রহমান রাঙ্গাকে বিরোধীদলীয় প্রধান হুইপ বানানোয় দলের চেয়ারম্যান হুসেইন মুহম্মদ এরশাদের ওপর ক্ষেপেছেন দলের নতুন সাংসদ ও রওশনপন্থি অংশ। বর্তমান মন্ত্রিসভায় থাকা নেতা ও তাদের সমর্থিত অংশ ভীষণ ক্ষুব্ধ এরশাদের এসব সিদ্ধান্তে। তারা এরশাদের বিরুদ্ধে গঠনতন্ত্র না মেনে এককভাবে সিদ্ধান্ত নেওয়ার অভিযোগ এনেছেন। এই নিয়ে দলের মধ্যে অস্থিরতা দেখা দিয়েছে।

এদিকে এরশাদকে গতকাল দুপুরে আবারও ঢাকার সম্মিলিত সামরিক হাসপাতালে (সিএমএইচ) ভর্তি করা হয়। তার এপিএস মনজুরুল ইসলাম বলেন, স্যার (এরশাদ) দুপুরে সিএমএইচে গিয়েছিলেন রক্ত পরীক্ষার জন্য। এ সময় চিকিৎসক তাকে পর্যবেক্ষণে থাকার অনুরোধ করেন। এ কারণে তিনি রাতে হাসপাতালে থেকে রবিবার বাসায় ফেরার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন। স্যারের রবিবার শপথ নেওয়ার কথা রয়েছে। স্পিকার দুপুর ১২টায় সময় দিয়েছেন। আমরা স্যারসহ ১২টার আগেই সংসদে যাব আশা করছি। গত ৩০ ডিসেম্বরের নির্বাচনের আগে একাধিকবার সিএমএইচে ভর্তি হন এরশাদ।

গত শুক্রবার মশিউর রহমান রাঙ্গাকে সংসদের বিরোধী দলের প্রধান হুইপের দায়িত্ব দিয়ে স্পিকার শিরীন শারমিন চৌধুরীর কাছে চিঠি পাঠান এরশাদ। ওই চিঠিতে জাপার বিরোধী দলে

থাকা, এরশাদ বিরোধীদলীয় নেতা এবং জি এম কাদেরকে উপনেতা করার সিদ্ধান্তের কথাও জানানো হয়। চিঠিতে বলা হয়, ‘এরশাদ জাতীয় সংসদে বিরোধীদলীয় নেতা হিসেবে দায়িত্ব পালন করবেন। পদাধিকারবলে জাতীয় পার্টির পার্লামেন্টারি দলের সভাপতি হিসেবে আমি বিরোধীদলীয় নেতা এবং পার্টির কো-চেয়ারম্যান গোলাম মোহাম্মদ কাদের উপনেতা হিসেবে দায়িত্ব পালন করবেন। পার্টির মহাসচিব মশিউর রহমান রাঙ্গাকে বিরোধীদলীয় চিফ হুইপ হিসেবে মনোনীত করা হলো।’ গতকাল শনিবার তা গণমাধ্যমকে জানানো হয়। চিঠিতে তিনি এসব সিদ্ধান্ত দলীয়ভাবে নেওয়া হয়েছে বলে উল্লেখ করেন।

জাপার দুই শীর্ষ নেতা দেশ রূপান্তরকে বলেন, বিরোধীদলীয় প্রধান হুইপ হিসেবে মনোনয়ন দেওয়া হয় দলের সংসদীয় দলের বৈঠকে। পরে স্পিকারকে এ বিষয়ে চিঠি দিয়ে আনুষ্ঠানিকভাবে জানানো হয়। কিন্তু গত বৃহস্পতিবার শপথের পর সংসদীয় দলের রুদ্ধদ্বার বৈঠকে কোনো সিদ্ধান্ত হয়নি। সেখানে এসব বিষয় নিয়ে নানা মত দেখা দেয়। ওই বৈঠকে বলা হয়েছিল, পরে পার্টির সভায় এ ব্যাপারে সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে। কিন্তু বৃহস্পতিবারের পর এসব নিয়ে দলে কোনো আলোচনায় হয়নি। চেয়ারম্যান একা একা সিদ্ধান্ত নিয়েছেন।

