উত্তরা সাভার না.গঞ্জে পোশাক শ্রমিকদের বিক্ষোভ

আপডেট : ০৭ জানুয়ারি ২০১৯, ০২:৩৮ এএম

নতুন মজুরি কাঠামো প্রত্যাখ্যান করে বেতনভাতা বাড়ানোর দাবিতে গতকাল রবিবার রাজধানীর উত্তরা, ঢাকার সাভার ও নারায়ণগঞ্জে বিক্ষোভ করেছে পোশাক কারখানার শ্রমিকরা। উত্তরার আজমপুর ও আবদুল্লাহপুর বাসস্ট্যান্ড এলাকায় অবস্থান নিয়ে ছয় ঘণ্টা সড়ক অবরোধ করে রাখে তারা। সাভারে শ্রমিকদের সঙ্গে পুলিশের সংঘর্ষ ও ধাওয়া-পাল্টাধাওয়া হয়েছে। অন্যদিকে নারায়ণগঞ্জে সাত দফা দাবিতে বিকেএমইএ ও কলকারখানা পরিদর্শন অধিদপ্তরের কার্যালয়ে শ্রমিকরা স্মারকলিপি দিয়েছে।

পুলিশ ও প্রত্যক্ষদর্শীদের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, গতকাল সকাল ৮টা থেকে দুপুর ২টা পর্যন্ত ঢাকা-ময়মনসিংহ মহাসড়কে অবস্থান নিয়ে বিক্ষোভ করে শ্রমিকরা। বিক্ষোভে হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর থেকে আবদুল্লাহপুর পর্যন্ত মহাসড়কের উভয় পাশের যান চলাচল সম্পূর্ণ বন্ধ ছিল। পরে মালিকপক্ষ ও পুলিশের আশ্বাসের পরিপ্রেক্ষিতে অবরোধ তুলে নেয় শ্রমিকরা। ওই বিক্ষোভে অংশ নেওয়া শ্রমিকরা হলো এপিএস গার্মেন্টস, আজমেরী গার্মেন্টস, টপজিন্স গার্মেন্টস, শান্তা গার্মেন্টস ও সিংকো গার্মেন্টসের মতো কয়েকটি কারখানার।

আন্দোলনরত শ্রমিকরা জানায়, সরকারি নির্দেশ অনুযায়ী তাদের বেতন ৫১ শতাংশ বাড়াতে হবে। মূল মজুরি আগের চাইতে প্রত্যেক গ্রেডে এক হাজার টাকা করে বাড়াতে হবে। প্রতি বছর শতকরা পাঁচ শতাংশ হারে বেতন বাড়ানোর পাশাপাশি বোনাস দিতে হবে প্রতি ঈদের আগে।

দক্ষিণখান এলাকার চালাবন এলাকায় শান্তা গার্মেন্টস লিমিটেডের অপারেটর শাহিনুর জানান, তারা পেটের দায়ে সড়কে নেমেছেন। তার অভিযোগ, সরকার নতুন মজুরি কাঠামো ঘোষণা করেছে। কিন্তু তাদের আশানুরূপ বেতন বাড়েনি। যেটুকু বেড়েছে, সেটাই দিচ্ছে না। মালিকরা তাদের ইচ্ছামাফিক বেতন দিচ্ছে।

শ্রমিকরা কী নিয়ে আন্দোলনে নেমেছে জানতে চাইলে কলকারখানা ও প্রতিষ্ঠান পরিদর্শন অধিদপ্তরের উপমহাপরিদর্শক জাকির হোসেন দেশ রূপান্তরকে বলেন, ‘উত্তরখানে এপিএস গ্রুপের একটি গার্মেন্টসে মজুরি বোর্ডের অতিরিক্ত কিছু সুযোগ-সুবিধাসহ বেতন দেয়। এতে অন্য গার্মেন্টসের শ্রমিকরাও সমান বেতন দাবি করে রাস্তায় নেমে আসে। আমরা ঘটনাস্থলে প্রতিনিধি পাঠিয়ে শ্রমিকদের সঙ্গে আলোচনা করে পরিস্থিতি স্বাভাবিক করেছি।’

উত্তরা (পূর্ব) মডেল থানার ওসি নূরে আলম সিদ্দিক বলেন, গতকাল সকাল থেকে উত্তরা, উত্তরখান, দক্ষিণখান, আবদুল্লাহপুরসহ বিভিন্ন এলাকা থেকে পোশাক কারখানার শ্রমিকরা রাস্তায় নেমে সড়কে বসে পড়ে। তারা দুদিন থেকেই সড়ক বন্ধ করে দেয়।

ভার্সেটাইল অ্যাপারেল প্রাইভেট লিমিটেড নামের কারখানার চেয়ারম্যান এ কে ফজলুল হক সাংবাদিকদের বলেন, ‘শ্রমিকরা আন্দোলন করবে, সেটা আমাদের জানায়নি। আমরা তাদের বলেছি, গত ২৯ নভেম্বর সরকার নতুন মজুরি কাঠামোর যে গেজেট দিয়েছে, সে অনুযায়ী আমরা শ্রমিকদের বেতনভাতা দেব। তাদের যদি কোনো অসন্তোষ দেখা দেয়, আলোচনা করে সমাধান করে নিতে পারে।’

সাভারে সংঘর্ষ : শিল্প পুলিশ ও স্থানীয়দের বরাত দিয়ে সাভার প্রতিনিধি জানান, স্ট্যান্ডার্ড গ্রুপের দুটি কারখানার প্রায় ১৫ হাজার শ্রমিক প্রতিদিনের মতো দুপুরের বিরতির পর কাজে যোগ দিতে যায়। ওই সময় বহিরাগত শ্রমিকদের একটি দল মজুরি কাঠামোতে বৈষম্যের অভিযোগ তুলে বিক্ষোভ শুরু করে। তারা শ্রমিকদের কারখানায় প্রবেশে বাধা দেয়। পরে অর্ধেক শ্রমিক কারখানায় প্রবেশ করে কাজে যোগ দেয়; বাকিরা কারখানার সামনে অবস্থান নিয়ে বিক্ষোভ অব্যাহত রাখে। এর এক পর্যায়ে বিক্ষুব্ধ শ্রমিকরা কারখানায় ইট-পাটকেল নিক্ষেপ করে ভাঙচুরের চেষ্টা চালালে শ্রমিক ও পুলিশের মধ্যে ধাওয়া-পাল্টাধাওয়া হয়। ওই সময় শ্রমিকদের দমাতে পুলিশ টিয়ার শেল, রাবার বুলেট ও জলকামান ব্যবহার এবং লাঠিচার্জে ছত্রভঙ্গ করে দেয়।

নারায়ণগঞ্জে স্মারকলিপি : সাত দফা দাবিতে নারায়ণগঞ্জে বিকেএমইএ এবং কলকারখানা ও প্রতিষ্ঠান পরিদর্শন অধিদপ্তরে স্মারকলিপি দিয়েছে রপ্তানিমুখী পোশাক কারখানা ক্রোনি গ্রুপের অবন্তী কালার টেক্স লিমিটেডের শ্রমিকরা।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত