গত বছরটা খুবই ভালো কেটেছে বলিউড অভিনেতা ভিকি কুশলের। রাজি, সঞ্জু, মনমর্জিয়া এই তিন ধারার তিনটি ছবিতেই তিনি দর্শকের মন জয় করেছেন। আজ মুক্তি পাচ্ছে ভিকির এ বছরের প্রথম ছবি ‘উরি’। জম্মু ও কাশ্মীরে ভারতীয় সেনাবাহিনীর একটি অভিযান নিয়ে এ সিনেমা। মেজর শেরগিলের ভূমিকায় অভিনয় করেছেন ভিকি, যার তত্ত্বাবধানে এই অপারেশন পরিচালিত হয়। ‘উরি’ ছবির শুটিং করতে গিয়ে অনেক কষ্ট শিকার করেছেন এই অভিনেতা। সেই অভিজ্ঞতা শোনা যাক তার মুখেই, ‘ ছবির শুটিং করতে গিয়ে আমি হাতে চোট পেয়েছিলাম। ২৫ দিন ধরে ফিজিওথেরাপি চলে। তবে এর মধ্যেও শুটিং চালু ছিল।’
‘উরি’ ছবিতে ভিকি একজন সেনা অফিসার চরিত্রে অভিনয় করেছেন। চরিত্রটি ফুটিয়ে তুলতে অনেক ধরনের প্রস্তুতি নিতে হয়েছিল তাকে। প্রথম কাজ ছিল ওজন বাড়ানো। কিন্তু আমার সুন্দর একটা সমস্যা আছে! কিছুতেই ওজন বাড়ে না! তাই আমি খুবই চিন্তায় ছিলাম। ওজন না বাড়ালে আমার সেনা কর্মকর্তা হওয়া মুশকিল। একজন ট্রেইনার রাখা হয়েছিল শুধু আমার জন্য, যিনি আমার ডায়েট দেখতেন, আমাকে ট্রেনিং দিতেন। আগে জিমে যেতাম শুধু ফিট থাকার জন্য। এই ছবির জন্য আমাকে পাগলের মতো জিম করতে হয়েছে। এরপর মিলিটারি ট্রেনিংও নিতে হয়েছে। দম বাড়ানোর জন্য রোজ ২৫ পাক দৌড়াতে হতো। অন্য একজন মানুষকে কাঁধে চাপিয়ে দৌড়াতে হতো, তিন ঘণ্টা পানি ছাড়া ট্রেনিং, বন্দুক চালানো আরও অনেক কিছু করতে হয়েছে। এমনকি ৪০ ফুট উঁচুতে থাকা হেলিকপ্টার থেকে দড়ি বেয়ে নামতাম। প্রথম ছয় মাস ছিল ওজন বাড়ানোর প্রস্তুতি। এরপর তিন মাস মিলিটারি ট্রেনিং হয়। এই ট্রেনিংয়ে শুধু শারীরিকভাবে নয়, মানসিকভাবেও একজন আর্মি অফিসার করে গড়ে তোলা হয়েছিল আমাকে বললেন ভিকি। তার বাবা শ্যাম কুশল বলিউডের একজন নামকরা অ্যাকশন ডিরেক্টর। আর এই প্রথমবার ভিকি কোনো অ্যাকশননির্ভর ছবিতে কাজ করলেন। বাবার কাছ থেকে কোনো টিপস নিয়েছিলেন কি না জানতে চাইলে তিনি বলেন, বলতে পারেন, এই ছবিতে আমি একটা সুপারহিরোর চরিত্রে অভিনয় করেছি। বাবা আমাকে বলতেন, ‘জোশে না, হুঁশে কাজ কোরো’। কারণ জোশের (আবেগ) সঙ্গে করলে চোট লাগার আশঙ্কা থেকে যায়। সাবধানতার সঙ্গে সবকিছু করতে বলতেন।
ছোটবেলা থেকেই ভিকি মঞ্চে অভিনয় করেন। কিন্তু কখনো ভাবেননি অভিনেতা হবেন। অভিনয় একটা শখ ছিল মাত্র। পড়াশোনা করেছেন মন দিয়ে। ইঞ্জিনিয়ারিংয়ে ফার্স্টক্লাস পেয়ে পাস করেন। কলেজ থেকে একবার ইন্ডাস্ট্রিয়াল সফরে নিয়ে গিয়েছিলেন। সেই ট্যুরই তার জীবন বদলে দেয়। শোনা যাক ভিকির মুখেই, ‘ওখানে যখন আমি অফিসে ঢুকি তখন বুঝতে পারি এটা আমার দুনিয়া নয়। এই দুনিয়ায় আমি বাঁচতে পারব না। তাই অভিনয়েই ফিরে আসি।’
ভিকি কুমল অভিনীত সব কটি ছবিই দর্শকপ্রিয়তা পেয়েছে। তাই বলাই যায় তিনি চিত্রনাট্য বাছাইয়ে বেশ পটু। এ প্রসঙ্গে ভিকি বলেন, ‘আমি দর্শক হিসেবে চিত্রনাট্য পড়ি। একজন দর্শক যেমন টিকিট কেটে ছবি দেখে, আমি সেইভাবে নিজেকে দেখি তখন। আর দেখি চিত্রনাট্যটা পড়ার প্রতি আমার আগ্রহ ক্রমে বাড়ছে কি না। তারপর দেখি একদিন পর্যন্ত ছবির গল্পটা আমার সঙ্গে আছে কি না। তবেই আমি সেই ছবিতে কাজ করি।’
গত বছর একের পর এক সফল ছবিতে পাওয়া গেছে ভিকিকে। এত সফলতার পর কি কোথাও নিরাপত্তাহীনতায় ভোগেন? ‘সফলতা বা ব্যর্থতা কোনোটাকেই আমি বেশি গুরুত্ব দিই না। দুটোই জীবনের অঙ্গ। আমার লক্ষ্য হলো শুধুই কাজ করা। আর কাজের মধ্যেই সফলতা আসে’ বললেন ভিকি।
ধীরে ধীরে ভিকির ব্যক্তিগত জীবন নিয়েও ভক্তদের আগ্রহ বাড়ছে। তার প্রেমিকা হারলিন সম্প্রতি তাদের সম্পর্কের ব্যাপারে স্বীকার করেছেন। এ প্রসঙ্গে ভিকি বলেন, ‘আমরা একে অপরের সঙ্গ খুব উপভোগ করি। ‘ব্রোকেন’ ওয়েব সিরিজে প্রথমবার ওর অভিনয় দেখেছি। দারুণ লেগেছে।’
সম্প্রতি একটি পুরস্কার বিতরণ অনুষ্ঠানে মঞ্চ মাতিয়েছেন অভিনেতা ভিকি কুশল ও ক্যাটরিনা কাইফ। ভিকি ও ক্যাটরিনা পুরস্কার গ্রহণের জন্য মঞ্চে উঠেছিলেন। এ সময় ক্যাটরিনাকে ভিকি বলেন, ‘কেন তুমি ভিকি কুশলের মতো সুন্দর ছেলেকে বিয়ে করছ না? বিয়ের মৌসুম এখনো চলছে, মনে হচ্ছে তুমিও বিয়ে করবে। আর সে কারণেই জিজ্ঞেস করলাম।’ নিজেকে সামলে নিয়ে ক্যাটরিনা উত্তর দেন, ‘আমার সেই হিম্মত নেই!’ এর আগে জনপ্রিয় নির্মাতা করণ জোহর সঞ্চালিত চ্যাট শো ‘কফি উইথ করণ’-এ ক্যাটরিনা বলেছিলেন, ভিকি কুশলের সঙ্গে সিনেমায় জুটি বাঁধতে চান।
