বাসে চড়ে স্মৃতিসৌধে মন্ত্রীরা

আপডেট : ০৯ জানুয়ারি ২০১৯, ০৩:১১ এএম

টানা তৃতীয়বারের মতো সরকার গঠন উপলক্ষে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের প্রতি শ্রদ্ধা নিবেদন করেন। পরে মন্ত্রিসভার সদস্যদের নিয়ে তিনি শ্রদ্ধা জানান।

এরপর নতুন মন্ত্রিপরিষদের সদস্যরা ধানমন্ডি ৩২ থেকে বাসে করে স্মৃতিসৌধে যান। সময় বাঁচানো এবং গাড়িবহর কমানোর জন্যই এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। আজ বুধবার মন্ত্রীরা টুঙ্গিপাড়ায় জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের কবরে শ্রদ্ধা নিবেদন করতে যাচ্ছেন বাসে চড়েই। মন্ত্রিপরিষদ সদস্যদের বাসে চড়ে এভাবে যাওয়ার ঘটনা এটাই প্রথম। 

জানা গেছে, মন্ত্রীরা চারটি বাসযোগে সাভারে জাতীয় স্মৃতিসৌধে শ্রদ্ধা নিবেদন করেন। আসনের সংকুলান না হওয়ায় বাসের ভেতরে অতিরিক্ত আসন পেতে বসে থাকতে দেখা যায়।

এ ব্যাপারে মন্ত্রিপরিষদ সচিব শফিউল আলম দেশ রূপান্তরকে বলেন, জাতীয় স্মৃতিসৌধে শ্রদ্ধা নিবেদনের জন্য মন্ত্রীদের বাসে করে যাওয়ার বিষয়ে মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ ব্যবস্থা করেছিল। টুঙ্গিপাড়ায়ও মন্ত্রীদের বাসে করে যাওয়ার জন্য ব্যবস্থা করা হয়েছে।

মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ প্রতিমন্ত্রী আশরাফ আলী খান খসরু গতকাল দেশ রূপান্তরকে বলেন, আজ সকাল ৭টায় জাতীয় সংসদ ভবনের মিডিয়া সেন্টারের সামনে থেকে সদস্যরা রওনা দেবেন এবং শ্রদ্ধা নিবেদন শেষে ওই বাসেই ফিরে আসবেন। নিরাপত্তাজনিত কারণে প্রধানমন্ত্রী হেলিকপ্টারে যাবেন।

সকালে প্রধানমন্ত্রী শ্রদ্ধাঞ্জলি অর্পণের পর স্বাধীন বাংলাদেশের স্থপতি বঙ্গবন্ধুর প্রতি শ্রদ্ধা প্রদর্শনের অংশ হিসেবে সেখানে কিছু সময় নীরবে দাঁড়িয়ে থাকেন।

সাভার প্রতিনিধি : সাভারের জাতীয় স্মৃতিসৌধে শহীদদের স্মরণে ফুল দিয়ে শ্রদ্ধা জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। এ সময় মন্ত্রিপরিষদের ২৪ মন্ত্রী, ১৯ প্রতিমন্ত্রী ও তিনজন উপমন্ত্রী তার সঙ্গে উপস্থিত ছিলেন। মঙ্গলবার বেলা ১১টা ৫ মিনিটে স্মৃতিসৌধে শ্রদ্ধা নিবেদন করেন প্রধানমন্ত্রী। এ সময় বিউগলে বেজে ওঠে করুণ সুর। তিন বাহিনীর একটি সুসজ্জিত দল গার্ড অব অনার প্রদান করে।

পরে আওয়ামী লীগ সভাপতি হিসেবে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা দলের নবগঠিত মন্ত্রিসভার সদস্যদের সঙ্গে নিয়ে জাতীয় স্মৃতিসৌধের শহীদ বেদিতে আরও একবার পুষ্পার্ঘ্য অর্পণের মাধ্যমে জাতির বীর সন্তানদের প্রতি শ্রদ্ধা নিবেদন করেন। এ সময় প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টাবৃন্দ, জাতীয় সংসদের চিফ হুইপ আ স ম ফিরোজ ও হুইপবৃন্দ, আওয়ামী লীগের সংসদীয় দলের সদস্যগণ এবং কেন্দ্রীয় নেতারা উপস্থিত ছিলেন। পরে সবাই দাঁড়িয়ে কিছু সময় নীরবতা পালন করে শহীদদের আত্মার মাগফিরাত কামনা করেন।

এরপর জাতীয় স্মৃতিসৌধের পরিদর্শন বইয়ে স্বাক্ষর করে প্রধানমন্ত্রী বেলা ১১টা ২০ মিনিটে স্মৃতিসৌধ এলাকা ত্যাগ করেন।

এদিকে প্রধানমন্ত্রীর আগমন উপলক্ষে সকাল থেকেই স্মৃতিসৌধ এলাকাসহ ঢাকা-আরিচা মহাসড়ক নিরাপত্তার চাদরে ঢেকে দেওয়া হয় বলে জানিয়েছেন ঢাকা জেলার অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (অপরাধ) সাইদুর রহমান।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত