ফেইসবুক স্ট্যাটাসে জয়

বিএনপি-ঐক্যফ্রন্ট বিদেশি প্রভুদের নালিশ করছে

আপডেট : ১৩ জানুয়ারি ২০১৯, ০৩:৫০ এএম

নির্বাচন নিয়ে বিএনপি ও ঐক্যফ্রন্ট তাদের বিদেশি প্রভুদের কাছে নালিশ করছে ও সাহায্য চাইছে বলে মন্তব্য করেছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার তথ্য ও প্রযুক্তিবিষয়ক উপদেষ্টা সজীব ওয়াজেদ জয়। গতকাল শনিবার তার ফেইসবুক পেইজে দেওয়া এক স্ট্যাটাসে সজীব এ কথা বলেন।

দীর্ঘ স্ট্যাটাসে জয় বলেন, ‘সাম্প্রতিক নির্বাচনে ব্যালটের মাধ্যমে বিএনপি ও ঐক্যফ্রন্টকে বাংলাদেশের মানুষ পুরোপুরি প্রত্যাখ্যান করেছে। তাই তারা এখন তাদের বিদেশি প্রভুদের কাছে নালিশ করছে ও সাহায্য চাইছে। আন্তর্জাতিক অঙ্গনে যোগাযোগ ও লবিংয়ের মাধ্যমে তারা প্রমাণ করতে চাইছে যে, নির্বাচনে কারচুপি হয়েছে, যা পরিসংখ্যান মোতাবেক একেবারেই অসম্ভব।’

গত ৩০ ডিসেম্বরের নির্বাচনে আওয়ামী লীগ বিএনপি থেকে প্রায় ৪ কোটি ৯০ লাখ ভোট বেশি পেয়েছে দাবি করে জয় বলেন, ‘এত বড় ব্যবধানের জয় কখনই কারচুপির মাধ্যমে আদায় করা সম্ভব নয়। তারা বলছে ভয়ভীতির কথা, কিন্তু যদি আমরা ধরেও নিই আওয়ামী লীগের বাইরের সব ভোট বিএনপি-জামায়াতের পক্ষেই যেত, তাহলেও ২ কোটি ২০ লাখ ভোটের ব্যবধান থাকত বিএনপি আর আওয়ামী লীগের মধ্যে।’

সুশীল সমাজের কেউ কেউ বিএনপির আন্তর্জাতিক লবিংয়ের সঙ্গে গলা মেলাচ্ছে দাবি করে জয় তাদের কিছু অভিযোগের জবাব দেন। অত্যধিক ভোটার সংখ্যা ও ভুয়া ভোটের অভিযোগের জবাবে জয় অতীতের নির্বাচনগুলোর ভোটের হারের সঙ্গে একাদশ নির্বাচনের ভোটের হারের তুলনা করে দেখান। আওয়ামী লীগের ৯০ শতাংশ ভোট পাওয়ার তথ্যকে অপপ্রচার দাবি করে জয় বলেন, ‘আওয়ামী লীগ ভোট পেয়েছে ৭২ শতাংশ। মহাজোটের অন্য শরিকরা পেয়েছে ৫ শতাংশের কম ভোট।’

বিএনপি ও ঐক্যফ্রন্ট এত কম ভোট পাওয়ার কারণ হিসেবে বিএনপি চেয়ারপারসনের দুর্নীতির দায়ে দণ্ডিত হয়ে জেলে থাকা, ভারপ্রাপ্ত চেয়ারপারসন (তারেক রহমান) দণ্ডিত আসামি হয়ে দেশের বাইরে পালিয়ে থাকা, সংগঠনের করুণ অবস্থা ও ২০১৩ থেকে ২০১৫ সাল পর্যন্ত তাদের অগ্নিসন্ত্রাসই দায়ী বলে দাবি করেন জয়। বিএনপির নির্বাচনী প্রচারে কমতি ছিল বলেও মন্তব্য করেন তিনি।

সজীব ওয়াজেদ বলেন, ‘বিএনপি-ঐক্যফ্রন্টের বার্তাই ছিল আওয়ামী লীগ খারাপ। কিন্তু বাংলাদেশের মানুষ সেই বার্তা গ্রহণ করেনি, কারণ তারা নিজেরাই দেখেছে কিভাবে আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে তাদের জীবনমানের উন্নয়ন হয়েছে।’

‘ভোটাররা পরিবর্তন চায়’ সুশীল সমাজের পূর্বের এমন দাবিকে উড়িয়ে দিয়ে জয় বলেন, ‘এসব ঢালাও কথাবার্তা, যার কোনো বৈজ্ঞানিক ভিত্তি নেই। এ থেকেই বোঝা যায়, আসলে তারা কতটা জনসম্পৃক্ততাহীন। কেউ কেন এমন একটি সরকারের বিরুদ্ধে ভোট দিতে চাইবে, যে আমলে তার জীবন বা ব্যবসার উন্নতি ঘটেছে?’

নির্বাচনের আগের জরিপ সঠিক ছিল দাবি করে জয় তার স্ট্যাটাসে বলেন, ‘ভুয়া জরিপ করে নিজেদের জনপ্রিয়তা দেখানোর কাজ আমরা করি না, কারণ আমাদের জন্যই সঠিক তথ্যটি পাওয়া খুবই জরুরি। আমরা জানতে চেষ্টা করি নির্বাচনী লড়াইয়ে আমাদের অবস্থান ও সক্ষমতা, তাই জরিপের ব্যাপারে আমরা খুবই সতর্ক থাকি।’

নির্বাচনে কারচুপি হলে গণফোরাম দুটি আসন পেত না দাবি করে জয় বলেন, ঐক্যফ্রন্টের নেতা কামাল হোসেন নিজে নির্বাচনই করেননি। কারণ তিনি জানতেন তিনি কোনো আসন থেকেই জিততে পারবেন না। কিন্তু তারা আমাদের কিছুটা অবাকও করেছেন। ভোটের লড়াইয়ে প্রথমবারের মতো গণফোরাম একটি নয়, দুটি আসন থেকে জয়লাভ করে। কারচুপি যদি হতোই, তাহলে যে দল আগে কোনো নির্বাচনেই কোনো আসন পায়নি, তারা কিভাবে দুটি আসনে জেতে?

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত