বাংলাদেশের স্বাধীনতা বিরোধিতাকারী দল জামায়াতে ইসলামীকে সঙ্গে নিয়ে আর কোনো রাজনীতি করবেন না বলে স্পষ্ট জানিয়ে দিলেন জাতীয় ঐক্যফ্রন্টের আহ্বায়ক ও গণফোরাম সভাপতি ড. কামাল হোসেন। গতকাল শনিবার রাজধানীর মতিঝিলে গণফোরামের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে তিনি এ কথা জানান। ড. কামাল এ সময় দাবি করে বলেন, জামায়াতকে নিয়ে আমরা অতীতেও রাজনীতি করিনি, ভবিষ্যতেও করব না। এর আগে দলটির কেন্দ্রীয় কার্যনির্বাহী কমিটির বর্ধিত সভা হয়। সভা শেষে ড. কামাল হোসেন সাংবাদিকদের বলেন, জামায়াতের ২২ জন প্রার্থীকে ধানের শীষের প্রতীক দেওয়া হবেÑ বিষয়টি আমি জানতাম না। প্রতীক দেওয়ার পর আমরা বিএনপির কাছে এর ব্যাখ্যাও চেয়েছিলাম।
লিখিত বক্তব্যে গণফোরামের সাধারণ সম্পাদক মোস্তফা মহসিন মন্টু বলেন, তাড়াতাড়ি জাতীয় ঐক্যফ্রন্ট গঠন করতে গিয়ে অনিচ্ছাকৃত যেসব ভুলত্রুটি হয়েছে তা সংশোধন করে ভবিষ্যতের জন্য সুদৃঢ় জাতীয় ঐক্য গড়ে তোলা হবে। জামায়াতকে সঙ্গে নিয়ে জাতীয় ঐক্যফ্রন্ট গঠন অনিচ্ছাকৃত ভুলত্রুটি কি না এবং জামায়াত ছেড়ে ঐক্যফ্রন্টে আসতে বিএনপিকে চাপ দেওয়া হবে কি নাÑ সে প্রসঙ্গে দৃষ্টি আকর্ষণ করলে ড. কামাল হোসেন বলেন, আমি তো মনে করি, জামায়াতকে ছেড়ে আসতে বিএনপিকে চাপ দেওয়া হতে পারে। বিএনপির সঙ্গে জামায়াত থাকলে ভবিষ্যতে জাতীয় ঐক্যফ্রন্টে আপনারা থাকবেন কি নাÑ এ প্রশ্নে তিনি বলেন, আমি পরিষ্কার ভাষায় বলতে চাই, জামায়াতকে নিয়ে কোনো রাজনীতি করব না আমরা। অবিলম্বে জামায়াতের বিষয়ে বিএনপির কাছ থেকে আমরা সুরাহা চাই।
জাতীয় নির্বাচনের প্রসঙ্গ টেনে কামাল হোসেন বলেন, দেশের মানুষের মধ্যে মৌলিক বিষয়ে কিন্তু ঐকমত্য আসেনি। একটা সুষ্ঠু নির্বাচনের মাধ্যমে দেশের সংসদ গঠিত হোক, এটা নিয়ে কোনো দ্বিমত নেই। কিন্তু ৩০ ডিসেম্বর যা ঘটেছে সেটা তো আপনারা সংবাদমাধ্যমে পাচ্ছেন। ‘দেশের স্বার্থে সংবিধানের প্রতি শ্রদ্ধা রেখে সরকার সিদ্ধান্ত নিতে চাইলে সেটা পারে’Ñ দাবি করে তিনি বলেন, তারা চাইলে দু-তিন মাস বা তার চেয়ে কম সময়ের মধ্যে একটা নির্বাচন করা যেতে পারে। এ সময় তিনি জানান, আগামী ২৩ এবং ২৪ মার্চ ঢাকায় গণফোরামের জাতীয় কাউন্সিল অনুষ্ঠিত হবে।
সরকারের উদ্দেশে ড. কামাল বলেন, আপনারা যদি মনে করেন, আপনাদের ওপর মানুষের আস্থা আছে সেটা প্রমাণ হোক একটা সুষ্ঠু নির্বাচনের মাধ্যমে। যাতে প্রমাণ হয় সব মানুষ যেতে পেরেছে, লাইনে যারা দাঁড়িয়েছে তারা ভোট দিতে পেরেছে। আমাদের তো অনেকগুলো লাইন দেখানো হয়েছে, অনেকে লাইনে দাঁড়িয়েছে, কিন্তু ভোটের সময় বলা হয়েছে, আপনারটা যা করার হয়ে গেছে, আপনাদের আর কাজ নেই। তিনি বলেন, সরকারকে বলব বিতর্ক না বাড়িয়ে একটা সমাধান করা হোক। গণতন্ত্রের ব্যাপারে, সংবিধানের ব্যাপারে, অবাধ-নিরপেক্ষ নির্বাচনের ব্যাপারে আমাদের মধ্যে ঐক্য আছে। যেখানে এতগুলো মৌলিক ব্যাপারে ঐকমত্য আছে, সেখানে সরকারকে এটার প্রতি শ্রদ্ধা রেখেই কিন্তু সুযোগ দেওয়া উচিত যাতে সবাই অংশগ্রহণ করতে পারে।
সভায় অন্যান্যের মধ্যে অংশ নেন গণফোরামের নির্বাহী সভাপতি অ্যাডভোকেট সুব্রত চৌধুরী, সাধারণ সম্পাদক মোস্তফা মহসিন মন্টুসহ দলটির বিভিন্ন পর্যায়ের নেতারা।
