আমদানি বিল বকেয়া থাকলে ব্যাংককে জরিমানা

আপডেট : ০৯ জানুয়ারি ২০১৯, ০৩:৩০ এএম

আমদানি বিলের বিপরীতে স্বীকৃতি দিয়েও যথাসময়ে মূল্য পরিশোধ করছে না অনেক ব্যাংক। এতে দেশীয় ব্যাংকব্যবস্থা নিয়ে বিদেশে আস্থাহীনতা তৈরি হচ্ছে। এমন পরিস্থিতিতে সুনির্দিষ্ট কারণ ছাড়া কোনো ব্যাংকের স্বীকৃত বিল বকেয়া থাকলে জরিমানা করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে বাংলাদেশ ব্যাংক। গতকাল মঙ্গলবার ব্যাংকগুলোর প্রধান নির্বাহীদের কাছে পাঠানো এক চিঠিতে এ কথা জানানো হয়।

প্রাথমিকভাবে কোন ব্যাংকের কত টাকা বকেয়া আছে সে বিষয়ে তথ্য চেয়ে চিঠি দেওয়া হয়েছে। এর আগে স্বীকৃত বিল বকেয়া না রাখতে কেন্দ্রীয় ব্যাংক থেকে বিভিন্ন সময় সতর্ক করা হলেও তা মানা হচ্ছে না।

ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালকদের কাছে পাঠানো চিঠিতে বলা হয়, সাম্প্রতিক সময়ে আমদানি বিল মূল্যে স্বীকৃতি দেওয়ার পরও যথাসময়ে পরিশোধ না করার অভিযোগ পাওয়া যাচ্ছে, যা অনভিপ্রেত। এ অবস্থায় ২০১৮ সালের ৩১ ডিসেম্বর পর্যন্ত স্বীকৃত যেসব আমদানি বিল মূল্য অপরিশোধিত রয়েছে, তা আগামী ১৩ জানুয়ারির মধ্যে কেন্দ্রীয় ব্যাংককে জানাতে হবে।  চিঠির সঙ্গে দেওয়া ছকে বকেয়া বিলের বিভিন্ন তথ্যের পাশাপাশি বকেয়া থাকার সুনির্দিষ্ট কারণ উল্লেখ করতে বলা হয়েছে।

বাংলাদেশ ব্যাংকের একজন কর্মকর্তা বলেন, বিশ্বব্যাপী ব্যাংকিং ব্যবসা চলে আস্থার ওপর। দেশীয় অনেক ব্যাংক গ্রাহকের আমদানির বিপরীতে বিদেশি রপ্তানিকারকের ব্যাংক ডকুমেন্টে স্বীকৃতি দিয়েও টাকা পরিশোধ করছে না, যা ব্যাংক ব্যবস্থাকে ভাবমূর্তি সংকটে ফেলছে। তিনি বলেন, আমদানি বিল বকেয়া না রাখতে বিভিন্ন সময় ব্যাংকগুলোকে সতর্ক করা হয়েছে। এখন আর সতর্ক না করে জরিমানার সিদ্ধান্ত হয়েছে।

স্বীকৃত বিল বকেয়া থাকার বিষয়ে ২০১৪ সালে একটি সার্কুলার জারি করে বাংলাদেশ ব্যাংক। তাতে বলা হয়, কোনো কোনো ব্যাংক আমদানি ঋণপত্রের বিপরীতে বিলের মূল্য পরিশোধে বিলম্ব করছে বলে অভিযোগ আসছে। এতে ব্যাংকব্যবস্থার ভাবমূর্তি ক্ষুণ হওয়ার পাশাপাশি সুদ পরিশোধসহ বিদেশি ব্যাংকের ইনফরমেশন ব্যয় বাড়ছে। এটি আমদানিকে ব্যয়বহুল করছে। এতে পণ্যের দামের ওপর বিরূপ প্রভাব পড়ছে। এমন পরিস্থিতিতে আমদানি ঋণপত্রের বিপরীতে সরবরাহকারীর বিলের স্বীকৃত মূল্য যথাসময়ে পরিশোধ করার জন্য ব্যাংক কোম্পানি আইন, ১৯৯১-এর ৪৫ নম্বর ধারায় অর্পিত ক্ষমতাবলে ব্যাংকগুলোকে নির্দেশ দেওয়া হয়। তা পালনে ব্যর্থ হলে আইনের ১০৯(৭) নম্বর ধারার আওতায় জরিমানা আরোপ করা হবে বলে সতর্ক করা হয়।

স্বীকৃত বিল বলতে বোঝায়, কোনো ব্যক্তি আমদানি বা রপ্তানি করলে সংশ্লিষ্ট নথি ব্যাংকের কাছে আসার পর যাচাই-বাছাই শেষে গ্রাহকের অনুকূলে পাওনা টাকা ব্যাংক থেকে আদায় করে দেওয়ার নিশ্চয়তা দেওয়া। নির্ধারিত সময়ে গ্রাহক টাকা পরিশোধ না করলে ব্যাংক মধ্যস্থতা করে। কোনো কারণে গ্রাহক অর্থ পরিশোধে ব্যর্থ হলে স্বীকৃতিদাতা ব্যাংক তা পরিশোধ করবে। আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃত এ পদ্ধতি অনেক ব্যাংক ঠিকভাবে পরিপালন করছে না। আগে থেকে এ প্রবণতা থাকলেও সম্প্রতি তা বৃদ্ধি পেয়েছে বলে জানা গেছে।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত