শেষ তিন ওভারে দরকার ছিল ৩৮ রান। আগুনে ব্যাটিংয়ে হিসাবটা সহজ বানিয়ে দেন মুশফিকুর রহিম। অনায়াসে গন্তব্যে পৌঁছায় চিটাগং ভাইকিংস। কুমিল্লা ভিক্টোরিয়ান্সের বেধে দেওয়া বিশাল টার্গেট টপকে দলটি ভেসেছে রোমাঞ্চকর এক জয়ের আনন্দে।
মিরপুর স্টেডিয়ামে রোববার বিপিএলের দ্বিতীয় ম্যাচে ইমরুল কায়েসের কুমিল্লাকে ৪ উইকেটে হারায় চিটাগং। এই জয়ে পয়েন্ট টেবিলেও উন্নতি হয়েছে দলটির। চার ম্যাচে তিন জয়ে ৬ পয়েন্ট নিয়ে দুই নম্বরে ওঠে এসেছে তারা।
১৮৫ রানের লক্ষ্যে ব্যাট করতে নেমে দুই বল হাতে রেখেই ৪ উইকেটে ১৮৬ রান করে চিটাগং। ওপেনিং জুটিতে দলকে দুর্দান্ত শুরু এনে দেন মোহাম্মদ শাহজাদ ও ক্যামেরুন ডেলপোর্ট। ৮৫ রানের এই জুটিতে ফাটল ধরান মোহাম্মদ সাইফউদ্দিন। ১১ বলে ১৩ করা ডেলপোর্টকে মিডঅফে তামিম ইকবালের ক্যাচে পরিণত করেন বাংলাদেশের এই পেসার।
দুই ম্যাচ পর রানে ফিরেছেন আফগানিস্তানের উইকেটরক্ষক-ব্যাটসম্যান শাহজাদ। তাকে বেশিক্ষণ সঙ্গ দিতে পারেননি ইয়াসির আলি। দলীয় ৬৪ রানে থিসারা পেরেরার বলে এলবিডব্লিউর শিকার হন টপ-অর্ডার এই ব্যাটসম্যান।
৬ রান পরেই থামে শাহজাদ ঝড়। শহীদ আফ্রিদির বলে ক্রস ব্যাটে খেলতে গিয়ে উইকেট ছাড়া হন ডানহাতি এই ব্যাটসম্যান। এর আগে ২৭ বলে ছয় চার ও দুই ছক্কায় ৪৬ রানের ইনিংস খেলেন তিনি।
দলকে জয়ের পথে রেখেছেন চার নম্বরে ব্যাট করতে নামা মুশফিক। নাজিবুল্লাহ জাদরানের সঙ্গে ৪৭, মোসাদ্দেক হোসেনের সঙ্গে ৪৪ রান ও রবি ফ্রাইলিঙ্কের সঙ্গে ১৭ রানের জুটি গড়ে ফিরেন বাংলাদেশ দলের অন্যতম সেরা এই সদস্য।
সাইফউদ্দিনের করা ১৯তম ওভারের শেষ বলে লং-অনে তামিমের হাতে ধরা পড়ার আগে করেন ৭৫ রান। তার ৪১ বলের ইনিংসটিতে রয়েছে সাত চার ও চার ছক্কা। পাঁচ বলে ৯ রানে অপরাজিত থাকেন ফ্রাইলিঙ্ক।
কুমিল্লার বোলারদের মধ্যে চার ওভারে ৪৫ রানে তিন উইকেট নিয়েছে সাইফউদ্দিন। একটি করে উইকেট নেন মেহেদি হাসান, আফ্রিদি ও পেরেরা।
এর আগে ২০ ওভারে ৫ উইকেটে ১৮৪ রানের সংগ্রহ পায় টসে হেরে ব্যাট করতে নামা কুমিল্লা। ইমরুলদের শুরুটা ছিল খুবই বাজে। ইনিংসের প্রথম ওভারেই ওপেনার তামিম ইকবালকে হারায় তারা।
শুরুর ধাক্কাটা কাটিয়ে তোলার চেষ্টা করেন অপর ওপেনার এভিন লুইস। কিন্তু দ্বিতীয় উইকেট জুটিতে তাকে বেশিক্ষণ সঙ্গ দিতে পারেননি এনামুল হক (১০)। দলীয় ২১ রানে এই উইকেটরক্ষক-ব্যাটসম্যান আবু জায়েদের বলে ফ্রাইলিঙ্কের হাতে ক্যাচ দিলে দ্বিতীয় উইকেট হারায় কুমিল্লা।
তৃতীয় উইকেটে অনেকটা ঘুরে দাঁড়ায় সাবেক চ্যাম্পিয়নরা। অধিনায়ক ইমরুলের সঙ্গে ৫৪ রানের জুটি গড়েন লুইস। কিন্তু একাদশ ওভার শেষে বড় ধাক্কা খায় কুমিল্লা। পায়ে চোট পেয়ে মাঠ ছাড়েন ৩৪ বলে ছয় চারে ৩৮ করা ক্যারিবিয়ান লুইস।
খালেদ আহমেদের করা পরের ওভারের প্রথম বলেই উইকেট ছাড়া হন ২০ বলে ২৪ রান করা ইমরুল। কুমিল্লার সংগ্রহ তখন ৩ উইকেটে ৭৫। একই ওভারের পঞ্চম বলে উইকেট ছাড়া হন লিয়াম ডসন।
টিকতে পারেননি আফ্রিদিও। চতুদর্শ ওভারে খালেদকে খেলতে গিয়ে স্টাম্পে লাগে তার ব্যাট। ষষ্ঠ উইকেট জুটিতে আর উইকেট পড়তে দেননি সাইফউদ্দিন ও পেরেরা। ৪০ বলে ৯৬ রানের জুটি গড়েন তারা।
২৬ বলে তিন চার ও ৮ ছক্কায় ৭৪ রানে অপরাজিত থাকেন পেরেরা। ১৯ বলে দুই চার ও এক ছক্কায় ২৬ রান করেন সাইফউদ্দিন।
চিটাগংয়ের বোলারদের মধ্যে চার ওভারে ৩৪ রানের খরচায় তিন উইকেট নেন খালেদ। একটি করে উইকেট নেন ফ্রাইলিঙ্ক ও আবু জায়েদ।
ম্যাচ সেরা হয়েছেন মুশফিক।
