তামাক চাষে লামায় ঝুঁকিতে শস্য উৎপাদন

আপডেট : ১০ জানুয়ারি ২০১৯, ০২:২৯ এএম

কৃষিজমিতে ব্যাপক হারে তামাক চাষ বাড়ায় বান্দরবানের লামায় ঝুঁকিতে পড়েছে খাদ্যশস্য উৎপাদন। অতিরিক্ত রাসায়নিক সার ও বিষ ব্যবহারে দীর্ঘ মেয়াদে উৎপাদনশীলতা হারাচ্ছে জমি। চলতি মৌসুমে লামা উপজেলা সদর এবং আশপাশের এলাকাগুলোয় প্রায় ৪ হাজার ৮৮৭ একর জমিতে তামাক চাষ শুরু করেছেন বিভিন্ন কোম্পানির তালিকাভুক্ত চাষিরা।

তামাক কোম্পানিগুলোর তথ্য অনুযায়ী, জমির পরিমাণ পাঁচ হাজার একরের কাছাকাছি হলেও তাদের হিসাবের বাইরে আরো প্রায় এক হাজার একর জমিতে তামাক চাষ হবে। পরে খুচরা ব্যবসায়ীরা কৃষকদের কাছ থেকে তামাক কিনে তা বিভিন্ন কোম্পানিতে সরবরাহ করবেন। খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, লামা উপজেলার মাতামুহুরী নদীর দুই পারে তামাক চাষে বেশি ফলনের আশায় চাষিরা ইউরিয়া সার প্রয়োগ করেন। তামাক কোম্পানিগুলোর শিখিয়ে দেওয়া নিয়ম অনুযায়ী প্রতি একরে ৭৫ কেজি ইউরিয়া প্রয়োগের কথা থাকলেও ভালো ফলনের আশায় ৯০-১১০ কেজি ইউরিয়া ব্যবহার করেন কৃষকরা।

অতিরিক্ত ইউরিয়া ব্যবহারের কারণে তামাক চাষের আওতাভুক্ত এলাকাগুলোয় মাটির উৎপাদনশীলতা কমেছে। তামাক উৎপাদন শেষে মাটিতে ‘সবুজ সার’ প্রয়োগের কথা থাকলেও কৃষকরা তা করেন না। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক স্থানীয় কৃষকদের কয়েকজন জানান, ফলনের জন্য অতিরিক্ত ইউরিয়া প্রয়োগে খরচ হয় বেশি। তার ওপর আবার সবুজ সার প্রয়োগ করতে হলে লাভের চেয়ে ক্ষতিই বেশি হবে।  লামা উপজেলার উপসহকারী কৃষি কর্মকর্তা গোপন কান্তি চৌধুরী জানান, তামাক চাষে সাধারণত টিএসপি, এসএসপি, এসওপি এবং ইউরিয়া সার ব্যবহার হয়। এর মধ্যে এসওপি সার শুধু তামাকের জন্যই লাগে। শস্য উৎপাদনে মাটিতে বায়ু ও পানি ২৫, জৈব ৫ এবং ৪৫ শতাংশ অজৈব উপাদান থাকতে হয়। তামাকে মাত্রাতিরিক্ত সার ব্যবহারে জমিতে জৈব উপাদানের পরিমাণ শূন্যের কোঠায় নেমে এসেছে বলা যায়। তামাক চাষ হওয়া জমিগুলোয় পরে অন্যান্য ফসল চাষ করা হলে এই জৈব উপাদান ফিরিয়ে আনা বেশ কষ্টসাধ্য হয়ে পড়ে। বান্দরবান জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপপরিচালক আলতাফ হোসেন জানান, তামাক চাষে কৃষকদের নিরুৎসাহিত করতে কৃষি বিভাগ নানা প্রণোদনা দিয়ে থাকে। সরকারি বরাদ্দ বাড়লে কৃষকদের তামাক চাষ থেকে ফেরানো আরো সহজ হবে।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত