প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নেতৃত্বে মন্ত্রিসভা গঠনের পর এবার সবার চোখ জাতীয় সংসদের সংরক্ষিত নারী আসনের দিকে। সংসদে সংরক্ষিত ৫০ নারী আসনে ঠাঁই করে নিতে চট্টগ্রামের এক ডজনেরও বেশি নারীনেত্রী এখন নির্বাচিত এমপি, মন্ত্রীদের কাছে নিত্য ধরনা দিচ্ছেন এবং সংরক্ষিত আসনে এমপি হতে নানাভাবে জোর তদবির চালিয়ে যাচ্ছেন।
এমনকি চট্টগ্রামে আলোচনায় থাকা অনেকেই গণভবন ও আওয়ামী লীগের শীর্ষ পর্যায়ের নেতাদের সঙ্গেও সাক্ষাৎ করছেন। যদিও বর্তমান ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগের প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা এরই মধ্যে বলেছেন, গত সংসদগুলোতে সংরক্ষিত নারী আসনে যারা এমপি হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছিলেন, তাদের এবার দলের মনোনয়ন দেওয়া হবে না। সেই বিবেচনায় এবার মন্ত্রিসভার মতো চট্টগ্রামেও চমক আসতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে। এমন হলে পরে কপাল খুলছে কার? সেটিই দেখার বিষয়।
দশম জাতীয় সংসদে সংরক্ষিত নারী আসনে চট্টগ্রামের (পার্বত্য চট্টগ্রামসহ) তিনজন সংসদ সদস্য হিসেবে প্রতিনিধিত্ব করেছেন। তারা হলেন প্রয়াত বর্ষীয়ান আওয়ামী লীগ নেতা আতাউর রহমান খান কায়সারের মেয়ে ওয়াসিকা আয়েশা খান, চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশনের সাবেক কাউন্সিলর সাবিহা মুছা ও রাঙ্গামাটির নারীনেত্রী ফিরোজা বেগম চিনু।
বিভিন্ন পর্যায়ে খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, এবার একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের পর সংরক্ষিত নারী আসনে নিজের জায়গা করে নিতে যারা দৌড়ঝাঁপ ও আলোচনায় রয়েছেন, তাদের মধ্যে উল্লেখযোগ্য হচ্ছেন এফবিসিসিআইয়ের সাবেক সহসভাপতি মনোয়ারা হাকিম আলী, চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশনের প্যানেল মেয়র জোবাইরা নার্গিস খান, সাবেক কাউন্সিলর ও নারীনেত্রী রেহেনা কবির রানু, সুচিন্তা বাংলাদেশ চট্টগ্রাম বিভাগের সমন্বয়ক অ্যাডভোকেট জিনাত সোহানা চৌধুরী, উত্তর জেলা আওয়ামী লীগের সিনিয়র সহসভাপতি সৈয়দা রিফাত আক্তার নিশু, সাধারণ সম্পাদক অ্যাডভোকেট বাসন্তী প্রভা পালিত, চট্টগ্রাম-২ আসনের সাবেক সংসদ সদস্য রফিকুল আনোয়ারের মেয়ে ও উত্তর জেলা আওয়ামী লীগের সদস্য খাদিজাতুল আনোয়ার সনি, চট্টগ্রাম দক্ষিণ জেলা মহিলা আওয়ামী লীগের সিনিয়র সহসভাপতি শাহিদা আকতার জাহান, চট্টগ্রাম দক্ষিণ জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ও আওয়ামী লীগের প্রতিষ্ঠাকালীন নেতা প্রয়াত আবদুল আল হারুনের মেয়ে শামীমা হারুন লুবনা, মহিলাবিষয়ক সম্পাদক অ্যাডভোকেট কামরুন্নাহার বেগম প্রমুখ। এ ছাড়া সংসদ সদস্য হিসেবে পুনর্বার মনোনয়নপ্রত্যাশী হিসেবে সাবেক সাংসদ ওয়াসিকা আয়েশা খান, দক্ষিণ জেলা মহিলা আওয়ামী লীগের সভানেত্রী ও সাবেক সাংসদ চেমন আরা তৈয়ব এবং জাতীয় মহিলা সংস্থার চেয়ারম্যান ও সাবেক সাংসদ হাসিনা মান্নানের নামও শোনা যাচ্ছে।
মনোনয়নপ্রত্যাশী শামীমা হারুন লুবনা দেশ রূপান্তরকে বলেন, ‘আওয়ামী লীগ পরিবারেই আমার জন্ম। বঙ্গবন্ধু ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার আদর্শে উজ্জীবিত হয়ে রাজনীতি করে যাচ্ছি। চট্টগ্রামসহ দেশকে এগিয়ে নিতে আওয়ামী লীগকে আরও শক্তিশালী করতে মাঠে আছি। প্রধানমন্ত্রী যদি আমাকে সুযোগ দেন, তাহলে নারীর ক্ষমতায়নে যুগান্তকারী উদ্যোগ নেব।’
চট্টগ্রামের পিছিয়ে পড়া নারীসমাজকে শিক্ষা ও অর্থনৈতিকভাবে এগিয়ে নেওয়ার প্রত্যয় ব্যক্ত করে মনোনয়নপ্রত্যাশী সৈয়দা রিফাত আক্তার নিশু দেশ রূপান্তরকে বলেন, ‘তথ্যপ্রযুক্তি ও কারিগরি শিক্ষার মাধ্যমে নারীদের এগিয়ে নিতে আমি বদ্ধপরিকর। প্রধানমন্ত্রী যদি আমাকে সুযোগ দেন, গ্রামকে শহরে রূপান্তরিত করার যে প্রয়াস, সেটি বাস্তবায়নে কাজ করব।’
আরেক মনোনয়নপ্রত্যাশী রেহেনা বেগম রানু বলেন, ‘নব্বইয়ের গণ-আন্দোলনের মিছিল থেকে উঠে আসা আওয়ামী লীগের দায়িত্বশীল কর্মী আমি। চট্টগ্রামের সমস্ত আন্দোলনে ছিলাম। প্রধানমন্ত্রী আমাকে এমপি মনোনয়ন দিলে নারীর অধিকার প্রতিষ্ঠায় ৩০ বছর ধরে আমার যে কাজ, বৃহত্তর ফ্ল্যাটফরম থেকে সেই কাজগুলোকে এগিয়ে নিতে চাই।’
প্রধানমন্ত্রীর ভিশন বাস্তবায়ন এবং স্কুল-কলেজ ও মাদ্রাসায় জঙ্গিবাদ মোকাবিলায় সভা-সমাবেশ করার কথা জানিয়ে সুচিন্তা বাংলাদেশ চট্টগ্রাম বিভাগের সমন্বয়ক অ্যাডভোকেট জিনাত সোহানা চৌধুরী বলেন, ‘প্রধানমন্ত্রী জঙ্গিবাদ মোকাবিলায় যেসব পদক্ষেপ নিয়েছেন, সেটি বাস্তবায়নে দীর্ঘদিন থেকে তরুণদের নিয়ে কাজ করছি। জঙ্গিবাদের বিরুদ্ধে বিভিন্ন স্কুল, কলেজ ও মাদ্রাসায় সভা-সমাবেশ করেছি। তথ্যপ্রযুক্তির মাধ্যমে বিভিন্ন এলাকায় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার উন্নয়নকাজের প্রচারণা এবং দেশ থেকে মৌলবাদকে বিতাড়িত করতে কাজ করছি। সুযোগ হলে তরুণদের সঙ্গে নিয়ে একটি সমৃদ্ধিশালী রাষ্ট্রগঠনে কাজ করব।’
