‘গরিবের কোকেন’খ্যাত ‘ক্রিস্টাল মেথ’ নামের মাদকে ঝুঁকছে দেশের ধনাঢ্য পরিবারের সন্তানরা। হেরোইন ও ইয়াবার মতো ভয়াবহ নেশার স্তর পেরিয়ে এখন তাদের সর্বনাশা এই মাদকে আসক্ত হয়ে পড়ার তথ্য পেয়েছেন মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের কর্মকর্তারা।
উচ্চ সামাজিক মর্যাদা ও সংখ্যায় কম হওয়ার কারণে ‘ক্রিস্টাল মেথ’ ব্যবহারকারীদের বিরুদ্ধে অভিযানের ব্যাপারেও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর তেমন আগ্রহ নেই বলে জানান সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা।
মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের বরিশাল বিভাগের অতিরিক্ত পরিচালক হাফিজুর রহমান দেশ রূপান্তরকে বলেন, ‘এমফিটামিন বা মেথাফিটামিন গ্রুপের প্রকৃত রূপই হচ্ছে “ক্রিস্টাল মেথ” নামের মাদক। এই মাদক সাধারণ মাদকসেবীদের ক্রয় ক্ষমতার বাইরে। তাই ধনাঢ্য পরিবারের সন্তান কিংবা উচ্চপদস্থ সরকারি বা বেসরকারি কর্মকর্তা ছাড়া এই মাদকের ব্যবহারকারী নেই বললেই চলে।’
তিনি আরও বলেন, ‘এই মাদক গ্রহণের প্রাথমিক ইফেক্ট কোকেনের মতোই। তবে কোকেনের চেয়ে দামে কম হওয়ায় এটিকে “গরিবের কোকেন” বলা হয়ে থাকে।’
মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের তথ্যমতে, রাজধানী ঢাকাসহ সারা দেশে এই মাদক ব্যবহারকারীর সংখ্যা ২৫০ থেকে ৩০০ জনের মতো। ‘আইস’ বা ‘গ্লাস’ নামেও এই মাদক পরিচিত। বর্তমানে এর এক গ্রামের মূল্য ৯ হাজার থেকে ১২ হাজার টাকা। এক গ্রাম ‘ক্রিস্টাল মেথ’ নিয়ে অন্তত চার-পাঁচজন তরুণ-তরুণী দলবদ্ধ হয়ে আগুনে পুড়িয়ে সৃষ্ট ধোঁয়া নাকের সাহায্যে গ্রহণ করে থাকে। এটি ব্যবহারের ফলে সাময়িক উত্তেজনার সৃষ্টি হয়, ঘুম আসে না এবং ক্ষুধা লাগে না।
তেজগাঁও কেন্দ্রীয় মাদক নিরাময় কেন্দ্রের মনোচিকিৎসক রায়হানুল কবির দেশ রূপান্তরকে বলেন, ‘ক্রিস্টাল মেথ আশির দশকের মাদক। এটি আমাদের দেশে অনেকেই জানেন না বলে নতুন মাদক বলে থাকেন। এটি দীর্ঘদিন ব্যবহার করলে স্নায়ুতন্ত্র ও কিডনি ক্ষতিগ্রস্ত হয়।’ নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক রাজধানীর গুলশানের এক ব্যবহারকারী দেশ রূপান্তরকে বলেন, ‘ধনাঢ্য পরিবারের ছেলেমেয়েরা ছাড়াও সরকারি-বেসরকারি উচ্চপর্যায়ের কর্মকর্তারাও অতি গোপনে এই মাদক গ্রহণ করে থাকেন। নাম-ঠিকানা ও টাকা অনলাইনের মাধ্যমে পরিশোধ করে এই মাদক বাসায় বসেই সংগ্রহ করা যায়।’
মাদক নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের কর্মকর্তারা জানান, ‘ক্রিস্টাল মেথ’ নামের এই মাদক মূলত ভারত থেকে বাংলাদেশে আসছে। এছাড়া ইউরোপের একাধিক দেশ থেকেও আকাশপথে এই মাদক আনা হচ্ছে।
দামি মাদকে ভেজাল বেশি উল্লেখ করে তারা আরও জানান, বেশি মুনাফার জন্য ‘ক্রিস্টাল মেথ’র সঙ্গে কর্নস্টার্চ, ট্যালকম পাউডার ও ময়দা মিশিয়ে থাকেন অবৈধ মাদক কারবারীরা।
মাদকের ভেজাল প্রসঙ্গে অতিরিক্ত পরিচালক হাফিজুর রহমান বলেন, ‘এখনকার মাদক কারবারিরা প্রকৃত এমফিটামিন বা মেথাফিটামিন সরবরাহ করে না। বিভিন্ন ধরনের রাসায়নিক মিশিয়ে ভোক্তাদের কাছে সরবরাহ করা হয়ে থাকে। যা ভয়ংকর পরিণতি নিয়ে আসে সেবনকারীর জীবনে।’
