মানা হচ্ছে না মন্ত্রণালয়ের নির্দেশনা

রাজধানীর স্কুলে ভর্তিতে অতিরিক্ত ফি আদায়

আপডেট : ০৮ জানুয়ারি ২০১৯, ০১:৫০ এএম

নতুন শ্রেণিতে ভর্তিতে অতিরিক্ত ফি আদায়ের অভিযোগ উঠেছে রাজধানীর বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে। সরকার নির্ধারিত সীমার চেয়ে কয়েকগুণ বেশি ফি নিচ্ছে নামিদামি স্কুলগুলো। প্রতি বছরের মতো এবারও বেশিরভাগ প্রতিষ্ঠানই শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের নীতিমালা মানছে না। গতকাল সোমবার ও তার আগের দিন রাজধানীর ধানমন্ডি, মিরপুর ও বাড্ডায় বেশ কয়েকটি স্কুল ঘুরে দেখা যায়, প্লে থেকে কেজি শ্রেণিতে ৩০ হাজার এবং প্রথম থেকে দশম শ্রেণিতে ৩৫ হাজার পর্যন্ত টাকা ফি নেওয়া হচ্ছে। এ নিয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন অভিভাবকরা।

জানতে চাইলে মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা অধিদপ্তরের (মাউশি) মাধ্যমিক শাখার পরিচালক অধ্যাপক সরকার আবদুল মান্নান দেশ রূপান্তরকে বলেন, ‘ভর্তি ফি আদায়ের বিষয়টি পর্যবেক্ষণে ১১টিম কাজ করছে। অতিরিক্ত ফি নিয়ে কেউ পার পাবে না। সবাইকেই বাড়তি টাকা ফেরত দিতে হবে।’

শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের সর্বশেষ ভর্তি নীতিমালা অনুযায়ী, ঢাকা মহানগর এলাকায় এমপিওভুক্ত শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে ভর্তিতে পাঁচ হাজার টাকার বেশি নেওয়া যাবে না। আংশিক এমপিওভুক্ত স্কুলের উন্নয়ন এবং এমপিও-বহির্ভূত শিক্ষকদের বেতন-ভাতার জন্য ভর্তির সময় মাসিক বেতন, সেশন ও উন্নয়ন ফিসহ বাংলা মাধ্যমে সর্বোচ্চ ৮ হাজার টাকা এবং ইংরেজি মাধ্যমে ১০ হাজার টাকা আদায় করা যাবে। ধানমন্ডির বেসরকারি স্ট্যামফোর্ড স্কুল অ্যান্ড কলেজের ভর্তি শাখায় খোঁজ নিতে গেলে কর্তব্যরত কর্মকর্তা এ প্রতিবেদকের হাতে ভর্তি বিজ্ঞপ্তি ধরিয়ে দেন। নন-এমপিওভুক্ত এ প্রতিষ্ঠানের বিজ্ঞপ্তি ঘেঁটে দেখা যায়, প্লে থেকে কেজি শ্রেণিতে বেতন ৩ হাজার টাকাসহ মোট ভর্তি ফি ২৮ হাজার টাকা। প্রথম শ্রেণি থেকে দশম শ্রেণি পর্যন্ত বাংলা ও ইংরেজি মাধ্যমে বেতনসহ ভর্তি ফি ৩০ থেকে ৩৩ হাজার টাকা পর্যন্ত নেওয়া হচ্ছে।

জুনিয়র ল্যাবরেটরি হাই স্কুলে গেলে প্রধান শিক্ষক মো. হাবিবুল্লাহ খান দেশ রূপান্তরকে বলেন, প্লে থেকে নার্সারিতে ভর্তি ফি বেতনসহ ২৮ থেকে ৩০ হাজার এবং প্রথম থেকে নবম শ্রেণি পর্যন্ত ভর্তি ফি ৩৫ হাজার টাকা। সরকার নির্ধারিত ফি’র চেয়ে বেশি কেন নিচ্ছেন জানতে চাইলে এ শিক্ষক বলেন, ‘কিছুই করার নেই। সরকারের নির্দেশনামতো এত কম ফি নিলে প্রতিষ্ঠান বন্ধ হয়ে যাবে। আমরা তো তাও কম নিচ্ছি, অন্যরা আরও বেশি ফি নিচ্ছে।’ একই চিত্র আংশিক এমপিওভুক্ত কাকলি স্কুল অ্যান্ড কলেজেও। প্রতিষ্ঠানটির ভর্তি শাখায় গিয়ে জানা যায়, প্লে থেকে দশম শ্রেণি পর্যন্ত বাংলা মাধ্যমে ভর্তি ফি ২৯ হাজার থেকে ৩৫ হাজার টাকা পর্যন্ত।

এমপিওভুক্ত মিরপুরের মনিপুর স্কুল অ্যান্ড কলেজের চিত্রও অভিন্ন। এখানেও অতিরিক্ত ভর্তি ফি নেওয়া হচ্ছে বলে অভিযোগ করেছেন কয়েকজন অভিভাবক। বাড্ডার এমপিওভুক্ত নামি স্কুল আলাতুন্নেছা স্কুল অ্যান্ড কলেজেও বাড়তি ফি নেওয়া হচ্ছে।  সেখানে প্রথম শ্রেণি থেকে অষ্টম শ্রেণি পর্যন্ত ১২ থেকে ১৮ হাজার টাকা পর্যন্ত আদায় করা হচ্ছে। জানতে চাইলে অধ্যক্ষ শামসুল আলম বলেন, প্রতিষ্ঠানের খরচ অনেক বেশি। সরকার নির্ধারিত ফি নিলে স্কুলের এত ব্যয় বহন করা সম্ভব নয়। এ কারণেই কমিটির সঙ্গে আলোচনা করে আমরা নিজস্ব ভর্তি ফি ঠিক করেছি।

এদিকে ভর্তিতে বাড়তি ফি আদায়ের জোরালো প্রতিবাদ জানিয়েছেন কয়েকজন অভিভাবক। এক অভিভাবক বলেন, ‘সরকার অনেক কিছু বিবেচনা করে ভর্তি ফি নির্ধারণ করেছে। তার পরও এসব প্রতিষ্ঠান অতিরিক্ত টাকা আদায় করছে। আমরাও নিরুপায়। আমাদেরকে তো ভর্তি করাতে হচ্ছে। শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের উচিত এর বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া।’

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত