মাশরাফীর আগুনে কুমিল্লা পুড়ে ছাই

আপডেট : ০৯ জানুয়ারি ২০১৯, ০১:২৬ এএম

কুমিল্লা ভিক্টোরিয়ান্সের সঙ্গে মাশরাফী বিন মোর্ত্তজার একটা পুরনো হিসাব-নিকাশ ছিল। যারা ভেবেছিলেন গেল বিপিএলের কোয়ালিফায়ার জিতে তা চুকেবুকে গেছে তারা ভুল ভেবেছিলেন! ওটা ছিল দলগত। এবার যেন এটা একেবারেই ব্যক্তিগত। তা নইলে কি?

চলমান বিপিএলের প্রথম হেভিওয়েট ম্যাচটা ছিল গতকাল, বর্তমান চ্যাম্পিয়ন রংপুর রাইডার্স বনাম সাবেক চ্যাম্পিয়ন কুমিল্লা ভিক্টোরিয়ান্সের। কিন্তু ওটা শুরু থেকেই হয়ে গেল মাশরাফী বনাম কুমিল্লার। ফলাফল মাশরাফীর আগুনে পুড়ে ছাই কুমিল্লা। রংপুর অধিনায়ক টি-টোয়েন্টির ক্যারিয়ারসেরা বোলিং করলেন। ৪-১-১১-৪। বিপিএলে নিজেদের ইতিহাসের সর্বনিম্ন ৬৩ রানের লজ্জার রেকর্ড কুমিল্লার। হেরেছে ৯ উইকেটে।

২০১৫-১৬ মৌসুমে কুমিল্লায় যোগ দিয়েই ফ্র্যাঞ্চাইজিটিকে প্রথমবার শিরোপা এনে দিয়েছিলেন বিপিএলের সবচেয়ে সফল অধিনায়ক মাশরাফী। পরের মৌসুমে দলটির সঙ্গে সম্পর্ক প্রচণ্ড তিক্ত হয়ে যায়। গেল মৌসুমে পাড়ি জমান রংপুরে এবং সেখানে আবার চ্যাম্পিয়ন। গতবার লিগ পর্বের দুই দেখায়ই হেরেছিলেন। এবার প্রথম দেখায় ক্রিস গেইলের মতো বিধ্বংসী ব্যাটসম্যানকে দলে রেখেও টস জিতে আগে ফিল্ডিং নিলেন মাশরাফী। এরপর নিজ হাতে কুমিল্লার ইনিংস গুঁড়িয়ে দিলেন। তখনই নানা মুখে উঠে আসে পুরনো সেইসব গল্প।

কিন্তু এটা আসলে একটা ক্রিকেট ম্যাচ। মাশরাফীও স্বীকার করবেন না কোনো অতীতের প্রভাবের কথা। কুমিল্লা তারায় তারায় ভরা। শিরোপা জেতার দাবিদার। কিন্তু কেউ তো ভাবেনি বিপিএল ইতিহাসেরই চতুর্থ সর্বনিম্ন রানের রেকর্ডটা এদিন তাদের ভাগ্যে লেখা।

প্রথম ওভারে উইকেটশূন্য ছিলেন মাশরাফী। দ্বিতীয় ওভারে নিলেন একটি।

তৃতীয় ওভারে দুটি। চতুর্থ ওভারে আরেকটি। এবং তা উইকেট মেডেন। প্রতি ওভারে আরও ভয়ংকর হয়ে উঠেছেন মাশরাফী। এই পেসার প্রথম ৫ উইকেটের ৪টি তুলে নিয়েছেন। অন্যটি শফিউল ইসলামের। তাতে ১৮ রানে ৫ উইকেট হারিয়ে বিপিএলের সর্বনিম্ন ৪৪ রানকে চোখ রাঙায় কুমিল্লার ইনিংস। তামিম ইকবাল (৪), ইমরুল কায়েস (২), ইভিন লুইস (৮) আর স্টিভেন স্মিথ (০) ব্যাটিং অর্ডারের প্রথম চার ব্যাটসম্যানই টানা স্পেলে মাশরাফীর শিকার। ২০১২ সালে আয়ারল্যান্ডের বিপক্ষে ১৯ রানে ৪ উইকেট কুড়ি ওভারে এতদিন সেরা ছিল মাশরাফীর। বিপিএলে প্রথম ৪ উইকেট এদিন।

