বৃহস্পতিবার, ২৫ জুলাই ২০২৪, ১০ শ্রাবণ ১৪৩১
দেশ রূপান্তর

বাণিজ্যযুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্রের নতুন হাতিয়ার বিশ্বব্যাংক

আপডেট : ০৯ জানুয়ারি ২০১৯, ০১:০৯ এএম

বিশ্বব্যাংকের প্রেসিডেন্ট পদ থেকে সরে দাঁড়াচ্ছেন জিম ইয়ং কিম। রয়টার্স বলছে, এখন বাণিজ্যযুদ্ধে চীনকে প্রতিহত করতে নতুন হাতিয়ার হতে পারে বিশ্বব্যাংক। চীনকে ঋণ দেওয়া কমাতে আগে থেকেই বিশ্বব্যাংককে চাপ দিচ্ছিলেন যুক্তরাষ্ট্রের কর্মকর্তারা। বেইজিংয়ের প্রভাব নিয়েও সতর্ক করেছেন। সার্বিক পরিস্থিতিতে কিমের পদত্যাগের পর নিজেদের পছন্দসই প্রেসিডেন্ট নির্বাচন করে বাণিজ্যযুদ্ধে নতুন পন্থা অবলম্বনের সুযোগ এসেছে যুক্তরাষ্ট্রের কাছে।

বিবিসির এক প্রতিবেদনে বলা হয়, গত সোমবার পদত্যাগের ঘোষণা দেন জিম ইয়ং কিম। তিনি এই অপ্রত্যাশিত পদত্যাগের কোনো কারণ উল্লেখ করেননি। তার পদত্যাগ আগামী ১ ফেব্রুয়ারি থেকে কার্যকর হবে। ৫৯ বছর বয়সী কিম ২০১২ সাল থেকে বিশ^ব্যাংকের প্রেসিডেন্টের দায়িত্ব পালন করে আসছেন। ২০১৭ সালে প্রথম মেয়াদ শেষে দ্বিতীয়বারের মতো প্রেসিডেন্ট নির্বাচিত হন তিনি। এ হিসেবে তার পদত্যাগ করার কথা ২০২২ সালে। কিন্তু মেয়াদ পূর্ণ হওয়ার আগেই পদত্যাগ করছেন।

বিশ্বব্যাংকএক বিবৃতিতে জানিয়েছে, কিম একটি ফার্মে যোগ দেবেন। সেখানে উন্নয়নশীল দেশে অবকাঠামোগত বিনিয়োগ বাড়ানোর বিষয়ে গুরুত্ব দিয়ে কাজ করবেন তিনি। পৃথক এক বিবৃতিতে কিম জানান, বিশ্বব্যাংকের মতো অসাধারণ একটি প্রতিষ্ঠানে কাজ করা অনেক বড় সম্মানের ব্যাপার। কিমের অবর্তমানে অন্তর্বর্তীকালীন প্রেসিডেন্ট হিসেবে দায়িত্ব পালন করবেন বিশ্বব্যাংকের প্রধান নির্বাহী ক্রিস্টালিনা জর্জিয়েভা।

চীনের অর্থনীতিকে চাপে রাখতে নানা পদক্ষেপ নিয়েছে ট্রাম্প প্রশাসন। ২৫ হাজার কোটি ডলারের চীনা পণ্য আমদানিতে শুল্ক আরোপ করেছে। অতিরিক্ত শুল্ক আরোপের বিষয়টি এখন বেইজিংয়ের সঙ্গে আলোচনার পরিপ্রেক্ষিতে সাময়িকভাবে মুলতবি রয়েছে।

যুক্তরাষ্ট্রের কোম্পানিগুলোয় চীনা বিনিয়োগ কমাতে ব্যবস্থা নিয়েছে ইউএস সরকার। মেধাসম্পদ ও বাণিজ্যিক গোপনীয়তা বিষয় নিয়েও চাপে রাখা হয়েছে চীনকে।

রয়টার্সের প্রতিবেদনে গতকাল বলা হয়, এ অবস্থায় কিমের পদত্যাগে এখন এসব উদ্বেগের জন্য নতুন পথ হয়ে উঠতে পারে বিশ্বব্যাংক। কারণ দাতা সংস্থাটির ১৬ শতাংশের অংশীদার যুক্তরাষ্ট্রের শেয়ারহোল্ডাররা।

সম্প্রতি তারা ব্যাংকের তহবিল বাড়াতে ১ হাজার ৩০০ কোটি ডলার দিয়েছেন। অতীতেও ঋণদাতাদের নির্বাচন করেছে যুক্তরাষ্ট্র প্রশাসন। যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সঙ্গে প্রকাশ্যে বিরোধ বরাবরই এড়িয়ে গেছেন কিম। কিন্তু জলবায়ু পরিবর্তনের বিষয়ে ডোনাল্ড ট্রাম্পের দৃষ্টিভঙ্গির সঙ্গে কিমের নীতিগত মতভেদ ছিল।

অন্যদিকে বিশ্বব্যাংকের প্রেসিডেন্ট হিসেবে দায়িত্ব পালন কিমের জন্যও সহজ ছিল না। ২০১২ সালে নাইজেরিয়া ও কলম্বিয়ার প্রতিযোগিতা সামাল দিতে হয়েছে তাকে। উন্নয়নশীল দেশগুলো এ ধরনের প্রতিযোগিতায় শামিল হলে তা মোকাবিলা খুবই কঠিন।

কিমের শাসনামলেই যুক্তরাষ্ট্র ও চীনের মধ্যকার দ্বন্দ্ব মোকাবিলা করতে হয়েছে বিশ্বব্যাংককে। গত মাসে ইউএস ট্রেজারি আন্ডার সেক্রেটারি ডেভিড ম্যালপাস কংগ্রেসকে জানিয়েছেন, চাপ দেওয়ার পর চীনকে ঋণ দেওয়ার পরিমাণ কমাতে সম্মত হয়েছে বিশ্বব্যাংক। সে মোতাবেক চীনকে গত বছর বিশ্বব্যাংক ২০১৭ সালের চেয়ে প্রায় ৩০ শতাংশ কম ঋণ দিয়েছে।

আগামীতে বিশ^ব্যাংক চীনের উন্নয়নমূলক কাজে বেশি সহায়তা দিলে বিরোধ আরও বাড়তে পারে। ঐতিহ্যগত উন্নয়নমূলক ঋণের প্রথম সংস্করণ মূলত মিডল কিংডমের বেল্ট ও রোড প্ল্যান। এখন কিমের পদত্যাগে যুক্তরাষ্ট্র, চীনের বাণিজ্যযুদ্ধে বিশ^ব্যাংকের ভূমিকা আরও জোরদার হবে বলে ধারণা বিশেষজ্ঞদের।

সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত আলোচিত