মঞ্চ তৈরি করে দিয়েছিলেন বোলাররা। খুলনা টাইটান্সকে টি-টোয়েন্টিতে বলার মতো স্কোরও গড়তে দেয়নি রাজশাহী কিংসের মোস্তাফিজুর রহমান, ইসুরু উদানারা। পরে ছোট্ট লক্ষ্য তাড়া করতে নেমে মেহেদী হাসান মিরাজ ও মুমিনুল হক সেটিকে আরো মামুলি বানিয়ে ফেললেন। দুজনের দাপুটে ব্যাটিংয়ে বাংলাদেশের প্রিমিয়ার লিগে প্রথম জয়ের দেখা পেল রাজশাহী কিংস।
মিরপুর শেরে বাংলা জাতীয় স্টেডিয়ামে টস জিতে আগে ব্যাটিং করে ৯ উইকেটে ১১৭ রানের বেশি করতে পারেনি খুলনা। ১১৮ রানের লক্ষ্য রাজশাহী পেরিয়ে যায় ৭ উইকেট হাতে রেখে। ৭ বল বাকি থাকতেই জয় নিশ্চিত করে দলটি। একই সঙ্গে ভুলে প্রথম ম্যাচে হারের দুঃখ। খুলনাকে অবশ্য টানা তিন হারের বেদনায় পুড়তে হয়।
বিপিএলে এবার শুরু থেকেই লো-স্কোরিং ম্যাচ হয়েছে বেশ কিছু। তাই ১১৮ রানের লক্ষ্য তাড়া করে রাজশাহী সহজেই জিতবে এমনটা নিশ্চিত ছিলেন না কোনো নিরপেক্ষ দর্শক। কিন্তু খুলনার ব্যাটসম্যানরা ব্যর্থ হলেও রাজশাহীর ব্যাটাররা খেললেন দারুণ।
ব্যাটিং অর্ডারে এদিন উপরে উঠে এলেন রাজশাহী অধিনায়ক মিরাজ। এশিয়া কাপে জাতীয় দলের হয়ে ওপেন করেছিলেন ভারতের বিপক্ষে। এদিন হাফিজ ফিরে যাওয়ার পর মিরাজ ব্যাটিং অর্ডারে তিন নম্বরে তুলে আনলেন নিজেকে। সব ধরনের টি-টোয়েন্টি মিলে এই অফ স্পিনার পেলেন ক্যারিয়ারের প্রথম ফিফটি।
দ্বিতীয় উইকেট জুটিতে তাকে যোগ্য সঙ্গী দিয়েছেন মুমিনুল হক। এই দুজনের ৮৯ রানের জুটিতেই জয় নিশ্চিত হয়ে যায় রাজশাহীর। মুমিনুল পল স্টার্লিংয়ের শিকার হয়ে ফেরার আগে ৪৩ বলে চার বাউন্ডারিতে ৪৪ রান করেন।
দলকে জয় থেকে ৯ রান দূরে রেখে ফেরেন মিরাজও। জাকির হাসানের বলে বোল্ট হন রাজশাহী অধিনায়ক। ৪৫ বলে নিজের ৫১ রানের ইনিংসটি তিনি সাজান ৬ চার ও ১ ছক্কায়। রাজশাহীর বাকি কাজ সারেন সৌম্য সরকার (১১) ও এভিন লুইস (১)।
এর আগে প্রথমে ব্যাট করতে নামা খুলনার দুই ওপেনার জুনায়েদ সিদ্দিকী ও পল স্টার্লিংয়ের শুরুটা খারাপ ছিল না। প্রথম ৪ ওভারে ৩৩ রান যোগ করেন দুজন। কিন্তু পর পর দুই ওভারে এই দুজনের বিদায়ের পরই পথ হারায় খুলনা।
১৬ রান করা স্টার্লিংকে ফেরান মোস্তাফিজুর রহমান। ১৪ বলের ইনিংসে একটি করে চার ও ছক্কা হাঁকান তিনি। উদানার বলে ফেরার আগে ১৮ বলে ৪ চারে ২৩ রান করেন জুনায়েদ।
তিন নম্বরে খেলতে নেমে জহুরুল ইসলাম অমি স্থায়ী হতে পারেননি। মাত্র ১ রান করে আরাফাত সানির শিকার হন তিনি। মাহমুদউল্লাহ থিতু হতে লড়ছিলেন। কিন্তু ১৮ বলে ১১ রান করে তিনি এলবিডব্লিউ হন মোস্তাফিজের বলে। ফলে ৬৪ রানে ৪ উইকেট হারায় খুলনা।
পঞ্চম উইকেট জুটিতে আরিফুল হক ও ডেভিড মালান মিলে জুটি গড়ার চেষ্টা করছিলেন। ভালোই খেলছিলেন দুজন। কিন্তু ১২ রান করা আরিফুলকে লুইসের হাতে ক্যাচ বানান আফগান লেগি কায়েস আহমেদ। দুজনের জুটিটা তাই ২৮ রানের বেশি হয় না। মালানও ফেরেন ২২ রান করে। সৌম্য সরকারের বলে লুইসের হাতে ক্যাচ হন তিনি।
এরপর ১৪ রান করা ডেভিড উইসেকে ফেরান উদানা। শরিফুল রান আউটের শিকার হন। আর শেষ বলে শুভাশিসের উইকেট তুলে নেন উদানা।
সর্বাধিক ৩ উইকেট নেন উদানা। ২ উইকেট নেন মোস্তাফিজ। ১টি করে উইকেট নিয়েছেন আরাফাত সানি, কায়েস আহমেদ ও সৌম্য সরকার। বল হাতে দারুণ পারফরম্যান্সের জন্য সেরার পুরস্কার হাতে উঠে ইউসু উদানার।
সংক্ষিপ্ত স্কোর
খুলনা টাইটান্স : ১১৭/৯ (২০ ওভার) (স্টার্লিং ১৬, জুনায়েদ ২৩, মালান ২২, উইসে ১৪; উদানা ৩/১৫, মোস্তাফিজ ২/১৮)।
রাজশাহী কিংস : ১১৮/৩ (১৮.৫ ওভার) (মুমিনুল ৪৪, মিরাজ ৫১, সৌম্য ১১*; তাইজুল ১/২২, জহির ১/১৮, স্টার্লিং ১/৯)।
ফল : রাজশাহী কিংস ৭ উইকেটে জয়ী।
ম্যাচ সেরা : ইসুরু উদানা।