মাশরাফীর স্লোয়ারকে তুলে দিয়ে ফিরেছেন তামিম। ইমরুল প্রথমে আঙুলে ব্যথা পেয়েছেন ওই পেসারের বলে। এরপর কাটারে ক্যাচ দিয়ে ফিরেছেন। একই ধরনের বলে লুইসকে শিকার করেছেন মাশরাফী। আরেকটা গতি কমিয়ে আনা এক বলে অস্ট্রেলিয়ার সাবেক অধিনায়ক স্টিভেন স্মিথ সহজ ক্যাচ দিয়ে ফিরেছেন! কী বড় বড় সব উইকেট! এমন ঝড়ের মুখে পড়ার পর সেই দলের আর কী থাকে!

মাশরাফী দীর্ঘ ব্যাটিং লাইনআপের মেরুদণ্ড ভেঙে দেওয়ার পর কুমিল্লা লজ্জার রেকর্ড এড়িয়েছে শহিদ আফ্রিদিতে ভর করে। ওই ইনিংসে কেবল তিনি দুই অঙ্ক পেরিয়েছেন। ২৫ রান তাই অমূল্য। কুমিল্লার নিচের দিকটা গুটিয়ে দেওয়ার কাজ করেছেন স্পিনার নাজমুল ইসলাম অপু। ৩ উইকেট তার। শফিউলের ২ উইকেট।

প্রথম দুই ম্যাচে দর্শক হয়ে থাকা গেইলের ব্যাটিং দেখতে এরপর মিরপুর শেরেবাংলা স্টেডিয়াম নড়েচড়ে বসে। কিন্তু ক্রিকেটদেব সম্ভবত এদিনকার পুরোটা আলো মাশরাফীর জন্য বরাদ্দ রেখেছিলেন। পাঁচ বলে ১ রান। শেষ বলটা সময়ের হেরফেরে ব্যাটে লাগিয়ে উইকেটকিপারকে তুলে দিয়েছেন ‘দ্য ইউনিভার্স বস’। তাহলে তোলাই থাকল ‘গেইল শো’। আবু হায়দার রনি উৎসব করে নিয়েছেন এমন মহামূল্যবান উইকেট এতটা সস্তায় তুলে নিয়ে।

কিন্তু মাত্র ৬৩ রান পুঁজি করে আর কোনো উৎসবের সুযোগ মেলেনি কুমিল্লার। মেহেদী মারুফ (৩৬*) ও রাইলি রুশো (২০*) ৫৩ রানের অবিচ্ছিন্ন দ্বিতীয় উইকেট জুটি নিয়ে জয়ে নোঙর করেন। হার দিয়ে এবার বিপিএল শুরু করা রংপুর তিন ম্যাচে দুই জয় তুলে নিয়ে চাপ কমাল। আর প্রথম খেলায় জিতেই পরেরটিতে বিধ্বস্ত কুমিল্লা।

সংক্ষিপ্ত স্কোর

কুমিল্লা ভিক্টোরিয়ান্স : ৬৩/১০, ১৬.২ ওভার (আফ্রিদি ২৫, লুইস ৮, সাইফউদ্দিন ৭, মেহেদী ৬, তামিম ৪; মাশরাফী ৪/১১, নাজমুল ৩/২০, শফিউল ২/৮, ফরহাদ রেজা ১/১১)।

রংপুর রাইডার্স : ৬৭/১, ১২ ওভার (মারুফ ৩৬, রুশো ২০, গেইল ১; আবু হায়দার ১/১১)।

ফল : রংপুর রাইডার্স ৯ উইকেটে জয়ী।

ম্যাচসেরা : মাশরাফী বিন মোর্ত্তজা।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত