২০০ বছরের ক্যালেন্ডার বিস্ময় বালক চুয়াডাঙ্গার তাইফ

আপডেট : ১৩ জানুয়ারি ২০১৯, ০৫:২৬ পিএম

কিশোর তাইফ আহম্মেদের (১৭) অসাধারণ ক্ষমতা ও প্রতিভার কথা অনেকেই জানেন। সম্প্রতি চুয়াডাঙ্গার আলমডাঙ্গার ডাউকি গ্রামে ঢুকে তাইফ সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করতেই এক গ্রামবাসী একবারেই চিনিয়ে দেয় ওদের বাড়ি।

তার বাড়িতে প্রবেশ করে চোখে পড়ে তার অস্বাভাবিক আচরণ। কেউ ডাকলে উত্তর দেয় না, মাটিতে সারাক্ষণ লেখালেখি আর ছবি আঁকা। কে এলো কে গেল সেদিকে খেয়াল নেই। যখন ইচ্ছা হয় তখন কথা বলে। আগেই জানা ছিল এ কিশোর বুদ্ধি প্রতিবন্ধী; এ কারণে সে সরকারি ভাতাও পায়। তার বুদ্ধি প্রতিবন্ধিতা সত্ত্বেও এমন প্রতিভায় সবাই বিস্মিত। যার নেই কোন প্রাতিষ্ঠানিক শিক্ষা। কী বিস্ময়কর প্রতিভার অধিকারী সে? যে কিনা পৃথিবীর সব রাষ্ট্র, রাষ্ট্রের রাজধানীসহ রাষ্ট্রপ্রধানদের নাম মুহূর্তে বলে দিতে পারে! শুধু তাই নয়, ২০০ বছরের মধ্যে সাল ও তারিখ বললে সেই দিন কী বার ছিলো তাও বলে দিতে পারে অনায়াসে। এ কিশোরকে এলাকার লোকজন আদর করে তাই নাম দিয়েছে জীবন্ত ক্যালেন্ডার।

উপজেলার প্রত্যন্ত এলাকার ওই গ্রামের আশরাফ আলী ও আছমা আহম্মেদ দম্পতির তিন ছেলে মেয়ের মধ্যে বড় তাইফ আহম্মেদ। তার বয়স যখন ৫ বছর তখন থেকে তাইফের এমন প্রতিভার বিষয়টি নজরে আসে পরিবারের।

তাইফের মা আছমা আহম্মেদ জানান, বুদ্ধি প্রতিবন্ধী হওয়ায় স্কুলে যাওয়ার সুযোগ হয়নি ছেলের। কিন্তু তার পরও বাড়ির আঙিনায় আপন মনে খড়কুটা দিয়ে অ, আ, ক, খ লিখতো তাইফ।

কথা হয় তাইফের সঙ্গে। তাকে প্রশ্ন করা হয় কীভাবে পৃথিবীর সব দেশ ও রাষ্ট্র প্রধানদের নাম ও ২০০ বছরের মধ্যে বারের নাম বলার সক্ষমতা অর্জন করলে? উত্তরে সে অগোছালোভাবে বলে, তার নিজের তৈরি সূত্র থেকে বলতে পারে। এর বেশি কিছুই জানে না সে। তাকে কয়েকটি দেশের নাম, সেসব দেশের রাজধানী ও রাষ্ট্রপ্রধানের নাম জিজ্ঞাসা করলে সে মুহূর্তেই সঠিক উত্তর দিয়ে দেয়। একইভাবে ২০০ বছরের মধ্যে বেশ কয়েকটি বছরের তারিখ বলতেই ওই দিন কী বার ছিল তাও ঝটপট বলে দেয় তাইফ।

তাইফের বাবা আশরাফ আলীর কথা অবশ্য ভিন্ন। সন্তানকে প্রতিবন্ধী মানতে নারাজ তিনি। বললেন, তার এ প্রতিভা রাষ্ট্রীয়ভাবে কাজে লাগানো গেলে হয়তো দেশ উপকৃত হবে।

ডাউকী ইউপির চেয়ারম্যান লুৎফর রহমান বলেন, ‘বিস্ময় বালক’ তাইফ আমাদের চুয়াডাঙ্গার গর্ব। বুদ্ধি প্রতিবন্ধী এই কিশোরের প্রতিবন্ধী ভাতার ব্যবস্থা তিনি করেছেন বলে জানান লুৎফর রহমান।

আলমডাঙ্গা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) রাহাত মান্নান বলেন, ‘আলমডাঙ্গায় যোগদানের পর তাইফের বিরল প্রতিভার কথা জানতে পারি। তার প্রতিভার খবর উপজেলাজুড়েই। একদিন তাকে আমার অফিসে এনেও কথা বলেছি। আমি বিস্মিত ওই বালকের প্রতিভায়।’

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত