নির্বাচনের আগে থেকেই চালের দাম বাড়ছে। বর্তমানে চালের দাম আগের সপ্তাহের তুলনায় কেজিপ্রতি দেড় থেকে দুই টাকা বেড়েছে। এই অবস্থায় খাদ্যমন্ত্রী সাধন চন্দ্র মজুমদার আজ বৃহস্পতিবার চালকল মালিকদের সঙ্গে বৈঠক করবেন। সকালে খাদ্য মন্ত্রণালয়ে এ বৈঠক অনুষ্ঠিত হবে।
খাদ্য অধিদপ্তরের মহাপরিচালক আরিফুর রহমান অপু দেশ রূপান্তরকে বলেন, ‘কয়েকটি সংবাদ মাধ্যমে চালের দামবৃদ্ধির খবর ছাপা হয়েছে। বাস্তবে চালের দাম বাড়েনি। এই অবস্থায় খাদ্যমন্ত্রী মিল মালিকদের সঙ্গে বৈঠক করবেন। বৈঠকে মিল মালিকরা ছাড়াও খাদ্য মন্ত্রণালয় ও খাদ্য অধিদপ্তরের কর্মকর্তারা উপস্থিত থাকবেন।’
গত সোমবার নতুন সরকারের মন্ত্রীরা শপথ গ্রহণের পর গত মঙ্গলবার দায়িত্ব পালন শুরু করেছেন। দায়িত্ব পালনের প্রথম দিনই খাদ্যমন্ত্রী সাধন চন্দ্র মজুমদারকে চালের দামবৃদ্ধি নিয়ে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাব দিতে হয়েছে। তিনি সাংবাদিকদের বলেছিলেন, ‘খাদ্য মন্ত্রণালয় অনেক বড় মন্ত্রণালয়। এটা খুবই সেনসিটিভ মন্ত্রণালয়। চালের দাম দুই টাকা কমলেও দোষ, দুই টাকা বাড়লেও দোষ। এই অবস্থায় প্রত্যেকটি জেলার চালকল মালিক সমিতির প্রেসিডেন্ট-সেক্রেটারি ও চাল ব্যবসায়ী সমিতির নেতাদের সঙ্গে আমি ১০ তারিখে (জানুয়ারি) বসব।’
হঠাৎ করেই নতুন বছরের শুরুতে ধান ও চালের বাজার অস্থিতিশীল হয়ে উঠেছে। মান ভেদে ধানের দাম মণে বেড়েছে ১০০ থেকে ১২০ টাকা। আর চালের দাম ৫০ কেজির বস্তায় বেড়েছে ১০০ থেকে ৩০০ টাকা পর্যন্ত। সে হিসাবে নতুন বছরে কেজিতে ধানের দাম বেড়েছে আড়াই থেকে ৩ টাকা। আর চালের দাম কেজিতে বেড়েছে ২ থেকে ৪ টাকা।
দেশে চালের দাম বাড়তে শুরু করার সঙ্গে সঙ্গেই ভারত থেকে চার আমদানরি পরিমাণ বৃদ্ধি পেতে শুরু করেছে। অথচ গত বোরো মৌসুমে চালের বাম্পার ফলনের পর সরকার চাল আমদানি নিরুৎসাহিত করতে ২৮ ভাগ শুল্ক কর আরোপের সিদ্ধান্ত জানায়। এর পর থেকেই বিভিন্ন বন্দর দিয়ে চাল আমদানি বন্ধ হয়ে যায়। হিলি স্থলবন্দরের জনসংযোগ কর্মকর্তা দেশ রূপান্তরকে জানান, গত ৭ জুন চাল আমদানিতে শুল্ক হার ৩ শতাংশ থেকে বাড়িয়ে ২৮ শতাংশ করার পর চাল আমদানি শূন্যের কোঠায় নেমে আসে। মাঝে-মধ্যে দু-এক ট্রাক চাল আমদানি করা হতো। তবে গত কয়েকদিন ধরে চালের আমদানি বেড়েছে।