দলের বিক্ষুব্ধ অংশ এরশাদের এসব সিদ্ধান্তকে স্বেচ্ছাচারিতা বলে অভিযোগ করেছেন। মন্ত্রিসভায় যোগ না দেওয়া ও রওশন এরশাদকে বিরোধীদলীয় নেতা না বানানোর সিদ্ধান্তেই বেশি ক্ষেপেছেন তারা। জাপার রওশন এরশাদপন্থি নেতারা দেশ রূপান্তরকে বলেছেন, তারা এসব সিদ্ধান্ত মানতে নারাজ। তারা মন্ত্রিসভায় যোগ দিতে চান। রওশনকেই বিরোধীদলীয় নেতার পদে চান। কারণ চেয়ারম্যান অসুস্থ। তার পক্ষে বিরোধীদলীয় নেতা ও দলের দায়িত্ব পালন করা সম্ভব নয়। ছোট ভাই ও তার নিজের লোকজনদের প্রতিষ্ঠিত করতেই তিনি এমন সিদ্ধান্ত নিয়েছেন। দলীয় গঠনতন্ত্রের ২২(২) ধারা অনুযায়ী, সংসদীয় দলের নেতা নির্বাচনের ক্ষমতা এমপিদের হাতে। এরশাদ যে প্রক্রিয়ায় নিজেকে বিরোধীদলীয় নেতা ও ছোট ভাইকে উপনেতা ঘোষণা করেছেন, তা গঠনতন্ত্রসম্মত নয়। সংসদীয় দলের পরবর্তী সভায় বিষয়টি তুলে ধরা হবে।

এরশাদের এসব সিদ্ধান্তে গঠনতন্ত্রের ব্যত্যয় হয়নি বলে জানিয়েছেন জি এম কাদের। তিনি বলেন, এরশাদের সিদ্ধান্তই চূড়ান্ত। দলের চেয়ারম্যান হিসেবে তিনি সর্বময় ক্ষমতার অধিকারী। তিনি যে সিদ্ধান্ত নিয়েছেন, তা জাতীয় পার্টির সব নেতাকর্মীকে মানতে হবে। এমপিদেরও মানতে হবে।

আজ এরশাদের শপথের পর সংসদীয় দলের বৈঠকে এসব সিদ্ধান্ত অনুমোদন করা হবে বলেও জানান এই নেতা। 

এ বিষয়ে জানতে চাইলে জানতে চাইলে জাপার প্রেসিডিয়াম সদস্য ও নবনির্বাচিত সাংসদ কাজী ফিরোজ রশিদ বলেন, সংসদে বিরোধী দল হিসেবে থাকলে ভবিষ্যতে পার্টির জন্য ভালো হবে। সত্যিকারের বিরোধী দল হতে পারলে দলের ভাবমূর্তিও উজ্জ্বল হবে। দশম সংসদে সরকারে ও মন্ত্রিসভায় থাকতে গিয়ে দুর্নাম হয়েছে।

তবে দলের প্রেসিডিয়াম সদস্য মুজিবুল হক চুন্নু দেশ রূপান্তরকে বলেন, ‘চেয়ারম্যানের এসব সিদ্ধান্তের ব্যাপারে আমরা কিছুই জানি না। দলের কারো সঙ্গে আলোচনা করা হয়নি।’

আজ শপথ নেবেন এরশাদ : বেলা ১১টা থেকে ১২টার মধ্যে দলের চেয়ারম্যান হুসেইন মুহম্মদ এরশাদ নতুন সাংসদ হিসেবে শপথ নেবেন বলে জানিয়েছেন দলের মহাসচিব মসিউর রহমান রাঙ্গা। তিনি দেশ রূপান্তরকে বলেন, শপথের পর সংসদীয় দলের বৈঠক হবে। সেখানে বিভিন্ন সিদ্ধান্ত দলের অনুমোদন পাবে। এর আগে গত বৃহস্পতিবার দলের নির্বাচিত ২২ সাংসদের মধ্যে ২১ জনই শপথ নেন। অসুস্থতার কারণে সেদিন এরশাদ শপথ নিতে পারেননি।

সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত আলোচিত