এ সংসার যাওয়া আসার রঙ্গমঞ্চ: তোফায়েল

আপডেট : ০৭ জানুয়ারি ২০১৯, ০৬:২৭ পিএম

৯ বছর বাণিজ্য মন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব পালন করে মন্ত্রণালয় থেকে বিদায় নেওয়ার সময় দার্শনিকদের মতো করে তোফায়েল আহমেদ বলেন, ‘এই সংসার যাওয়া আসার রঙ্গমঞ্চ’। সোমবার মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তা-কর্মচারীদের কাছ থেকে আনুষ্ঠানিকভাবে বিদায় নিয়েছেন তিনি।

দুপুর ২টায় মন্ত্রণালয়ের সম্মেলনকক্ষে বসে বিদায় অনুষ্ঠানের শুরুতেই ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের কার কতদিন চাকরি রয়েছে, একেক করে জানতে চান তিনি। শুরুর প্রসঙ্গ টেনে এনে বিদায়ী বক্তব্যের শেষ দিকে তোফায়েল বলেন, ‘এই সংসার যাওয়া আসার রঙ্গমঞ্চ। সরকারি চাকরিজীবীদের মেয়াদ শেষ হলে চলে যেতে হবে। আমি সংসদে থাকব। এমপি হিসেবেই জনকল্যাণমূলক উন্নয়ন কর্মকাণ্ড বাস্তবায়ন করতে পারব।’

সম্মেলন কক্ষে ঢুকে তোফায়েল আহমেদ মন্ত্রণালয় ও তার অধীনস্থ সংস্থাগুলোর ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের দেখতে পান। তখন তিনি জুনিয়র কর্মকর্তাসহ সকল কর্মচারীদের ডেকে আনার কথা বলেন। তিনি বলেন, ঊর্ধ্বতনদের সঙ্গে সব সময়ই কথা হয়, বিদায়ও নিয়েছি তাদের কাছ থেকে। কিন্তু তৃতীয়-চতুর্থ শ্রেণির কর্মকর্তা-কর্মচারীদের সঙ্গে খুব একটা কথা হয়নি। আমি মূলত তাদের কাছ থেকে বিদায় নিতে এসেছি।

৫ বছর বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব পালনের স্মৃতিচারণ করে তিনি বলেন, ৫ দিন কম ৫ বছর ধরে এখানে কাজ করছি। আমরা সবাই একটা পরিবারের মতো ছিলাম। যাদের সঙ্গে কাজ করেছি, তারা জানেন কতটা সততার সঙ্গে, নিষ্ঠার সঙ্গে কাজ করেছি। দক্ষতার কথা বলব না।

এবারের মন্ত্রিসভায় জ্যেষ্ঠ মন্ত্রীদের বাদ পড়া প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ‘আমরা তো ছিলামই। নতুনদেরও তো জায়গা দিতে হবে। প্রধানমন্ত্রী যাদের নিচ্ছেন, তারা সৎ, পরীক্ষিত। এটা তাদের প্রাপ্য। আমরা তো সংসদ সদস্য (এমপি)। এটাই গুরুত্বপূর্ণ। সংসদ সদস্য হিসেবে আমার দায়িত্ব পালনের সুযোগ আছে’।

তিনি বলেন, নির্বাচনের আগে ৮ ডিসেম্বর যখন ভোলায় যাই, তখনই মন্ত্রণালয়ের অফিসারদের কাছ থেকে বিদায় নিয়ে গিয়েছিলাম। ১৭ ডিসেম্বর একদিনের জন্য ঢাকা এসেছিলাম, পরদিন যাওয়ার সময়ও তাদের কাছ থেকে বিদায় নিয়েছি। ভোলার নেতারা আমাকে বলেছেন, এমপি হলে মন্ত্রীও হব। আমি তখন তাদের বলেছি, এমপি-ই আমার কাছে বড়। এমপি হলেই কাজ করতে পারব।’ 

নতুন মন্ত্রিসভা সম্পর্কে তিনি বলেন, জাতীয় পার্টি বিরোধী দলে। মহাজোটের আওয়ামী লীগ ছাড়া অন্য কোন দলের কেউ মন্ত্রিসভায় নেই। এটা নতুন একটা অবস্থা। সংসদ প্রাণবন্ত হবে। প্রধানমন্ত্রীর নেতৃত্বে দেশ উন্নয়নের চরম শিখরে পৌঁছাবে।

আগামী ৫ বছরকে ‘ঐতিহাসিক’ উল্লেখ করে তোফায়েল বলেন, ২০২০ সালে বঙ্গবন্ধুর জন্মশতবার্ষিকী। পরের বছর বাংলাদেশের স্বাধীনতার সুবর্ণজয়ন্তী। এ দু’টি অনুষ্ঠান বড় করে পালিত হবে। এই পাঁচ বছরে পদ্মা সেতুসহ বড় উন্নয়ন প্রকল্পগুলো বাস্তবায়ন সম্পন্ন হয়ে যাবে। অন্যদিকে উন্নয়নশীল দেশ হিসেবে আনুষ্ঠানিকভাবে স্বীকৃতি মিলবে।

তোফায়েল আহমেদ বলেন, ‘ব্যক্তিগতভাবে আমি খুবই সৌভাগ্যবান যে মাত্র ২৮ বছর বয়সে আমি মন্ত্রী হয়েছি। ১৯৭২ সালের ১০ জানুয়ারি বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর দেশে ফিরে প্রধানমন্ত্রী হওয়ার পর ১৪ জানুয়ারি প্রতিমন্ত্রীর মর্যাদায় প্রধানমন্ত্রীর রাজনৈতিক সচিব হিসেবে আমাকে নিয়োগ দেন। ১৯৭৪ সালে জাতির জনক রাষ্ট্রপতি হওয়ার পর প্রতিমন্ত্রীর মর্যাদায় তার বিশেষ সহকারী হিসেবে আমাকে নিয়োগ দেন তিনি। ১৯৭৫ সালের ১১ জুলাইয়ের পর ২১ বছর আমি সচিবালয়ে আসিনি। ১৯৯৬ সালের ২৪ জুন বাণিজ্য ও শিল্পমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব পাওয়ার পর আমি সচিবালয়ে আসি।’

তিনি বলেন, ‘২০০৮ সালের নির্বাচনে আওয়ামী লীগের জয়লাভের পর প্রথম গঠিত মন্ত্রিসভায় আমি ছিলাম না। মাঝখানে যখন আমাকে শপথ নিতে বলা হলো, তখন আমি শপথ নিইনি। ২০১৪ সালের নির্বাচনের আগে গঠিত অন্তর্বর্তীকালীন সরকারে শিল্প এবং গৃহায়ণ ও গণপূর্ত মন্ত্রণালয়ের দায়িত্বে ছিলাম।’ 

বিদায় অনুষ্ঠানে বাণিজ্যসচিব মো. মফিজুল ইসলামসহ মন্ত্রণালয়ের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

 

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত