বরিশাল কেন্দ্রীয় কারাগার থেকে পাচারকালে ২৮ বস্তা গম জব্দ করেছে পুলিশ। গতকাল শনিবার বেলা ৩টার দিকে কারাগার সংলগ্ন সদর রোড থেকে এসব গম আটক এবং কারারক্ষীদের ছাড়িয়ে নেওয়ার চেষ্টার দৃশ্য ধারণের সময় শামীম আহম্মেদ নামে যুগান্তরের ফটোসাংবাদিককে মারধর করা হয়। পরে তাকে কারাগারে আটকেও রাখে কারারক্ষীরা। এক পর্যায়ে গণমাধ্যমকর্মীদের প্রতিবাদের মুখে কারা কর্তৃপক্ষ পাঁচ কারারক্ষীকে সাময়িক বহিষ্কারের ঘোষণা দেয়। একই সঙ্গে কারা ফটকের সিসি ক্যামেরায় ধারণকৃত ফুটেজ বিশ্লেষণ করে অন্যদের শনাক্ত করে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার প্রতিশ্রুতিও দেয় কারা কর্তৃপক্ষ।
কোতোয়ালি মডেল থানার এসআই মাইনুল হোসেন জানান, গোপন সংবাদে বরিশাল কেন্দ্রীয় কারাগার থেকে বিপুল পরিমাণ গম কালোবাজারে পাচারের খবর পেয়ে দুটি ভ্যানবোঝাই ২৮ বস্তা গম আটক করা হয়। থানার ওসি নূরুল ইসলাম দেশ রূপান্তরকে বলেন, ২৮ বস্তা গম পাচারকালে আটক করা হয়েছে। এ সময় এক সাংবাদিককে মারধরের ঘটনা ঘটেছে। বরিশাল কারাগারের সুপার প্রশান্ত কুমার বণিক বলেন, অভিযোগের প্রাথমিক সত্যতা পাওয়ায় মো. উজ্জ্বল, আবু বক্কর ছিদ্দিক খোকন, মো. সাইদ, আবুল খায়ের ও মো. কাওছার নামে পাঁচ কারারক্ষীকে সাময়িক বহিষ্কার করা হয়েছে। বরিশালে ইনডিপেনডেন্টটেলিভিশনের ব্যুরো প্রধান মুরাদ আহমেদ বলেন, গম কালোবাজারি এবং সাংবাদিক নির্যাতনের ঘটনায় জেলার ইউনুস জামানের ইন্ধন রয়েছে। এ ঘটনায় জেলারকেও বিচারের আওতায় আনার দাবি জানান তিনি। যুগান্তরের ব্যুরো প্রধান আকতার ফারুক শাহীন জানান, সরকারি বিভিন্ন দপ্তর এবং প্রশাসনের দুর্নীতির খবর সংগ্রহ করতে গিয়ে সাংবাদিক লাঞ্ছিত হওয়ার ঘটনা অভ্যাসে পরিণত হয়েছে। এ ঘটনায় অভিযুক্তদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দাবি করেন তিনি। ঘটনায় জড়িত সবার বিরুদ্ধে বিভাগীয় ব্যবস্থা গ্রহণের প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন বরিশালের ডিআইজি প্রিজন মো. তৌহিদুল ইসলাম।
