কলকাতার রাজ চক্রবর্তীর ঝুলিতে অনেক হিট সিনেমা আছে, ফ্লপও কম নয়। সম্ভবত প্রলয় ও চ্যাম্প বাদ দিলে বাকি সবগুলোই দক্ষিণী সিনেমার রিমেক। এই প্রথম তিনি পুরোপুরি বাচ্চাদের সিনেমা বানিয়েছেন, যার নাম ‘অ্যাডভেঞ্চারস অব জোজো’। এ নিয়েও গল্প চুরির অভিযোগ অল্পস্বল্প যে আসেনি, তা নয়। তবে গল্পটা দর্শকের মন ভরিয়েছে। রাজও বুঝিয়ে দিয়েছেন তার ঝুলিতে চমক একদমই কম নয়।
ছোটদের সিনেমার প্রতি বুড়োদেরও আগ্রহ থাকে। কারণ তারাও একসময় ছোট ছিলেন। ছোট সেই মনটা কখনো কখনো উথলে ওঠে। সেভাবে যদি বড় কেউ অ্যাডভেঞ্চারস অব জোজো দেখেন, তবে হতাশ হবেন না। কিন্তু মন তো আর সেই আদ্যিকালে পড়ে নেই, তাই হতাশ হতেও পারেন। কী আর করা! তবে বলতে হবে গল্পটা নিটোল আর বাচ্চারা সাধারণত এ রকম কিছুই পছন্দ করে।
ছবির গল্প এমনÑ বড় চাচার সঙ্গে বড়পাহাড়ির জঙ্গলে ঘুরতে যায় জোজো। সেখানে তার সঙ্গে পরিচয় আদিবাসী ছেলে শিবুর। বন্ধুত্ব হতেও সময় লাগে না। ওই জায়গায় আবার চোরা শিকারিদের দারুণ উৎপাত। বাঘ ভয়াল ব্যাপার হলেও, বাচ্চাদের দৃষ্টিতে ভালোবাসার জিনিস হতেও পারে। কী মিষ্টি! কী আদুরে! তাই জোজো আর শিবুর মতো একরত্তি ছেলে নামে চোরা শিকারিদের বিরুদ্ধে। যেভাবেই হোক, তারা বাঘ চেঙ্গিসকে বাঁচাবে। যেহেতু বাচ্চাদের ছবি, বাচ্চারা বেশ বাহাদুরি করে বাঘকে বাঁচায়। কুপোকাত হয় চোরা শিকারিরা। বাচ্চারা নিজেদের দাবি করে বনের অফিসার। কর্র্তৃত্ব মানুষের মজ্জাগত কি না!
কাহিনীতে তেমন বাঁক নেই। সাধারণত এ ধরনের গল্প অনুমানযোগ্য। ‘অ্যাডভেঞ্চারস অব জোজো’ও তেমন। তবে জঙ্গলকে জানতে শহুরে দর্শকদের এগিয়ে যাওয়া মন্দ নয়। আর ছোটদের সিনেমা তো ফি সপ্তাহ মুক্তি পায় না সে দিক থেকে বেশ। তবে বাংলাদেশি দর্শক হিসেবে বিষয়টা হতাশার। সেই কবে ‘এমিলির গোয়েন্দা বাহিনী’, ‘পুরস্কার’ বা ‘দীপু নাম্বার টু’র মতো ছবি হয়েছে তারপর আর উল্লেখযোগ্য কিছু পাওয়া যায়নি, যা পাওয়া গেছে সেগুলো মূলত বাচ্চাদের চরিত্র করে বড়দের জন্য বানানো সিনেমা। অথবা অপরিপক্ব কিছু নির্মাণ।
অ্যাডভেঞ্চারস অব জোজোতে অনেকগুলো সম্পর্কের নানা ধরন রয়েছে। মানুষে-মানুষে, মানুষে-প্রকৃতিতে বা মানুষে-পশুতে। এ দিকগুলো বাচ্চাদের ভাবাবে। আর পরিবেশের অনর্থ ঘটানোর জন্য আমরা বড়রাই যেহেতু বেশি দায়ী, তাদেরও ভাবাবে মানে শিশুদের সঙ্গে যেসব অভিভাবক সিনেমাটি দেখবেন।
হ্যাঁ, যেহেতু রূপকথা বা ফ্যান্টাসি টাইপ ছবি না, তাই আরেকটু বাস্তবিক কাহিনী হতে পারত। গল্পে আর কিছু মোড় থাকলে সেটা মনে হয় সম্ভব হতো। আজকাল বাচ্চারাও এ ফারাকগুলো বুঝতে পারে। তুলনা করতে পারে।
অ্যাডভেঞ্চারস অব জোজোতে সবাই চরিত্রানুযায়ী ভালো করেছেন। জোজোর ভূমিকায় নবাগত যশোজিৎ বন্দ্যোপাধ্যায় ও শিবু চরিত্রে সামিউল আলম একদম ফিটফাট। পদ্মনাভ দাশগুপ্ত ও রুদ্রনীল ঘোষও চমৎকার। দৃশ্যায়নে কিছু কিছু ক্ষেত্রে জঙ্গলকে দুর্দান্ত লেগেছে। আবার পুরনো ফুটেজের ব্যবহার ভালো লাগেনি কিছু কিছু ক্ষেত্রে। তবে সব মিলিয়ে দারুণ পরিবার নিয়ে উপভোগ্য সিনেমা ‘অ্যাডভেঞ্চারস অব জোজো’।