চট্টগ্রাম মহানগরীর জলাবদ্ধতা নিরসনে কর্ণফুলী নদীর তীরঘেঁষে ২৪ ফুট উঁচু সড়ক নির্মাণ হচ্ছে। কালুরঘাট সেতু থেকে চাক্তাই খাল পর্যন্ত প্রায় সাড়ে ৮ কিলোমিটার দীর্ঘ এ সড়ক বাঁধ হিসেবেও নগরকে সুরক্ষা দেবে। পাশাপাশি বারটি খালের মুখে বসছে জোয়ার-ভাটা প্রতিরোধক রেগুলেটর ও পাম্প। দুই হাজার ৩১০ কোটি টাকা ব্যয়ে এই প্রকল্প বাস্তবায়ন করছে চট্টগ্রাম উন্নয়ন কর্র্তৃপক্ষ (সিডিএ)।
২০১৭ সালের ২৫ এপ্রিল জাতীয় অর্থনৈতিক পরিষদের নির্বাহী কমিটির (একনেক) সভায় এই ‘আউটার রিং রোড প্রকল্প’ অনুমোদন পায়। পরবর্তী সময়ে সিডিএ স্পেক্টরা ইঞ্জিনিয়ার্স লিমিটেড নামে একটি প্রতিষ্ঠানকে নির্মাণের কাজ দেয়। প্রকল্পের অধীনে নির্মিত চার লেনের এ সড়ক-বাঁধ সমুদ্রপৃষ্ঠ থেকে ২৪ ফুট উঁচু ও ৮০ ফুট প্রশস্ত হবে। এ ছাড়া নগরের ১২টি খালের ওপর ব্রিজ তৈরি ও রাস্তা নির্মাণ করা হবে। ২০২০ সালের জুনে শেষ হবে প্রকল্পের মেয়াদ।
প্রকল্প পরিচালক ও সিডিএর প্রকৌশলী রাজীব দাশ দেশ রূপান্তরকে বলেন, জলাবদ্ধতা নিরসনে এ প্রকল্পের অধীনে নগরের রাজাখালী, চাক্তাই, বলির হাট এলাকায় ছয়টি খালের মুখে রেগুলেটর স্থাপন করা হচ্ছে। বর্তমানে পাইলিংয়ের কাজ চলছে। সড়ক-বাঁধের অংশ হিসেবে বর্তমানে সাড়ে তিন কিলোমিটার জায়গাজুড়ে বাঁধ নির্মাণের কাজ চলছে।
সিডিএ চেয়ারম্যান আবদুচ ছালাম বলেন, ‘প্রকল্প বাস্তবায়িত হলে নগরীর চাক্তাই, খাতুনগঞ্জ, বকশীরহাট, বৃহত্তর বাকলিয়া, চান্দগাঁও, কালুরঘাট ভারী শিল্প এলাকায় জলাবদ্ধতা নিরসনের পাশাপাশি যানজট থেকেও নগরবাসী মুক্তি পাবে। কর্ণফুলীর তীরঘেঁষে সড়ক কাম বাঁধের নির্মাণকাজ শেষ হলে উত্তর ও দক্ষিণ চট্টগ্রাম থেকে আসা যানবাহনগুলো শহরের মূল সড়ক বাইপাস করে এই সড়ক দিয়ে চলাচল করতে পারবে। তখন মূল সড়কে যানবাহনের চাপ কমবে। নগরবাসীকে আর যানজটে ভোগান্তি পোহাতে হবে না।’ এ কাজের আওতায় বসানো রেগুলেটর ও পাম্প কর্ণফুলী নদীর জোয়ার-ভাটা নিয়ন্ত্রণ করবে বলে তিনি জানান।
