তার সম্পর্কে কারও কিছু জানা নেই। কোথা থেকে এলেন? কবে কীভাবে? ম্যাচ চলাকালেও কেউ কোনো তথ্য দিতে পারলেন না। অথচ আল ইসলাম করেছেন বিশ্বরেকর্ড। আন্তর্জাতিক টি-টোয়েন্টি এবং এই সংস্করণের বৈশ্বিক আসরে অভিষেকে হ্যাটট্রিকের কীর্তি আর কারও ছিল না। রংপুর রাইডার্সকে গতকাল শুক্রবার বিপিএলে ঢাকা যে রোমাঞ্চকর ম্যাচে ২ রানে হারাল সেটির নায়ক এই অফ স্পিনার আল ইসলাম। কে তিনি?
‘আলিস। আল ইসলাম।’ ৪ ওভারে ২৬ রানে ৪ উইকেট শিকার করে ম্যাচসেরা হয়ে মিরপুরের সংবাদ সম্মেলনে কাল আলিস। তার কাছেই তার সম্পর্কে জানতে চাইলে এক নিঃশ্বাসে বলে চলেন, ‘আমি ঢাকা ডায়নামাইটসের নেট বোলার ছিলাম। আগে ঢাকা ফার্স্ট ডিভিশনে খেলেছি। নেটে বোলিং করার সময় সুজন (ঢাকার কোচ খালেদ মাহমুদ সুজন) স্যার আমাকে দেখেন। দেখে ওনার বিশ্বাস হয় যে আমি ভালো করতে পারব। তারপর আমাকে টিমে নেন।’ প্রথম বিভাগ থেকে সরাসরি বিপিএলে!
বিপিএলে অভিষেকের কথা জেনে আগাম উত্তেজনায় শেষ রাতে নিশ্চয়ই ঘুম হয়নি ঠিকমতো ২২ বছরের খেলোয়াড়ের। সাভার থেকে উঠে আসা বোলার কাঁঠালবাগান ক্রিসেন্ট ক্লাব থেকে উঠে এসেছেন।
পেসার মোহর শেখের বদলে এদিন তাকে নিয়ে ঢাকার একপর্যায়ে ভুল করার ভাবনা এসেছিল অবশ্যই। মোহাম্মদ মিঠুনের ক্যাচ তিন বলের মধ্যে দুবার একই জায়গায় ছেড়েছেন আলিস। রাইলি রুশোর সঙ্গে তখন জমে উঠছে মিঠুনের জুটি। জীবন পাওয়া ব্যাটারের তখন ২০ও হয়নি। জুটিটা কেবল ৫০ পেরিয়েছে। সপ্তম ওভারে বল হাতে ৭ রান দিয়েছিলেন আলিস।
তার ভুলে ১২১ রানের জুটি হলো রুশো আর মিঠুনের। ঢাকা ৯ উইকেটে ১৮৩ রান করেছিল। ২ উইকেটে ১৪২ রংপুরের। ৩০ বলে ৪২ রানের সহজ হিসাব। ১৬তম ওভারে ঢাকা অধিনায়ক সাকিব আল হাসান জুয়া খেলে সেই অচেনা আলিসকে এনে। এরপর পান্ডুলিপি বদলে গেল। ৮৩ রান করা রুশোকে আউট করার পর হ্যাটট্রিক করলেন। ৯ উইকেট হারানো রংপুর শেষ ওভারে তাও ১৪ রানের চ্যালেঞ্জ নিয়েছিল। আলিস স্নায়ুর খেলায় জিতে কেড়ে নিলেন লাইমলাইটের পুরোটা।
আলিস বলছিলেন, ‘গতকাল (বৃহস্পতিবার) সন্ধ্যায় জানতে পারি খেলব। স্যার আমাকে ডেকে বলেন শারীরিক ও মানসিকভাবে প্রস্তুত থাকতে। আমি প্রস্তুতই ছিলাম। এত বড় স্টেডিয়ামে, এত বড় টুর্নামেন্টে প্রথম খেলা নার্ভাসেরই বিষয়। আমি প্রথমে নার্ভাসই ছিলাম। তবে তারপরও ভালো হয়েছে।’
সাকিব ম্যাচের পর পুরস্কার প্রদান অনুষ্ঠানে বলছিলেন কেন এমন কঠিন পরিস্থিতিতে অভিষিক্তকে ঠেলে দিলেন, ‘ওর মধ্যে সম্ভাবনা দেখেছিলাম। ভাগ্যক্রমে সে তার ক্লাস দেখিয়েছে। তবে এখনো তার অনেকদূর যেতে হবে।’
আলিস নিজেও জানেন। প্রথম বিভাগে অ্যাকশন প্রশ্নবিদ্ধ ছিল। এখনো প্রিমিয়ার লিগে খেলা হয়নি। সরাসরি বিপিএলে সুযোগ পেয়েই লাইমলাইটে। কিন্তু প্রথম দিনেই তার অ্যাকশন নিয়ে বোদ্ধারা প্রশ্ন তুলেছেন। আগে কি প্রশ্নবিদ্ধ হয়েছেন? ‘না, আসলে কখনো প্রশ্নবিদ্ধ হয়নি। তবে সবাই আসলে ভাবছিলেন...।’ আলিস এভাবে আটকে গেলেও বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডের সংশ্লিষ্ট সূত্র জানাচ্ছে, প্রশ্নবিদ্ধ অ্যাকশনের জন্য পরীক্ষা দিয়ে পরে উত্তীর্ণ হয়েছেন আলিস। সে কারণেই খেলতে পেরেছেন ম্যাচে।
রংপুরের অধিনায়ক মাশরাফী বিন মোর্ত্তজা অবশ্য এমন এক রোমাঞ্চকর ম্যাচের পর অ্যাকশনের মতো টেকনিক্যাল ব্যাপারে গেলেন না। অভিষেকেই এমন স্নায়ুচাপ সামলে পারফর্ম করার কৃতিত্ব বোলারকে দিলেন।
কিন্তু প্রশ্নটা তো উঠেছে। বাস্তববাদী সাকিব এই বোলারের সাফল্যে ভেসে যাননি। উল্টো তাকে তো মনে করিয়ে দিলেন, পথের কেবল শুরু। হয়তো আরও প্রশ্নের শুরু। হ্যাটট্রিকের কীর্তি অনন্য। কিন্তু অ্যাকশন?
