বাণিজ্য মেলা উদ্বোধন নতুন ধরনের বিনিয়োগ করতে হবে : রাষ্ট্রপতি

আপডেট : ১০ জানুয়ারি ২০১৯, ০২:৩৯ এএম

নির্বাচনের কারণে এবার আট দিন পিছিয়ে গতকাল পর্দা উঠেছে ঢাকা আন্তর্জাতিক বাণিজ্য মেলার। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা মন্ত্রিপরিষদের সদস্যদের নিয়ে টুঙ্গিপাড়ায় বঙ্গবন্ধুর সমাধিসৌধে শ্রদ্ধা জানাতে যাওয়ায় প্রথা ভেঙে রাষ্ট্রপতি আবদুল হামিদ মেলা উদ্বোধন করেন। দেরিতে শুরু হলেও মেলা চলবে অন্যবারের মতো এক মাস জুড়ে। 

বরাবরের মতো বাণিজ্য মন্ত্রণালয় ও রপ্তানি উন্নয়ন ব্যুরোর (ইপিবি) যৌথ আয়োজনে এ মেলার আয়োজন

করা হয়েছে। মেলা চলবে আগামী ৮ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত। প্রতিদিন সকাল ১০টা থেকে রাত ১০টা পর্যন্ত মেলা চলবে বলে জানান আয়োজকরা। মেলায় প্রবেশ ফি ধরা হয়েছে ৩০ ও ২০ টাকা। এবারের মেলায় বাংলাদেশের বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের পাশাপাশি ২১টি দেশ অংশ নিয়েছে। 

বাণিজ্যমন্ত্রী টিপু মুনশির সভাপতিত্বে বঙ্গবন্ধু আন্তর্জাতিক সম্মেলন কেন্দ্রে আয়োজিত উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে রাষ্ট্রপতি আরও বলেন, দেশে ১০০টি অর্থনৈতিক অঞ্চল গড়ে উঠছে। এসব অঞ্চলে দেশি-বিদেশি বিনিয়োগকারীদের নতুন নতুন ধারণা নিয়ে বিনিয়োগ করতে হবে। নতুন নতুন পণ্যের বাজার সৃষ্টি করতে হবে। তবেই বাংলাদেশকে সমৃদ্ধিশালী দেশে পরিণত করা সম্ভব হবে।

উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে রাষ্ট্রপতি আবদুল হামিদ ব্যবসায়ী, শিল্পপতি ও সরকারি কর্মকর্তাদের উদ্দেশে বলেন, প্রতি বছর হাজার হাজার ছেলে-মেয়ে উচ্চশিক্ষা শেষ করে বের হচ্ছে। এসব মেধাবী ছেলে-মেয়েদের কর্মসংস্থানের ব্যবস্থা করা খুবই জরুরি। এজন্য সরকারের পাশাপাশি আপনাদেরও এগিয়ে আসতে হবে। বিশ্ব বাণিজ্য সংস্থাসহ (ডব্লিউটিও) বিভিন্ন আন্তর্জাতিক ফোরামে বাংলাদেশের পক্ষে সুবিধা আদায় করতে জ্ঞানকৌশল ও দক্ষতা বাড়াতে হবে। এজন্য ব্যবসায়ী সমিতি ও গবেষণা প্রতিষ্ঠানগুলোকে আরও ফলপ্রসূ অবদান রাখতে হবে। কারণ বিশ^ব্যাপী নতুন নতুন উদ্ভাবনের ফলে ব্যবসায়ের ধরন ও প্রকৃতি দ্রুত পাল্টাচ্ছে।

ঘণ্টাব্যাপী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্য শেষে মেলার উদ্বোধন ঘোষণা করেন রাষ্ট্রপতি। পরে বঙ্গবন্ধু আন্তর্জাতিক সম্মেলন কেন্দ্রের পশ্চিম পাশের মাঠে আয়োজিত বাণিজ্য মেলার প্রধান গেটে ফিতা কেটে উদ্বোধন করেন তিনি।

ইপিবির তথ্য অনুযায়ী, এবারের মেলায় সব মিলিয়ে ৫৫০টি স্টল থাকছে। এর মধ্যে নারী উদ্যোক্তাদের জন্য সংরক্ষিত স্টল রয়েছে ২০টি। মেলায় প্রিমিয়ার প্যাভিলিয়ন ৬০টি, প্রিমিয়ার মিনি প্যাভিলিয়ন ৩৮, সাধারণ প্যাভিলিয়ন ১৮, সাধারণ মিনি প্যাভিলিয়ন ২৯, প্রিমিয়ার স্টল ৬৭, রেস্টুরেন্ট ৩টি, সংরক্ষিত প্যাভিলিয়ন ৯টি, সংরক্ষিত মিনি প্যাভিলিয়ন ৬টি, বিদেশি প্যাভিলিয়ন ২৬টি, সংরক্ষিত মিনি প্যাভিলিয়ন ৯টি, বিদেশি প্রিমিয়ার স্টল ১৩টি, সাধারণ স্টল ২০১টি ও ২২টি ফুড স্টল থাকছে।

বাংলাদেশের বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান ছাড়াও মেলায় ভারত, পাকিস্তান, চীন, যুক্তরাজ্য, দক্ষিণ কোরিয়া, মালয়েশিয়া, ইরান, থাইল্যান্ড, যুক্তরাষ্ট্র, তুরস্ক, সিঙ্গাপুর, ভুটান, নেপাল, মরিশাস, ভিয়েতনাম, মালদ্বীপ, রাশিয়া, আমেরিকা, জার্মানি, সোয়াজিল্যান্ড, অস্ট্রেলিয়া ও হংকংয়ের প্রতিষ্ঠান অংশ নিয়েছে।

আয়োজকরা জানান, মেলায় বিভিন্ন অব্যবস্থাপনা রোধে ভ্রাম্যমাণ আদালত ও ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তরের কর্মকর্তারা সার্বক্ষণিক নজরদারি করবেন। এ ছাড়া থাকছে পর্যাপ্ত সিসিটিভি ক্যামেরা। মেলার ভেতরে দর্শনার্থীদের জন্য খোলামেলা জায়গা থাকছে। এতে পরিবার-পরিজন নিয়ে স্বাচ্ছন্দ্যে ঘোরাঘুরি করতে পারবেন তারা। আর মেলার দুই প্রান্তে সুন্দরবনের আদলে ইকো পার্ক করা হয়েছে। থাকছে ডিজিটাল এক্সপেরিয়েন্স সেন্টার (ডিজিটাল টাচ স্ক্রিন প্রযুক্তি), যার মাধ্যমে ক্রেতা ও দর্শনার্থীরা নির্দিষ্ট স্টল ও প্যাভিলিয়ন অতি সহজে খুঁজে বের করতে পারবেন।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত