নতুন দায়িত্ব নিয়েই আর্থিক খাত সংস্কারের ঘোষণা দিয়েছেন অর্থমন্ত্রী আ হ ম মুস্তফা কামাল। গতকাল মঙ্গলবার রাজধানীর শেরেবাংলা নগরে পরিকল্পনা মন্ত্রণালয়ে শেষ অফিস করার পর সাংবাদিকদের সামনে এ কথা বলেন তিনি। এদিন আনুষ্ঠানিকভাবে আগের অফিস থেকে বিদায় নেন সাবেক এই পরিকল্পনামন্ত্রী।
মুস্তফা কামাল বলেন, ‘আমি মনে করি, আর্থিক খাতের শৃঙ্খলা ফিরিয়ে আনতে সবচেয়ে সহজ উপায় হচ্ছে সংস্কার। আমরা যেসব জায়গায় দীর্ঘদিন ধরে হাত দিইনি, অনেক আইন আছে ২০১৩ সালের, ১৯৯৪ সাল পর্যন্ত। এখন ফোর্থ
ইন্ডাস্ট্রিয়াল রেভ্যুলেশন চলমান। এ বিপ্লবে সেসব আইন কতটা চলমান? এজন্য সংস্কার করা হবে।’
এদিন এনইসি সম্মেলনকক্ষে পরিকল্পনা বিভাগ ও কমিশনের কর্মকর্তাদের সঙ্গে এক বৈঠকে মিলিত হন অর্থমন্ত্রী। এরপর পরিকল্পনা মন্ত্রণালয়ে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে তিনি বলেন, ‘একটি জায়গায় আমাদের বিতর্ক চলছেই যে, আর্থিক খাত খারাপ। আর্থিক খাতের অবস্থা ভালো নয়। আমার বিশ্বাস, এটা ততটা খারাপ না। তাহলে অর্থনীতিতে এ গতি থাকত না। যদি কোনো দেশের আর্থিক খাত এতই খারাপ হবে, ব্যাংকিং খাত এতই খারাপ হবে অথবা ফিন্যান্সিয়াল সেক্টর ততই খারাপ হবে। যেভাবে বলা হচ্ছে ততটা খারাপ হলে দেশের অর্থনীতির গতি আসে কোথা থেকে? উন্নয়ন কেমন করে হয়, জিডিপির প্রবৃদ্ধি কেমন করে হয়? এটা হতে পারে না। আমার বিশ্বাস, কিছুটা হয়তো ব্যত্যয় থাকতে পারে। কিন্তু যেভাবে শুনি, সেরকমভাবে হয়তো নাও হতে পারে। যদি থাকে আমরা সিদ্ধান্ত নেব কীভাবে সমাধান দিতে পারি।’
বাজেটের বিষয়ে অর্থমন্ত্রী বলেন, ‘বাজেট তো শুধু আমাদের আয়-ব্যয়ের হিসাব না। অবস্থান বিবেচনা করে বাজেটে এ বছরে কত থাকবে, আগামী বছর কত থাকবে এবং আগামী পাঁচ বছর পরে কী হবে, তার কথা থাকবে। দেশে বাজেটের বড় বিষয় হলো রাজস্ব আহরণ।’ এ ক্ষেত্রে আপনার কী ধরনের পদক্ষেপ থাকবে জানতে চাইলে মন্ত্রী বলেন, ‘আমাদের ট্যাক্স, জিডিপির রেশিও অনেক কম। আমাদের রাজস্ব আহরণ বৃদ্ধি করতে হবে। সেজন্য সবাইকে করের আওতায় নিয়ে আসতে হবে। খুব দ্রুত এটা নিয়ে বসব।’
তিনি বলেন, ‘কোন খাতে কত রেট করলে ম্যাক্সিমাম (সর্বোচ্চ) রেভিনিউ জেনারেট করতে পারব। কিন্তু কাউকে হার্ম (ক্ষতি) করলাম না, যারা ট্যাক্স দেবে না, তাদের ক্ষতিগ্রস্ত না করে, কতটা ট্যাক্স আদায় করলে মঙ্গলজনক, সেই কাজটি আমরা করব। একদিকে ট্যাক্স বেশি আহরণ করতে হবে, আরেক দিকে করের হার কমাতে হবে। যদি করের হার কমালে আহরণ বেশি হয়, তাহলে সে কাজটি আমরা করব।’
বেসরকারি খাতে সুযোগ-সুবিধা দেওয়ার আভাস দিয়ে মুস্তফা কামাল বলেন, ‘ব্যবসায়ীরা যদি সুযোগ-সুবিধা পায়, কস্ট অব বিং বিজনেস কম রাখতে পারি, ইউজ অব বিং বিজনেস আমরা যদি ভালো রাখতে পারি, এতে শুধু দেশীয় বিনিয়োগই নয়, বিদেশের অনেক বিনিয়োগও পাব।’
